ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনায় ভালো নেই টিউশন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২০ শুক্রবার, ০৮:৫৮ এএম
করোনায় ভালো নেই টিউশন শিক্ষার্থীরা

দুটি টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতাম। ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা মিলিয়ে সংসারের খরচ বেড়েছে। কিন্তু হঠাৎই মাথায় বজ্রপাতের মতো করোনার ছুটি এলো। বন্ধ হয়ে গেল সব। শহরে মেসে ভাড়ায় থাকতাম। ভাইরাসের চিন্তা না, টিউশনি ছাড়া দুবেলা ভাত জুটানোই আমাদের বড় চিন্তা। করোনার সময়ে টিউশন না থাকায় এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথাগুলো বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র সৈকত। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বাবা ২ বছর আগে মারা যাওয়ার পর মায়ের দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। পৈত্রিক সূত্রে ৯ শতক জমি পেয়েছেন। আর মায়ের মিলে ১৮ শতক জমি চাষাবাদ করেন। টিউশনি করে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির খরচও চালান। এখন সব বন্ধ। মাকে নিয়ে কষ্টের আছেন তিনি। কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটাই ভাবছেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে পড়ুয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের পড়াশুনার খরচ থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া, হাত খরচ সবই চলে টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি করে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় তাদের এই উপার্জনের পথ। গত ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের পাবলিক-প্রাইভেট সকল বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। তবে এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীই আবার বাসা বা মেস ভাড়া করে থাকেন। সাধারণ ছুটিতে টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি করে আয় করে থাকে তারা। কিন্তু এই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থাকা-খাওয়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে উপার্জন না থাকায় খুব অসহায় বোধ করছে তারা। সেইসাথে জানান স্বাভাবিক হলেও যেসব বাসায় পড়াতেন। সেসব বাসায় আবার যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এমন অনেক শিক্ষার্থী এই সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে খুবই উপকৃত হবেন তারা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যারা টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালায় এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে পারে এবং সাহায্য করতে পারে।