ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনে মাইন্ড সেটাপ গেম

মো: তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৯:০৫ এএম
নির্বাচনে মাইন্ড সেটাপ গেম

জঙ্গিবাদ উৎখাতে কেন পুলিশ সুপার সক্রিয়, কেন কাউন্টার টেররিজম সক্রিয়, কেন র‍্যাব সক্রিয় এমন ভাবনা আসতেই পারে, অন্তত সেটাই আসবে বা আসার কথা।  

অন্তত জঙ্গিবাদ সুবিধাজনক স্থানে না থাকার কারণে এসব প্রশ্ন আসতেই পারে।  

একের পর এক বোমা হামলা হবে, মানুষ জবাই হবে, পেট্রলপাম্প তুলে এনে মানুষের শরীরে ঢেলে আগুন জ্বালানো হবে, সিরিজ বোমা হামলা হবে, আত্মঘাতী স্কোয়াড যেখানে সেখানে দুমদাম করে বিস্ফোরিত হবে, সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হবে তবেই না শান্তি।

এমন শান্তির প্রকোপে পাকিস্তান যখন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে মরছে সেখানে বাংলাদেশ কেন উক্ত ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্তদের খুঁজে খুঁজে বের করে শেষ দৃশ্যে দ্যা ইন্ড লিখবে?  শত হলেও পাকিস্তান আমাদের ধর্মিয় ভাই। 

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন,  মানুষ হত্যার স্কোয়াডের নামের শেষে ইসলাম, তৈয়বা বসিয়ে ওরা বলে, আমিও বাঙালী, আমিও এই মাটির সন্তান।  

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু পুলিশ, র‍্যাবের সদস্যদের বদলী চেয়ে সুপারিশ নামা প্রেরিত হয়েছে নির্বাচন কমিশনে।  হতেই হবে,  না হয়ে কোন উপায় নেই।  তাদের অপরাধ, তারা নাকি সরকারের আজ্ঞাবহ। 

না হয়ে উপায় কি, হওয়া উচিত তাই। অন্যথায় সরকার আফগান, তালেবান, পাকিস্তান হওয়া থেকে বাংলাদেশকে ঠেকাবে কি দিয়ে?  

যারা এই আবেদন করেছেন, তারা বলবেন কি - বিএনপি আমলে র‍্যাব যখন তৈরি হয় তখন কে ছিলো তার প্রধান? পুলিশের প্রধান? কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান?  তারা কারা ছিলো?  

আজ যখন নির্বাচন এসেছে, তখন এটা অন্তত পরিষ্কার, ভোটের রাজনীতিতে কে এগিয়ে থাকবে জানিনা, তবে সহিংসতা করার কোন স্কোপ নেই।  সহিংসতা করতে এলেই বিপদ। এখন সেই সহিংসতার মাঠে যাবেন কি না, সেটা যার যার দায়িত্ব।  

ট্রেইলার একটা হয়ে গেছে, সাথে সাথেই ধৃত।  এমন ট্রেইলার দেখে তারাই এদের বদলীর জন্য সুপারিশ করবে যারা ট্রেইলারকে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ভাই স্টাইল তৈরি করতে চায়।  

ক্ষমতায় যাবার জন্য আপনি পাঠা বলি হবে, পাঠা ভ্যা ভ্যা করতে পারবে না সেটাকি হয়?  

মানুষের জন্য কে কতটা কাজ করেছেন, তার প্রমাণ হবে ভোটে। অথচ লেবেল প্লেইং ফিল্ডের নামে আইএসআই প্রবেশ করবে, নিজেরা আইএসাই হয়ে যাবে, বাংলা ভাই হবে, লস্কর ই তৈয়বা হবে, আনসারুল বাহিনী হবে, পেট্রলপাম্প, ডিজেল পাম্প, পটাস, সাইনাইড, গ্রেনেড, ডেটনেটর, গান পাউডার, একে ৪৭ কাঁধে নিয়ে ঘুরবে, আর সেই কারণে মাঠ ফাকা করে প্রশাসনকে বদলী হয়ে যেতে হবে তা কি করে হয়?  

নির্বাচনের দিনে কেন্দ্র পাহারা হবে হোক। ভোট চুরি ঠেকাতে সেই পাহারা যদি হয়ে থাকে তাহলে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যদি তার ব্যতিক্রম হয় তাহলে যাদের বদলী চাওয়া হয়েছে তারা যে শান্তিতে থাকতে দেবে না সেটা শতভাগ নিশ্চিত। আর এই কাজে সাধারণ মানুষ নিশ্চই খুশি হবে।  

আন্ডারওয়ার্ল্ডে থেকে রাজনীতি করা আর বাংলাভাই টিম গঠন একি কথা।  আন্ডারওয়ার্ল্ডের রাজনীতি চিরকাল লাশের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেই রাজনীতিতে ভয়, আতংক, হতাশা থাকতে পারে কিন্তু ভালোবাসা, আন্তরিকতা থাকে না।  

এই দেশটা বড় অভাগা দেশ, আজও এই দেশে পংগু অসহায় মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছে, আজো এই দেশে বিরংগনা বেঁচে আছে।  তাদের প্রতি একটু সম্মান সকলেই আশাকরে।  নবীন প্রজন্মের হাতে অস্ত্র উঠিয়ে দিয়ে, আর যাই হোক রাজনীতি করা সাজে না। 

কে ক্ষমতায় যেতে পারবে কি পারবে না, তার উত্তর দেবে জনগণ,  অন্তত তাতে সাধারণের কিছুই যায় আসে না। 

কেউ ক্ষমতায় গিয়ে শায়েস্তা খাঁ`র আমল ফিরিয়ে আনতে পারবেন না, দেশের বেকারত্ব রাতারাতি দূর করতে পারবেন না, এতো সহজ নয়। তৈরি হওয়া বস্তুর নাম পালটা পালটি খেলায় শেষ হয়ে যাবে আগামী আরও ৫ টি বছর।  আর তখন আপনিও একি কাজ করবেন,  দলীয় সিন্ডিকেট তৈরিতেই কেটে যাবে আগামী ৫ টি বছর, আর তখন আপনিও একি কাজ করবেন।  খালি পেটের জ্বালা মেটাতে গংগা ফড়িঙ এর মতো ঝাঁপিয়ে পড়বেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর সেটা সকলেই জানে বোঝে।  

আমাদের সাধারণের ভাগ্য সেই তিমিরেই রয়ে যাবে।  আর তাই আপনাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে আমি কিছুতেই লাশ হতে রাজি নই। আমার সন্তানকে বর্গা দেবার মতো অর্বাচীন আমি হতে চাই না।  

ভোট যুদ্ধে হারজিত নিয়ে সকলেই এগিয়ে যাক, কিন্তু কিছুতেই লাশের বিনিময়ে নয়।  

তাই বদলীর জন্য যে আবেদন সেটা সাধারণ মানুষের চাহিদা নয়। এটা ভুলে গেলে চলবে না, নির্বাচনী মাঠ একজনের জন্য লেবেল হলেও অন্যজনের নিকট লেবেল নয়।

 

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন