ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এ কোন রূপে প্রধানমন্ত্রী!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:০৭ পিএম
এ কোন রূপে প্রধানমন্ত্রী!

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার এ পর্যন্ত সংলাপ ও তাঁর পরবর্তী ঘটপঞ্জী পর পর সাজিয়ে দেখলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল্পনাতীত ভিন্ন এক রূপে ধরা দেন আমাদের সবার হৃদয়ে। তাঁর অকল্পনীয় মানবিক আচরণে রাজনৈতিক লড়াইয়ে আসা প্রতিপক্ষের শত্রুরাও মুগ্ধ হয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নোয়ান। বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশিত খবরের চম্বুক অংশ এক জায়গায় করলে আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শুধু প্রজ্ঞাবান দেশপ্রেমিক নয় তুখোড় বা টাফ নেগোসিয়েটর হিসেবে পায়, তাঁকে দেখি ভালোবাসায় চরম আকুলতায় উদ্বেলিত এক বোন, অসীম মমতাময়ী এক মা, এক চরম বৈরী পরিবেশের যুদ্ধক্ষেত্রেও তাঁর বেপথা ভাই বা ছেলেদের প্রতি নিজ দায়িত্ব ভুলে যান না। আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক কেন এই কথাগুলো বলছি আমরা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপে শেখ হাসিনা সবাইকে চমকে দিয়ে বলেন যে, ‘আমি পদত্যাগ করব। আপনারা এখানে যারা আছেন কেউ কি একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম বলতে পারবেন? খুঁজে পাবেন?’ এ সময় সবাই চুপ করে রইলেন। এ সময় ড. কামাল হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আবার বললেন, ‘একজনের নাম বলুন।’ সবাই মাথা নিচু করে রইলেন। কেউ কোনো উত্তর দিতে পারলেন না।   

মওদুদ ও আব্বাসকে সাহেবকে বললেন, আপনারা যে অনির্বাচিত সরকার চাচ্ছেন ১/১১ কথা ভুলে গেছেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে প্রথমেই আমানউল্লাহ আমানের অসুস্থ স্ত্রী ও ইকবাল মাহমুদের অবিবাহিত মেয়েকে যখন গ্রেপ্তার করে তখন আমিই প্রথম প্রতিবাদ করেছি। আপনারা তো অনেকেই তখন তাল মিলিয়ে চলেছেন। তখন দুজনই চুপ।

প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে আবার বললেন, ‘আপনিতো সংবিধান রচনা করেছেন। আপনি বলেছেন এই সংসদে ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত। প্রার্থী না থাকলে আমরা কি করব? আপনি নিজেওতো বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন কি আপনি পদত্যাগ করেছিলেন?’ কামাল খামোশ হয়ে গেলেন।   

এর পরে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের উত্থাপিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথায় প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এ মামলাতো আমরা করিনি ১/১১ সরকার করেছে। কোর্টের ফয়সালা কোর্ট করবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমার বিরুদ্ধেও ১৬ টি মামলা ছিল আমি তা কোর্টে ফয়সালা করেছি।’ এ কথায় জমিরউদ্দিন সরকারের একদম চুপ। 

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, বেগম খালেদাকে কারাগারে রেখে বিএনপির নির্বাচনে যাবার সুযোগ নেই। জবাবে শেখ হাসিনা বললেন, ‘এটি আপনাদের দলীয় বিষয়। আমরা চাই সবদলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।। ফখরুল সাহেবের মুখে আর রা নেই।   

প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ ও ফখরুল সাহেবকে বললেন, ‘আপনারা কোনটি রাজনৈতিক মামলা বলছেন, আমিতো কাউকে খুন করিনি। বরং বিএনপির আমলে তারেক রহমান ও সরকারের মন্ত্রীরা আমাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড মেরে হত্যা করতে চেয়েছিল। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মৃত্যুর সংবাদে ছুটে গিয়েছিলাম।কিন্তু আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সে সময় আপনি (মওদুদ আহমেদ) ছিলেন’।  সাথে সাথে মওদুদ বলেন, ‘আমি দোতালায় ছিলাম’। প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘তা হলে দোতালায় বসে নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাকে যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়।’ ব্যা ব্যা করে মওদুদ চুপ হয়ে গেলেন। 

ডা. জাফরউল্লাহ চুপ চাপ বসে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘সবাই তো কিছু বলছেন আপনি কিছু বলবেন না! আপনি কিছু বলুন’। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিন নোবেল পুরস্কার পাবেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে ৩১ একর জমি দিয়েছেন আপনিও ১৪ একর জমি দিয়েছেন। কিন্ত আপনার দেওয়া জমিটা এখনো দখলে পাই নি। আমার ক্যানসার হাসপাতাল উদ্বোধন এর জন্য আপনাকে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আব্বাও দিয়েছে আমিও দিয়েছি। অথচ টেলিভিশনে গিয়ে আমার আর সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আপনি সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন খালেদা জিয়া থাকলে জেলে যেতেন। আপনার ক্যানসার হাসপাতাল উদ্বোধন করতে পারব না। কারণ তাতে নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গ করা হবে।’ ডা. জাফরুল্লাহ মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজতে খুঁজতে মাথা নোয়ালেন।

গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার শেষ সংলাপে প্রধানমন্ত্রীকে রেখেই শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তবে এ ব্যাপারে তিনটি শর্ত দিয়েছে তারা যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

ঐক্যফ্রন্টের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চান, ‘৭২’র সংবিধানে কি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দেওয়ার বিধান আছে? সে সংবিধানের প্রণেতা তো আপনিই ছিলেন। ৭২’র সংবিধানে যদি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার বিধান না থাকে তাহলে এখন কীভাবে তা সম্ভব?’ ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে রীতিমতো নকআউট হন ড. কামাল হোসেন। অথচ কদিন আগেই তিনি বলেছিলেন ‘এক মিনিটেই’ তিনি সংকটের সমাধান দিতে পারবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পাঁচ প্রশ্নের একটিরও সদুত্তর দিতে পারেননি ড. কামাল। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নগুলো ছিল এরকম:

১. প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন সংবিধানের ১২৩ (ক) ধারার প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে। এখন সংসদ ভেঙে দেওয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা? সংসদ ভাঙতে পারে কেবল দুটি কারণে। প্রথমত, মেয়াদ অবসানের কারণে আর যদি সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এখন তো বর্তমান সংসদের কার্যক্রমই শেষ। আপনি তো সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আপনিই বলুন এখন সংবিধান ভাঙা যাবে কীভাবে?’

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট দাবি করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এই দাবির বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের কাছে জিজ্ঞেস করেন ‘আপনি তো ৭২ এর সংবিধানের প্রণেতা। ৭২ সংবিধানে কি সংসদ ভেঙে নির্বাচনের বিধান ছিল?’ এর জবাবে ড. কামাল ছিলেন নিশ্চুপ।

২. জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে দ্বিতীয় দাবি ছিল, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার। সংবিধানের ১২৩ (খ) প্রয়োগ করে, সংসদ ভাঙার ৯০ দিন পর নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আবার ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চান, সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সংসদ এখন নিষ্ক্রিয়। এখন কোনো সাংবিধানিক বিধানে সংসদ ভাঙা যায়?’ ড. কামাল এ প্রশ্নের উত্তরে মাথা নিচু করে থাকেন।

৩. জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তৃতীয় দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী থাকবে। কিন্তু ১০ সদস্যের একটি উপদেষ্টামণ্ডলী দেশ চালাবে। প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, এই উপদেষ্টামণ্ডলী কারা ঠিক করবে? উত্তরে ড. কামাল বলেন, আমরা সবাই মিলে ঠিক করবো। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চান, আমাদের সংবিধানে কোথায় আছে এরকম উপদেষ্টাদের দিয়ে দেশ চালানো যায়?এবারও নিরুত্তর ড. কামাল হোসেন।

৪. জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, বেগম জিয়াকে যেন নির্বাচনের আগে জামিন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চান, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ কি একজনকে আটক ব্যক্তিকে জামিন দিতে পারে?’ তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এটা কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে?’ এবারও ড. কামাল নিশ্চুপ থাকেন।

৫. সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে মোতায়েন করার কথা বলা হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের এই প্রস্তাবের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সামরিক স্বৈরাচারদের ভূত আপনার মাথায়  আসলো কীভাবে?  আপনিতো সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনেই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয় নাই। আমাদের সংবিধানের সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক কি না’ ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী এ প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন স্বীকার করেন যে, ‘হ্যাঁ, এটা আমাদের সংবিধানে নাই’। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমারা সেনাবাহিনীকে বহু কষ্টে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়েছি, এখন আপনারা সেনাবাহিনীকে আবার রাজনীতিতে কি উদ্দেশে জড়াতে চাচ্ছেন তা আমার বোধগম্য নয়’। প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি দেওয়া সংবিধানের পরিপন্থী কিনা? এবারও ড. কামাল মাথা নিচু করেন।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তির কাছে, প্রজ্ঞার কাছে এভাবেই ধরাশায়ী হন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন, ‘আপনারা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আমি সাধারণ মানুষ। আমাকে যুক্তি দিয়ে বোঝান, সংবিধানসম্মত সব দাবি আমি মেনে নেবো।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার প্রথম দফা সংলাপের পর গণভবনে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে সরকারকে ‘ছোটলোক’ বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা। ওই নেতাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেখলাম কেউ কেউ মিডিয়াতে আমাদের ছোটলোক বলেছেন। আমরা নাকি খাওয়ার ছবি তুলে প্রচার করি। আসলে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু সম্বন্ধে যাদের নূন্যতম জ্ঞান নেই তাঁরাই এ ধরনের নোংরা কথাবার্তা বলতে পারে। বঙ্গবন্ধু রাজনীতিতে তাঁর চরম বিরোধী মানুষকেও বাড়িতে ডেকে এনে আপ্যায়ন করতেন। আমি দেখেছি, আমরা যখন নিজে খেতাম না তখনও বাসায় কোনো অতিথি আসলে তাঁকে খাওয়ানো হতো। অতিথি যে দলেরই হোক না কেন তাঁকে খাওয়ানোর সংস্কৃতিটা বঙ্গবন্ধু চালু করেছিলেন। আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবার খাইয়ে প্রচার করার মতো নয়। যারা নতুন নতুন রাজনীতি করছে তাঁরা এই ইতিহাসগুলো জানে না। ড. কামাল হোসেন সাহেব জানেন এই ইতিহাসগুলো। তিনি যখন ঐক্যফ্রন্টের নেতা তখন উনার উচিত ছিল,এই বিষয়টি সবাইকে জানানো। আমরা চরম শত্রুকেও খাওয়াই এবং মানুষকে আপ্যায়ন করে আনন্দ পাই। নিজের আনন্দের জন্য আমরা মানুষকে আপ্যায়ন করি। কাজেই যাঁরা এ ধরনের কথাবার্তা বলেছে, তাঁরা মনে হয় আওয়ামী লীগের ইতিহাস, জাতির পিতার ইতিহাস জানে না।’

গণভবনে গত বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে কিছুটা অসুস্থ মনে হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন।

বিএনপি মহাসচিবকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনাকে এমন লাগছে কেন?’ ফখরুল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত অসুস্থ। হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছি।’ প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবেই জিজ্ঞেস করেন, ‘কোথায় চিকিৎসা করাচ্ছেন? চিকিৎসা কেমন চলছে’? উত্তর ফখরুল তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে কিছু তথ্য জানান। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না, আপনার চিকিৎসা তো ঠিকমতো হচ্ছে না। আপনার চিকিৎসা ঠিকমতো হওয়া দরকার। ঠিক আছে আপনি চিন্তা করবেন না, চিকিৎসার বিষয়টি আমি দেখবো।’

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে। এরপরও প্রধানমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যের বিষয়টি ভুলে যাননি। গতকাল রাতেই একান্ত ব্যক্তিগত একজন কর্মকর্তাকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়ে সব কাগজপত্র যোগাড় করতে বলেন তাঁকে।

যে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত বলে প্রমাণিত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছে, সেই বিএনপি মহাসচিবের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন উদগ্রীব হলেন!  

বিএনপি মহাসচিবের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদগ্রীব দেখে অনেকেরই বিস্মিত হন, ভাবেন, কী দিয়ে গড়া মানুষ আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কী মানুষ, না অন্য কিছু! কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে যাঁরা চেনেন তাঁরা মোটেই বিস্মিত হননি। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই। চরম শত্রুকেও তিনি আতিথেয়তা করতে ভোলেন না। চরম শত্রুরও স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর মানবতাবোধ, ঔদার্যতা, দরদি হৃদয়ে চরম শত্রুরও স্থান হয়। চরম শত্রুকেও মানবিক সহায়তায় কুণ্ঠিত নন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই অকুণ্ঠ ভালোবাসার জন্যই তো আজ তিনি পুরো বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার আসনে আসীন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ