ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইতিবাচক রাজনীতির পথে সংলাপ

আশিস সৈকত
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:৩০ এএম
ইতিবাচক রাজনীতির পথে সংলাপ

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সাথে আলোচনায় বসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, “গণভবন জনগণের ভবন, এখানে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি, আজকে অনুষ্ঠানে যে আপনারা এসেছেন। অআর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক শেষ করেছেন এই বলে যে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য সরকার সব কিছু করবে। ইভিএম সরকার সীমিত ভাবে ব্যবহার করবে। কোন রাজনৈতিক মামলা থাকলে তা প্রত্যাহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘন্টার বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় ড. কামাল হোসেন বলেছেন সংলাপ ভাল হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আরো আলোচনা হতে পারে। সংলাপ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।

এভাবেই গভীর রাতে শেষ হয় এই সংলাপ। ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ সফল হয়েছিল। এর পর অনেক সংলাপ হলেও এর বেশীরভাগই ব্যর্থ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের সংলাপ আবার সফলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বহুল আলোচিত সংলাপের শুরুতেই আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনকালের মূল্যায়ন করে দেখতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তোলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে অনেকটা আকস্মিকভাবেই রাজি হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

বৃহস্পতিবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি গণভবনে যান।

“আমি এটুকু বলতে পারি যে বাংলাদেশের জন্য আজকে আমরা যে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছি, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে বলে মনে করি। এছাড়া এই দেশটা আমাদের সকলের। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

প্রধানমন্ত্রীর এ সংলাপের পর কেউ কিন্তু হতাশা নিয়ে বের হননি। সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে তা কেউ বলেননি। এটি কিন্তু বাংলাদেশর বর্তমান রাজনীতির জন্য একটি শুভযাত্রা শুভক্ষন হতে পারে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি গুরুত্বপূর্ন হয়ে থাকবে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ