ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনী মেঘ থমথমে কি?

তৈমুর মল্লিক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০২:৫৪ পিএম
নির্বাচনী মেঘ থমথমে কি?

কেউ কেউ মন্তব্য করতে গিয়ে বলেই ফেলছেন, নির্বাচনের দিন গণনা চলছে, অথচ লাশের কোনো খবর নেই। এটা কি বাংলাদেশের নির্বাচনী সময় চলছে নাকি অন্যকোনো গ্রহে আছি আমরা?

প্রশ্ন শুনে চমকে উঠেছি, এটাও ভেবেছি আসলেই কি ঠিক বলছে ওরা? 

একটা একটা করে যদি পয়েন্ট বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে কি দ্রুত কোনো লাশের মিছিলের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা? 

স্পষ্টতই সেরকম কিছু ইঙ্গিত কি আসলেই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে চারপাশে? 

সরকার এবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে সেরকম প্রতিশ্রুতি দিয়েই মাঠে নেমেছিল।  তারা চাইছিল সকল দল নির্বাচনে অংশ নিক।  কিন্তু প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক কিছু আগে বেশ নড়েচড়ে বসে ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি। 

এরপর একদিকে সংলাপ, অন্যদিকে গরম গরম ভাষণ দিয়ে তারা কি সত্যি নির্বাচনের জন্য নিজেদের তৈরি করেছে? 

বিএনপি বাদ দিলে ঐক্যজোট একটি নাম নখ দন্ত বিহীন জোট মাত্র। সেই বিএনপি তারেক রহমান, খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবে সেটা কি সত্যিই বিশ্বাস করার মতো বিষয়?  কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে তারা বলেছে নির্বাচনে যাবে। সেই ধারাবাহিকতায় তারা নমিনেশন পেপার বণ্টন করেছে। সারাদেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীর বড় ধরনের সমাবেশ রয়েছে ঢাকার অভ্যন্তরে।  যদি সেটা নির্বাচনে যাবার জন্য হয় তবে নিঃসন্দেহে সুখের বিষয়। 

বিএনপির প্রায় জন্মলগ্ন থেকে জামাতে ইসলামি তাদের সাথে মিশে আছে। জামাতের অর্থ, জামাতের অস্ত্র, জামাতের লাঠিয়াল বাহিনী এক কথায় জামাতের সাপোর্ট নিয়ে বিএনপি এতদিন রাজনীতির মাঠে রয়েছে। 

সেই জামাতের এখন নিবন্ধন নেই, অপরদিকে জামাতের নেতাগণের দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে দোষী হয়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। অথচ জামাতের দৃশ্যমান কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? 

প্রথমে ড. কামাল পরে ডা. বি চৌধুরী বলেই ছিলেন ঐক্যজোটে বিএনপিকে আসতে হলে জামাত বাদ দিয়েই আসতে হবে। ড. কামাল কোন এক দৈব ইশারায় সেই অবস্থান থেকে সরে এলেও ডা. বি চৌধুরী সেই অবস্থান ধরে রেখেছেন। ফলাফলে তার অবস্থান ঐক্যজোটে হয়নি।  অথচ ডা.বি চৌধুরী ছিলেন ঐক্যজোটের বিশিষ্ট সংগঠক। 

তারপরেই অনেকটা আকস্মিক ভাবে জামাতের পদচারণা চলে যায় লোক চক্ষুর অন্তরালে।  কিন্তু কেন?  তাদের কি চুপ থাকার কথা?  নাকি তাদের চুপ থাকার মতো ধৈর্য এর পূর্বে দেখেছে কেউ?  তাহলে কোথায় তারা?

খালেদা জিয়ার জন্য ৩ টি নমিনেশন পেপার উঠালেও তার নির্বাচনের জন্য নমিনেশন পেপার এখনও জমা পড়েনি।  এর পিছনেও কি কোন বিশেষ কারণ আছে? নিশ্চিত ভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নেতাগণ খালেদাজিয়ার সাথে দেখা করে নির্দেশ নিয়ে এসেছেন। অনেকটাই পরিষ্কার যে, সেই ধরণের আদেশ প্রাপ্ত হয়েই ঐক্যফ্রন্ট আরেকদফা নির্বাচন পিছানোর জন্য ইসিতে গমন করবে। 

তারা বলছে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি তাদের নেই নির্বাচনে যাবার জন্য।  কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে যে সময় পার হয়ে গেলো, তার সঠিক ব্যাখ্যা কি কেউ জানে? 

তাদের অনেক সমর্থক বলছেন, এতদিন বিএনপি মাঠে দাঁড়ানোর কোন সুযোগ পায়নি, তার মানে তারা বলতে চাইছে এখন তারা মাঠে দাঁড়াতে পারছে।  আর তাই তাদের স্থিতিশীলতার জন্য ১ মাস সময় চাই। 

প্রশ্ন হলো, এই ১ মাস কেন? সেটাকি নির্বাচনে যাবার জন্য নাকি নির্বাচল বানচাল করার জন্য? 

যদি নির্বাচনে যাবার জন্য হয়, তাহলে বিএনপির সেই নির্বাচনে তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়া থাকবে না এমন নির্দেশনা কি খালেদা জিয়া দিয়েছে?  নাকি দেওয়ার কথা?  তারপরেও যদি বিএনপি নির্বাচনে যায় সেটা কি সারাদেশে তাদের নেতাকর্মী সমর্থন করবেন? 

তাহলে কি এমন ধারণা জন্ম নেয়া অস্বাভাবিক যে, এগিয়ে আসছে কোন রক্তক্ষয়ী সময়? যে সময়ের হাত ধরে যে কোন মূল্যে তারা শপথ নেবে তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি?  তাই যদি হয় তাহলে কি আবার টার্গেট শেখ হাসিনা?  কারণ তিনি তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন সংলাপে। তিনি আইন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে সকলকেই অবগত করেছেন।

তাহলে কোন উপায় তারা ভেবে রেখেছে শেখ হাসিনা কে সরিয়ে দেবার?  সেটা কি নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি অন্য কোন উপায়ে? 

বিশ্লেষণে যেটা আসে, সেখানে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না, যেতে পারবে না। অন্তত যে কোন একজন তাদের চাই।  অন্যথায় বর্তমান যে সকল নেতা বিএনপির কর্ণধার তাদেরকেই তাদের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হতে পারে। 

তাহলে নমিনেশন পেপার বিক্রয়, নির্বাচন সময় পিছিয়ে দেয়া, ইত্যাদি বলার কারণ কি? 

নমিনেশন ক্রয়ের নামে বহিরাগত সমাগম, নির্বাচন পিছানোর নামে বিপদজনক প্রস্তুতি সম্পন্ন নয়তো? 

সাম্প্রতিক সময়ে একটি গণ পরিবহণ "পাঠাও" সম্পর্কে বিভিন্ন কথা চারদিকে শোনা যাচ্ছে। পাঠাও এ ব্যবহৃত মটর বাইকের চালকের বর্তমান গতিবিধি অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।  হাজার হাজার পাঠাও ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা শহরে।  এই সকল চালকদের সঠিক বায়োডাটা নিয়ে সন্দেহ করছেন অনেকেই।  কয়েকমাস আগে কিশোর ছাত্র বিক্ষোভের সময় মিরপুরে গাড়ি ভাংচুরের পর থেকে অনেকের প্রশ্ন এরা কারা? 

জানিনা কি হতে চলেছে।  আমরা যারা সাধারণ আছি, তারা নির্বাচনের এই জটিল,কুটিল পথে আটকে গিয়ে কোন দিকে এগিয়ে চলেছি? 

যাই কিছু হোক, আর কোন রক্তপাত নয়। লাশের উপরে দাঁড়িয়ে আর কোন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা পাক সেটা কারো কাম্য নয়। 

মো. তৈমুর মল্লিক ভুঁইয়া, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন