ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নতুন করে আন্দোলনের পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২১ রবিবার, ০৪:৫৯ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নতুন করে আন্দোলনের পদক্ষেপ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে গত বছরের ১৭ মার্চ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দেশের সবকিছু অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও আর খোলা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফায় সেই বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কয়েক দফা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, সরকার করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক না হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলের টিকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে চায় না। ইতোমধ্যে সরকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকবারই মানববন্ধন, আন্দোলন সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সময় বড় ধরণের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। যদিও পরবর্তীতে তা বাস্তব রূপ পায়নি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে অসমাপ্ত পরীক্ষা আছে তা নিতে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে তৎপর নয়। কিন্তু এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ইস্যুতে তৎপর সুশীল সমাজের একাংশ। গতকাল শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী-অভিভাবক ফোরামের’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম ও হুশিয়ারি দেন বক্তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না হলে জুলাইয়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ওই মানববন্ধনে।

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল মিলন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডাকসুর সাবেক এপিএস নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষক-অভিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া সহ আরও অনেকেই।

ওই মানববন্ধনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আর সময় দেওয়া যাবে না। এক সপ্তাহই যথেষ্ট। আমরা শাহবাগের মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করব। হাঁট-বাজার, ব্যাংক, অফিস-আদালত সব কিছু খোলা, শুধু বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজকে পরীক্ষা নিচ্ছেন না, অটোপাস দিচ্ছেন, এটা জঘন্য ভুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে দিচ্ছে।

মানবন্ধনের সকল বক্তাদের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নতুন করে আন্দোলনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ইস্যুতে যদি নতুন করে এই আন্দোলন হয় তাহলে সরকার তা কীভাবে মোকাবেলা করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।