ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উপাচার্য ছাড়াই চলছে উচ্চ শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০১:০০ পিএম
উপাচার্য ছাড়াই চলছে উচ্চ শিক্ষা

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার মান নিয়ে তর্ক-বিতর্ক দীর্ঘ দিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের টাইমস হায়ার এডুকেশন। প্রতিষ্ঠানটির করা তালিকায় আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত বা পাকিস্তানের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকলেও, বাংলাদেশ এদিক থেকে হতাশ। এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে আসলেও, তা যেন অনেকটাই কোন রকমে টিকে থাকার মতো। ফলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্পন্ন বা গুণগত শিক্ষা দিতে পারছে কিনা- এই প্রশ্ন যেন নতুন করে তুলে ধরল।

বর্তমানে দেশে স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৬ টি। সেইসাথে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও ১০০ টির উপরে। অবশ্য এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়নি। জানা যায়, সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্যের পদ শূন্য। আর এর মধ্যে উপাচার্য ছাড়া কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তিনটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়াদও শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে, সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও চলছে ঢিমে তালে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ জানান, স্কুল বা কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পার্থক্য অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হল জুনিয়র স্কলার আর শিক্ষকরা সিনিয়র স্কলার হিসেবে কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চ শিক্ষার কাজ হল প্রশ্ন তোলা এবং জ্ঞান উৎপাদন করা। আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সঠিকভাবে পরিচালনার কাজে উপাচার্যের গুরুত্ব অনেক। উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজ নিয়ে ভাবাই যায় না। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সকল কাজই হয় উপাচার্যের মাধ্যমে। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমিটি থেকে শুরু করে, সিন্ডিকেট, ছাত্র সংসদ কিংবা বিভিন্ন বডি বা কমিটির কাজও উপাচার্যকে নিয়ে। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব বা কাজ সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করে থাকে। মোট কথা, একটি বিশ্ববিদ্যালয় আবর্তিত হয় উপাচার্যকে কেন্দ্র করে। উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজই স্থবির হয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপাচার্য ছাড়াও কোষাধ্যক্ষসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদও ফাঁকা রয়েছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এই সমস্ত পদ শূন্য রেখে শুধু অবকাঠামো দিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তারা জানান, গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার সবসময় গবেষণার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু উপাচার্য ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার কথা তো ভাবাই যায় না।