ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভোট প্রদানে ভুল হলেই প্রলয় অবধারিত

মো. তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০২:৫৮ পিএম
ভোট প্রদানে ভুল হলেই প্রলয় অবধারিত

জাতীয় নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। সাধারণ মানুষ কোন হিসাবে, কোন অংকে দেশের শাসন ব্যবস্থা অর্পণ করবে একজন নেতার নিকট? 

যে সকল দল নির্বাচনে অংশ নেবে তারা কেউ বলবে না আমি বা আমরা এমন কোন কাজ নেই যা পারবোনা।  এমন কোন সুখ নেই যা দেয়া থেকে দূরে থাকবো, এমন কোন সম্পদ নেই যা দেয়া থেকে কৃপনতা করবো। প্রতিশ্রুতিতে কোন প্রকার কমতি থাকবে না।  রাস্তা দেব, ঘাট দেব, স্কুল দেব, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের দাম কমিয়ে দেব এমন কথা কেউ না শুনতে চাইলেও কানের মধ্যে গুঁজে দেয়া হবে। 

নির্বাচনী ইশতেহারের শব্দের মধ্যে যে শব্দগঠনের খেলা থাকে, সব দেব বলার মধ্যে যে চোখের একটি পলকের দেয়াল থাকে, ওয়াদা শব্দের মধ্যে ও বর্ণের যে মাত্রা নেই,  এমন সুক্ষ বিষয় কেউ ভেবে দেখে না। বিশেষ করে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ, শহরের খেটে খাওয়া মানুষ এতো সুক্ষ বিষয়ে কখনই মাথা ঘামায় না।  তারা এতটাই সহজ সরল যে, তাদের মুখের সামনে মাইক্রোফোন ধরলে উত্তর একটাই দেবে, "একজন সৎ মানুষ চাই, যে আমাদের কথা ভাববে, যে আমাদের রাস্তা করে দেবে, ব্রিজ করে দেবে, এলাকার উন্নয়ন করবে ইত্যাদি "।

এদের এই সকল উত্তরে যারা নির্বাচন করবে তারা খুশি হয়, তারা আনন্দিত হয়,  কারণ তারা জানে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের রোডম্যাপ এই সব সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কে নেই।  শুভংকরের ফাঁকির জটিল সমীকরণ তাদের মাথায় নেই। 

কিন্তু যারা বোঝে এই শুভংকরের ফাঁকির ইতিহাস তারাই এই দেশে বুদ্ধিজীবী হিসাবে পরিচিত, রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত, আইনজীবী হিসাবে পরিচিত, বিজনেস ম্যাগনেট হিসাবে পরিচিত।  সামগ্রিক নির্বাচনের, পছন্দ অপছন্দের নিয়ন্ত্রক তারাই।

সাধারণ মানুষকে কতটা বলবে, কতটা বোঝাবে, কতটা বুঝতে দেবে সব কিছুই কোড করা থাকে।  সব কিছুকে একসাথে করে তারা জনগণের উদ্দ্যেশ্যে ছুড়ে দেয় কমন কিছু ভাষা, কিছু শব্দ, কমন কিছু ইংগিত।  তারা সাধরণের ম্যারিট বুঝে সেই কমন ভাষ্য তৈরি করে। 

এবারের নির্বাচনে তেমনি কমন একটি শব্দ, "ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেব" কমন একটি শব্দ, "আপনারা দেশের মালিক" কমন একটি শব্দ বৈষম্য আর থাকবে না, কমন একটি শব্দ, "গণহারে আর কোন গ্রেপ্তার হবে না"। কমন একটি শব্দ "স্বাধীনতার মুল চেতনা ফিরিয়ে দেব"।  কমন একটি শব্দ, সকলেই গলায় হাত দিয়ে চলবে,  কেউ কারো শত্রু হবে না"।

উল্লেখিত প্রতিটি কথা জনগণ যেন বিশ্বাস করে, ঠিক সেই কারণে সারাদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে কুৎসা,  কুৎসিত দিক, খণ্ডিত শব্দকে পুঁজি করে ছড়ানো হচ্ছে প্রোপাগান্ডা,  গিবত, ফেক নিউজ ইত্যাদি। সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়ানো হচ্ছে সত্য মিথ্যা মিশ্রিত ব্যঙ্গ চিত্র, কে কতটা হত্যা গুম খুন করেছে তার হিসাব।  কিন্তু ভুলেও বিএনপি দল এবং তাদের সমর্থকগণ কোথাও বলছে না, কি ছিলো তাদের ৩ বারের উন্নয়নে, ঐক্যফ্রন্ট ভুলেও বলছে না, বিগত ৪০ বছরের মধ্যে কেউ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।  এই দিক থেকে আওয়ামীলীগ বাস্তবিক ভাবে তাদের উনন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেছে বা ধরার চেষ্টা করেছে সাধারনের সামনে। 

জনগণ কি বিশ্বাস করবে বা করেছে সেটা নির্ভর করবে  তাদের উপর।  তবে কমন যে ওয়াদা এবার করা হয়েছে, সেখানে জনগনকে বলতে শোনা যায়নি এটাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নয়।  বলতে শোনা যায়নি যে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেব সেই কথার মধ্যে রয়েছে পর্বত সমান দেয়াল। সেখানে বলতে শোনা যায়নি, ক্ষমতায় গেলেই প্রশাসন সম্পূর্ণ তাদের হয়েই কথা বলবে, যেখানে গ্রেপ্তার প্রথা থেমে যাবে না, বরং সেটার রুপ আরো হিংস্র হবে। সেখানে বলতে শোনা যায়নি, স্বাধীনতার মুল চেতনা ফিরিয়ে দিতে তারাই ওয়াদা করছে, যাদের স্বাধীনতার মুল চেতনা ধ্বংস করতে অস্ত্র হাতে বিগত দিনে সক্রিয় ছিলো, আজও আছে, আগামীতেও থাকবে। সেখানে বলতে শোনা যায়নি, কেউ কারো শত্রু হবে না, তবে সব ঘটনার প্রতিশোধ নেয়া হবে। 

সেখানে বলতে শোনা যায়নি, আমরা পররাষ্ট্র নিতিতে এখন যে অবস্থানে আছি, তারচেয়ে শক্তিধর অবস্থানে যাবো। সেখানে বলতে শোনা যায়নি, বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভ আমরা সুরক্ষা করবো।  যে ঋণ এবং অর্থ সহায়তা নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছি তাদের কোন অনৈতিক সুবিধা দেব না, সেখানে বলতে শোনা যায়নি, দেশের হাট, বাজার, রাস্তা, ঘাট, সকল ইজারা প্রতিষ্ঠানে কোন ক্রমেই দলীয় সিন্ডিকেট চালু করা হবে না। সে কথা বলতে শোনা যায়নি যে পাকিস্তানের মতো একটি সন্ত্রাসীর আতুর ঘরের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক থাকবে না।  ইত্যাদি ইত্যাদি।

আসলে এসব বিষয় বলারও কথা নয়, এসব বিষয় সাধারণ জনগনের জন্য নয়। এসব বিষয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের।  তাই এই সকল বিষয় কোড আনকোডের মধ্যে থেকে যায়।  অন্যদিকে আওয়ামীলীগ বলছে না, ব্যপক উন্নয়নের মাঝেও যে ভুল হয়েছে সেই ভুলের আর জন্ম হবে না।  সকলকে সাথে নিয়ে আগামীতে পথ চলবো। 

গ্রামগঞ্জে চলছে এক শ্রেণীর শিক্ষিত যুবকদের ক্যাম্পিং, জানাযায়  আশংকা জনক ভাবে বেড়েগেছে তাদের চলাচল। স্কুল এবং কলেজের ছেলেমেয়েদের মধ্যে চলছে বই বিতরণ,  কুষ্টিয়া অঞ্চল সেই দিক থেকে এগিয়ে আছে সবচেয়ে বেশি।  ক্যাম্পিং এর জন্য বেছে নেয়া হচ্ছে মসজিদ।  যেখানে "জাতিরপিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এমন বিষয়কে কৌশলে ভুল ও অন্যায় হিসাবে প্রচার চলছে। তাদের বলা হচ্ছে না জাতির পিতা বলতে বাঙালি জাতিকে বোঝান হয়েছে, যেখানে সকল ধর্মের অবস্থান রয়েছে।  জাতীর পিতা ইব্রাহীম আ: সেটাই যেন সকলে বলে এমন প্রচার চলছে। সেখানে বলা হয়নি,  ইব্রাহীম আ: মুসলমান জাতীর পিতা।  সেখানে বই বিতরণ চলছে, যে বই লিখেছেন যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দন্ডভোগি কেউ কেউ। 

একটি মাত্র উদাহরণ দিলাম আজকের লেখায়, দিতে হলো।  কারণ ১৫ আগষ্ট বংগবন্ধুকে হত্যার পরে তার চিহ্ন মুছে দিতে যে সময়টা ব্যয় হয়েছে, বর্তমান নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই সেই একি চিত্র বর্তমান। 

এই একটি উদাহরণ প্রমাণ করে নির্বাচনের ভাগ্য কোন দিকে প্রবাহিত। যে সকল কমন শব্দে আজ গ্রাম শহর, সকল মিডিয়া প্রকম্পিত সেই সকল শব্দের মধ্যে কতটা ফাক রয়েছে সেটা এখনি দৃষ্টিগোচর কিছু কিছু স্থানে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। 

তাই আগামী নির্বাচন কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা কেউ জানিনা। সময় সেটা বলে দেবে। অপেক্ষা শুধুই সম্বল। 

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

বিষয়: নির্বাচন , ভোট