ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেমন মানুষ শেখ হাসিনা?

সৈয়দ বোরহান কবীর
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
কেমন মানুষ শেখ হাসিনা?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান চরিত্রের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। ৪৭ বছর বয়সী এই দেশটায় ১৫ বছর তিনি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুই দফায় ১০ বছর তিনি ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। আগে যে নেতারা তাঁর মুখের উপর তর্ক জুড়ে দিত, এখন তাঁরা তাঁর সামনে কথা বলতেও ভয় পায়। অনেকেই বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়রন লেডি, লৌহমানবী। বিশেষ করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর তিনি কঠোর এবং সাহসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। অনেক রাজনীতিবিদই বলেছেন, শেখ হাসিনা এই বিচারের ব্যাপারে কঠোর না হলে বিচারই হতো না। শেখ হাসিনার কঠোরতার আরও উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন: জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান। এসব ব্যাপারে দয়ামায়ার লেশমাত্র দেখাননি শেখ হাসিনা।

এর উল্টো পিঠে আবার, মানবদরদি, মানবতার কাণ্ডারি হিসেবেও তাঁর খ্যাতি কম নয়। মানুষের দুঃখ তাঁকে কাঁদায়, উদ্বিগ্ন করে। গত একবছর থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভবত তাঁর হৃদয়ের কোমলতার সবথেকে বড় বিজ্ঞাপন। রাজনীতিবিদ থেকে কবি সাহিত্যিক, প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক- যে কারও দুর্দশায় পাশে দাঁড়ান শেখ হাসিনা। ন্যাপ নেতা মোজাফফর আহমেদের চিকিৎসার দায়িত্ব যেমন অবলীলায় তুলে নেন তাঁর কাঁধে, তেমনি যেকোনো দু:স্থ মানুষের জন্য সাহায্যের হাত উজাড় করে দেন।

শেখ হাসিনা কোনটা? কঠিন হৃদয়ের আয়রন লেডি? নাকি মানব দরদি মানবতার মা?

আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, দলের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন। তাঁর সামনে কোনো কথা বলার আগে দশবার ভাবেন। সিনিয়র নেতাদের কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি অবলীলায় বলে দেন। কান পাতলেই শোনা যায়, শেখ হাসিনা দলের নেতাদের পরামর্শ শোনেন না।

আবার শেখ হাসিনাকে অবলীলায় ফোন করেন প্রত্যন্ত গ্রামের নগণ্য কর্মী। শেখ হাসিনা তাঁর কথা শোনেন ধৈর্য্য ধরে। তাঁর পরামর্শ নোট নেন মনোযোগ দিয়ে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি গুরুত্বহীন তৃণমূলের কর্মীদের সম্মান দেন। তাঁদের আপ্যায়ন করেন।

শেখ হাসিনা কোনটা? কারও কথা না শুনে একক সিদ্ধান্ত চলা নেতা? নাকি তৃণমূলের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি?

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনা আদর্শের প্রশ্নে এক চুলও ছাড় দেন না। আদর্শহীন রাজনীতি, ভ্রষ্ট নীতির প্রকাশ্য সমালোচক তিনি। শেখ হাসিনা তাঁর রাজনীতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণবিরোধী রাজনীতির ঘোরতর বিরোধী। আবার তিনি, যাঁরা আওয়ামী লীগে পথভ্রষ্ট হয়েছিল, যাঁরা তাঁকে মাইনাস করতে আদাজল খেয়ে নেমেছিল, যাঁরা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মৃত্যু কামনা করেছিল, তাঁদের সঙ্গে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন, রাজনীতি করেন।

শেখ হাসিনা কেমন মানুষ? আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন? নাকি রাজনৈতিক সমঝোতার পাঁচমিশালি?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যেন এক খাপখোলা তলোয়ার। যা বিশ্বাস করেন, তা সোজাসাপ্টা বলে ফেলেন। কাউকে অপছন্দ করলে শেখ হাসিনার চেহারাতেই তা ফুটে ওঠে। একসময় মুখোশহীন এই মানুষটা অকপটে কথা বলার জন্য দলের মধ্যেই সমালোচিত হতেন। এখন অবশ্য তাঁর কথা মূল্যবান। তিনি স্পষ্টবাদী এক রাজনীতিবিদ।

আবার তিনিই নিজের ব্যাপারে অন্তর্মুখী। নিজের ভালোলাগা মন্দলাগা লুকিয়ে রাখেন। নিজের ক্লান্তি আড়াল করেন। নিজের বিষণ্ণতা ঢাকেন তুমুল ব্যস্ততায়। প্রায়ই নিজের অসুস্থতাও উপেক্ষা করেন। তাঁর সমস্যা, তাঁর একাকীত্ব তিনি কাউকে বুঝতে দেন না।

শেখ হাসিনা কেমন মানুষ, খাপখোলা তলোয়ার কিংবা খোলা কবিতা নাকি আড়াল করা এক দুর্বোধ্য মানুষ?

শেখ হাসিনা এরকমই বৈপরীত্য এবং বহুমাত্রিকতায় ভরা এক মানুষ। যিনি কাজপাগল আবার তুমুল আড্ডাবাজ। প্রচণ্ড বিচক্ষণ আবার উদাসীন।

এই বহুমাত্রিকতাই তাঁকে অনন্য করেছে।

২৮ সেপ্টেম্বর এই অনন্য মানুষটির জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ