ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নতুন মেরুকরণের পথে রাজনীতি

মো. তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ এএম
নতুন মেরুকরণের পথে রাজনীতি

সেইতো নাচলি, তবে কেন লোক হাসালি! এমন একটি লাইন হয়তো লেখার সময় এসে গেছে। ১০ বছর পিছিয়ে থাকা বিএনপি যখন কিছুতেই রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না, তখন অনেকটা অসহায়ের মতো জনাব রিজভী সাহেব একের পর এক বিবৃতি প্রদান করে গেছে অন্দরমহল থেকে। কার্যত এই বিবৃতি নির্ভর রাজনীতি করে বিএনপি স্বপ্ন দেখতে থাকে নিশ্চই একটি সুযোগ আসবে। কিন্তু শেষ অবধি সেটা হয়নি। 

অন্যদিকে তারা ১০ টি বছর মানুষের মনে স্থান করে নিতে যে চেষ্টা চালাবে তার কোন উপায় নেই। কারণ এমন চেষ্টায় অর্থনীতি সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। যে অর্থনীতিতে বিএনপি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই অর্থনীতির মুল যোগানদাতা জামাত যুদ্ধাপরাধ বিচার, সাংগঠনিক বিপর্যয়, বাংলাদেশ ব্যাংকিং সেক্টরে পাকিস্তান ভিত্তিক অর্থ সহায়তা প্রায় শূন্যের কোটায়, নিবন্ধন বাতিল ইত্যাদির ফলে দিশেহারা। 

ঐক্যফ্রন্টের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় অর্থায়নের জন্য বিএনপিকে একজন ধনকুবেরের নিকট ছুটে যেতে হয় বলেও শোনা যায়।  প্রশ্ন হলো তারা আর কত দেবে?  ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে, যারা অর্থের যোগানদাতা তারা এখন মুখ ঘুরিয়ে নেবে সেটাই স্বাভাবিক।  খালিপেটে কি মোমবাতি জ্বলে? 

এমন একটা সময় হাতে নিয়ে, সামনে এসে দাঁড়ায় ঐক্যফ্রন্ট। আমি আমার পূর্বের লেখায় লিখেছি, ড. কামালের ঐক্যফ্রন্টের জনক তারেক রহমান। 

সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স অনেক দিক নির্দেশ করে। ড. কামাল তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স নিয়ে নাখোশ হবার মতো মুখভঙ্গি করলেও কার্যত ড. কামাল ততোটা নাখোশ নন বলেই অনেকে বলে। কেন নাখোশ নন সেটার ব্যাখ্যা নাইবা দিলাম।

মূলত ঐক্যফ্রন্ট গঠন এবং সেই ঐক্যফ্রন্টকে সামনে নিয়ে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার শেষ চেষ্টা মাত্র। যদি সুশীল ইমেজের অধিকারী ড. কামালকে সামনে রেখে কোন ভাবে রাজনীতির মাঠে নিজেদের উপস্থিতি পাকা করতে পারে, সেটাই হবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তির শেষ উপায়।  এর বাইরে তাদের আর কিছুই করার নেই বলেই মনে হয়। রাজনীতিকে বেগবান করতে  বিকল্প পথে একটি পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বিএনপি করার চেষ্টা করে পল্টনে, কিন্তু প্রশাসনের চৌকশ খেলায় সেই সম্প্রচার নিমিষেই বন্ধ হয়েযায়।  পক্ষান্তরে সম্প্রচারের ২য় সারির কলাকুশলী এবং মাঠকর্মী প্রশাসনের হাতে ধৃত হবার ফলে এবং প্রকাশিত হবার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যতটুকু প্রবেশ করতে পেরেছিল তারচেয়ে দ্বিগুণ বেরিয়ে এসেছে। বিএনপি গত ১০ বছরে বুঝতেই পারেনি আগুনের সন্ত্রাস আসলেই কেউ আর চায়না। 

আমি অতি সাম্প্রতিক সময়ে লিখেছিলাম, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙার পথে। কোন উপায় নেই না ভেঙে। 

চারদিকে খবর বেরিয়েছে, ড. কামালের গণফোরামের অবস্থা অনেকটা এতিম খানার মতো হয়ে গেছে। গণফোরামকে যারা ধরে রেখেছিলো তারা যদি বিএনপির নিকটে খাবার না পায় তাহলে আওয়ামীলীগে যোগ দিতে একপায় দাঁড়িয়ে আছে।

খবর বেরিয়েছে, ফখরুল ইসলাম সাহেব সেনাকুঞ্জে সভায় যোগ দিয়ে তারেক রহমানের বিরাগভাজন হয়েছেন। ড. কামাল মিলাদুন্নবী পালন করতে বঙ্গভবনে ছুটছেন, অন্যদিকে মাহমুদুর রহমান মান্না তার পিছন দিক ঠেকে টেনে ধরছে।

আ. স. ম. রব, জাফরুল্লাহ সাহেব, অন্যান্যরা আপাতত এদিক ওদিক ঘাড় নাড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছে, কি হতে চলেছে। 

এমন টানাটানির সংসার কি ভাবে চলতে পারে?  আদেও কি চলা সম্ভব?  যেটুকু সম্ভব হবে বলে সকলে ধারণা করেছিলো, তারেক রহমান তার দলকে চাংগা করতে এসে, ভিডিও কনফারেন্স করে, নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে কফিনের শেষ পেরেক পুতে দিয়েছে বলে মনে হয়। 

অন্তত, কনফারেন্সের সাথে সাথেই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সাথে ড. কামালের তাৎক্ষণিক বৈঠক সেকথাই বলে। 

এইতো আর মাত্র কয়েকদিন, ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিকে শুধু আলাদাই দেখা যাবে না, দলছুট হয়ে দেখা যেতে পারে তাদের সেই আওয়ামীলীগ শিবিরে।  অথবা নির্জনে। এমন ধারনাই সকলে করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি কতটা নির্বাচনের মাঠে কৃতকার্য হবে সেটা সময় বলে দেবে।

কথায়তো আছে - রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। 

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন