ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কক্সবাজার কি রোহিঙ্গাদের ছেড়ে দেয়া হবে?

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০৯ এএম
কক্সবাজার কি রোহিঙ্গাদের ছেড়ে দেয়া হবে?

চমৎকার একটা খবর পড়েছি। কবিতার মত এই খবরের রঙ, রূপ, গন্ধ, ছন্দ, তাল, লয় আর কথায় খুউব যক্তিক আঁটসাঁট গাঁথুনি, গাঁয়ের আলপথে হেঁটে চলা সুন্দরী ললনা বা গাঁয়ের বাঁশিওয়ালা রাখাল যুবকের মতো।  অবলিলায় বলে যাওয়া কথা শুনে খুব মজা পেয়েছেন অনেকেই, যারা বাংলাদেশের তথাকথিত মঙ্গলে খুব বেচায়েন, তাদের মূল্যবান জীবন কোরবান করতে চান। উনারা তো তাধেই তাধেই করে নাচছেন। 

কক্সবাজারে শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এর পরিবর্তে কক্সবাজারেই নিরাপদ কোনো জায়গায় রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৬ই আগস্ট ২০১৮ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানানো হয়।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে নানাভাবে তাদের কথার যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁরা আর বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শরণার্থী শিবিরে জনপ্রতি স্থানের সংকুলান হওয়া উচিত ৪৫ বর্গমিটার। কিন্তু কক্সবাজারের শিবিরে মাথাপিছু জায়গার পরিমাণ মাত্র ১০ দশমিক ৭ বর্গমিটার।
‘বাংলাদেশ আমার দেশ নয়: মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা’ শীর্ষক ৬৮ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর না করার আহ্বান জানিয়ে এইচআরডব্লিউ বলেছে, জোয়ারের সময় এই এলাকা নিয়মিত প্লাবিত হয় বলে যে গুঞ্জন রোহিঙ্গারা শুনেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সেখানে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাও পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না। তার ওপর ভাসানচরের ভেতরে-বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জেরে সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। তাদের আশ্রয় দেওয়া হয় কক্সবাজারের শিবিরে। এই শিবিরে আগে থেকেই আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়।
‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শরণার্থী শিবিরে জনপ্রতি স্থানের সংকুলান হওয়া উচিত ৪৫ বর্গমিটার’, ‘সাত লাখ’ আগের ‘তিন লাখ’ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে এই কথাগুলো মনে রাখা খুব জরুরী। মানে দাঁড়ালো তাদের হিসেবেই দশ (১০) লাখ রোহিঙ্গা আছে বাংলাদেশে (বাস্তবে অনেক বেশী) তাদের দিতে হবে জনপ্রতি ৫৪ বর্গমিটার গুন ১০লাখ সমান দাঁড়ায় ৪৫ লাখ বর্গমিটার, বা ১,১১১ একর জায়গা। মানে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ১,১১১ একর জমিতে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে হবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে কক্স বাজার জেলার মোট আয়তন বা জমির পরিমাণ হচ্ছে ১,৬৯৩ একর এর মধ্যে আছে পাহাড় বা টিলা, খাল নদী নালা ইত্যাদি। দাবীটা খুব মজার দাবী।               
কক্সবাজারে আছে দীর্ঘতম সী বিচ। যাতে আছে অসম্ভব সব দামী দামী মিনারেল, সিলিকন, ইত্যাদি। সেগুলো আমরা এখনো আহরণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। এইগুলোর দিকে কী কারো নজর পড়েছে? তা না হলে পুরো কক্সবাজার কেন রহিঙ্গাদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব আসছে! অন্য দিকে আমাদের বঙ্গোপসাগরের সীমান বেড়েছে বিনা যুদ্ধে, যেটা ওয়ার্ম ওয়াটার অঞ্চল। এসব অঞ্চলে সিংগাপুরের মতো গভীর সমুদ্র বন্দর করা যাবে প্রায় হাফ ডজন। 

ফলে ভারত, মিয়ানমার, চীনসহ আশে পাশের অনেক দেশ এটা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। কারণ এই সমুদ্রবন্দর বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা চালু থাকতে পারবে আমাদের সমুদ্রউপকূল ওয়ার্ম ওয়াটারে হওয়ার কারণে। এখানেও কর্ম সংস্থান হবে দেশের বহু মানুষের। একটা গভীর সমুদ্র বন্দর অপারেশন করে সিঙ্গাপুর পৃথিবী অন্যতম ধনী দেশে রুপান্তরিত হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবন কত তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন আছে কি?  ২০১৬ সালের ৭ই জুন তারিখে The Diplomat এ Wade Shepard একটা খবর বেরিয়েছিল যে  চীন, জাপান আর ভারত বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর সঙ্গে কী রোহিঙ্গা ইস্যুর কোন সম্পর্ক আছে? রোহিঙ্গারা কি আর ফিরে যাবে?

উনারা কেন বলছেন না বিশ্বের যে সব দেশে বিস্তীর্ণ জায়গা আছে সেই দেশে তারা কেনো নিয়ে যেতে চাচ্ছেন না রোহিঙ্গাদের! ডক্টর জাফরুল্লাহ সাহেবের স্ত্রী সাহেবান ওখানে কী করছেন? কয়েকদিন পরে তারা কী আবার রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারী চাকরীতে কোটা দাবী করবেন? আবার আন্দোলন হবে! পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি বাঙ্গালীদের মত আরেকটি স্থায়ী ঝামেলার জন্ম দিতে চাচ্ছে কেউ বাংলাদেশে?   

লেখক: উন্নয়ন কর্মী ও কলামিস্ট 
তথ্যঋণঃ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া, ফেসবুক ও অন্যান্য

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ