ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উদীয়মান সূর্য নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন ড. কামাল?

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ পিএম
উদীয়মান সূর্য নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন ড. কামাল?

সরকার বিরোধী প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভিভাবক হিসেবে ড. কামাল হোসেনের আত্মপ্রকাশ তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটাই পাদ-প্রদীপের আলোয় এনেছে। দেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান আইনজ্ঞ হিসেবে তিনি সকলের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরামের মত রাজনৈতিক দল গঠনের পর জাতীয় রাজনীতিতে তিনি তেমন কোনো ভূমিকা রাখেননি। আর নির্বাচনী রাজনীতি বা ভোটের মাঠে ড. কামাল হোসেন বরাবরই পেছনের কাতারে ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন। কিন্তু তিনি কোন আসন থেকে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। একটি টেলিভিশনের টক শোতে সুযোগ পেয়ে শ্রদ্ধেয় কামাল হোসেনকে প্রশ্ন করেছিলাম ‘স্যার, আপনি নির্বাচনে কি গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নাকি বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন?’ তখনো ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি, কিংবা নির্বাচনী তফসিলও ঘোষিত হয়নি। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন জবাব দিয়েছিলেন ‘এই প্রশ্নের জবাব দেবার সময় এখনো আসেনি।’

এরই মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তারা নির্বাচনী তফসিল পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দর কষাকষি করছে। কিন্তু এরই মধ্যে এটুকু আভাস পাওয়া গেছে যে গণফোরাম হয়তো নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়েই ভোট যুদ্ধে নামবে।

২০০৮ সালে সর্বশেষ মোটামুটি সম্ভাব্য বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে ঢাকার কোনো আসনে প্রার্থী হিসেবে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নাম নেই। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিরপুর থেকে  প্রার্থী হয়েছিলেন তখনকার মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। জাসদের শাহজাহান সিরাজকে হারিয়েছিলেন ৫৭৮৮৯ ভোটে। কামাল হোসেন পেয়েছিলেন ৭০০২৬ আর শাহজাহান সিরাজ পেয়েছিলেন ১২১৩৭ ভোট। এরপর ১৯৭৯ সালে নির্বাচন না করলেও ১৯৮৬  মিরপুর থেকে নির্বাচন করে কামাল হোসেন জাতীয় পার্টির এস এ খালেকের কাছে হেরেছিলেন ১১৯৭৯ ভোটে। আর ১৯৯১ সালে বিএনপির হারুন মোল্লার কাছে  তিনি পরাজিত হয়েছিলেন ২১৩৬ ভোটে।

গণফোরামের আরেক প্রভাবশালী নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু। ১৯৮৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তখনকার ঢাকা-৩ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঢাকা মহানগরের তখনকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুর রহমানকে হারিয়েছিলেন ২২২৭৩ ভোটে। ঐ ভোটে এই আসনে নৌকার ভোট ছিল ৮৩৫৭২ এবং লাঙ্গলের ভোট ৬১২৯৯। ১৯৯১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোস্তফা মোহসীন মন্টু নৌকার প্রার্থী হিসেবে ভোট পেয়েছিলেন ৬৬২২০ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান পেয়েছিলেন ৯৭২৯৯ । ধানের শীষ প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন ২২২৭৩ ভোটে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা,তখনকার ঢাকা-২ আসনটি এখন ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩ আসনে ভাগ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ঢাকা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল ইসলামের কাছে হেরেছিলেন বিএনপির মতিউর রহমান । সেই নির্বাচনে আমান উল্লাহ আমান অংশ না নিলেও এবার তিনি এই আসন থেকেই প্রার্থী হবেন। ২০০৮ সালে ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় হেরেছিলেন আওয়ামী লীগের নসরুল হামিদ বিপুর কাছে।এই দুই আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে  ঢাকার কোন আসনে তিনি প্রার্থী হবেন তার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আইন অঙ্গন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের সুপরিচিতি পেলেও ভোটের মাঠে তার তেমন কোনো প্রভাব নাই। তবে শোনা যাচ্ছে তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে প্রার্থী হতে চান। এই এলাকায় চারবারের সাংসদ অলি আহমেদ আগে বিএনপি করলেও এখন এলডিপির সভাপতি। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম -১৪ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফসার উদ্দিন আহমেদ থেকে ২০৩৯০ বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। এখানে ঐ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিজানুল হক চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩৩৩৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। চট্টগ্রাম-১৪ থেকে অবশ্য হেরে গিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলামের কাছে। এই আসনে তৃতীয় হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের একে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী । এই আসন এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে ছেড়ে দিবেন কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

গণফোরাম থেকে আর কে কে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তা এখনো পরিষ্কার নয় । ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বাদ দিলেও ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দল হিসেবে গণফোরাম কোনো আলোচনায় ছিল না। কিন্তু এবার গণফোরাম সভাপতি ভোটের মাঠে একটি বড় রাজনৈতিক মোর্চার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে গণফোরামও আছে আলোচনায় । আগামী সংসদে এই দলের প্রতিনিধিত্ব কি হয় , আর কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদে কোন পরিচয়ে বসবেন সেটার জন্য আপাতত অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আলোচনা আর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ১৪ নভেম্বরের সংঘর্ষের পর রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাও দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ