ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নৈশভোজে চাচার মেন্যু আর আলোচনার টেবিলে দফার মেন্যু

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ১০:৩০ পিএম
নৈশভোজে চাচার মেন্যু আর আলোচনার টেবিলে দফার মেন্যু

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি আর সংলাপের আবহাওয়ায় রাজনীতির ঝিড়ঝিড়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি আর তার পরের দিনই দলের পদ থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ না থাকার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ সেই সুবাতাসে অস্বস্থির সৃষ্টি করেছে। আর আছে সাত দফা। আলোচনা হলো ,আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘‘চাচা কামাল হোসেন’’কে তার পছন্দের খাবারে আপ্যায়িত করলেন কিন্তু সাতদফার কোনো দফায় যদি সুরাহা না হয় তাহলে কি নির্বাচনে যোগ দিতে পারবে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট?

সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। বলা যায় তাৎক্ষণিকভাবেই তাতে সাড়া দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কামাল হোসেনের চিঠির জবাবে চিঠি দিয়ে সংলাপে ঐক্যফন্টের নেতাদের গনভবনে নৈশভোজের নিমন্ত্রণ দেয়ায় দেশের রাজনীতিতে এক স্বস্থির আবহাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর এখন শুধু ঐক্যফ্রন্ট নয় ,বিকল্পধারা এবং জাতীয় পার্টির সাথেও হবে সংলাপ। আর সংলাপের পাশাপাশি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার তোড়জোরও শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার। কাল বুধবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গনভবন যাচ্ছেন। এই প্রতিনিধিদলে বিএনপি ছাড়া তাদের পুরোনো ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের কোনো নেতা থাকছেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু ১৪ দলের শরিকদলের নেতাদের সাথে রাখছেন। এমনকি ১৪ দলের দুই জাসদের দুই নেতাও থাকবেন। কিন্তু বিএনপিকে গনভবনে যেতে হবে ২০ দলীয়জোটের শরিক নেতাদের ছাড়াই।

আগের দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে  বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বেড়ে ১০ বছর হওয়ায় একটু হোচট খেয়েছে বিএনপি।আর বুধবার হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। একজন আইনজীবির রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে দেয়া আদেশে হাইকোর্ট বলেছে আদালতে রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশোধিত গঠনতন্ত্র বিবেচনায় নেয়া যাবে না। বিএনপির গঠনতন্ত্রের সাত নম্বর ধারায় ছিল দুর্নীতি পরায়ন কোনো ব্যাক্তি বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। গত ২৮ জানুয়ারি এই ধারা সংশোধন সম্বলিত নতুন গঠনতন্ত্র জমা দিয়ে বিএনপি জানিয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চের জাতীয় কাউন্সিলে এটি সংশোধন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের ঠিক আগের দিন উচ্চআদালতের এমন আদেশ বেকায়দায় ফেলেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের।

একটু অস্বস্থির মধ্যেই বিএনপি নেতাদের গনভবনে গিয়ে বসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তাদের আরেক গলার কাটা সাত দফা দাবি। কারন আলোচনা চেয়ে কামাল হোসেন ও তাতে সম্মতি দিয়ে যে চিঠি চালাচালি হয়েছে তাতে সাতদফার কোনো উল্লেখ নাই। সাতদফার প্রথম দফাতেই আছে ‘‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।’’ এই দফা মানা কঠিন তবে সাত দফার দ্বিতীয় দফা কিন্তু বিবেচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ।সাত দফার দ্বিতীয় দফা নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন ও ইভিএম ব্যবহার না করা। নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অংশ নিতে রাজী করানোর জন্য এই দফাটি কিন্তু বিবেচনায় নিতেই পারেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধন সরকার করে দিয়েছে। সাত দফার তিন সম্বর দফাটি হচ্ছে গনমাধ্যমসহ রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের সমান সুযোগ দিয়ে নির্বাচনের লেভের প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা।এটি মানা খুবই সহজ। কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে বলেই প্রধানমন্ত্রী জানাতে পারবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের।নির্বাচনের আগে-পরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েনের ৫নং দফা একটু র্স্পশকাতর। এ ব্যাপারে আলোচনা এবং কোনো সিদ্ধান্ত হয় কিনা সেটা দেখা জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। নির্বাচনের সময় দেশি-বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি অবশ্য নির্বাচন কমিশন দেবে। তবে এটাতে সরকারের আপত্তি করার মত কিছু আছে বলে মনে হয়না। অতীতে যখন পর্যবেক্ষণ ছিল,আগামী নির্বাচনেও তা হতেই পারে। ঐক্যফ্রন্টের সবশেষ দাবি হচ্ছে নির্বাচনের  তফসিল ঘোষণা থেকে ফরাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন মামলা না দেয়া। তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে,তখন কি রাজনৈতিকভাবে মামলা দায়েরের কোনো সুযোগ থাকবে? তবে চলমান মামলাগুলো স্থগিত হবে কিভাবে ?

আসলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে সুবাতাসের পাশাপাশি কিছুটা টেনশন থাকবে । শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতাদের গনভবন গমন এবং চাচার পছন্দের মেনুতে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আপ্যায়ন করার জন্য ১ নভেম্বর রাত পর্যন্ততো অপেক্ষা করতেই হবে। আসলে মূল অপেক্ষা হচ্ছে একটি সুষ্ঠ গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের।