ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন তারেক!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:০৩ এএম
গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন তারেক!

প্রায় খোলাখুলি নমিনেশন বাণিজ্যের পর ইচ্ছেমত প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। তাই আবার তুমুল আলোচনার মধ্যমণি হয়েছেন ড. কামাল,  এরশাদ, তারেক জিয়া, মান্নারা। অন্যদিকে আসন সমঝোতায় গণফোরামকে ১০ টি আসন, নাগরিক ঐক্যকে ৯টি এবং আ. স. ম. আবদুর রবকে ৫ টি আসন বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ গণফোরামের সদস্য না হলেও তাকে ধানের শীষ প্রতীক ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপিতে শুরু হয়েছে বিদ্রোহ। আতঙ্কে আছেন ঐক্যফ্রন্ট আর ২০ দলীয় জোটের নেতারা। তাই উপায় না পেয়ে নিজেরাই গুজব ছড়ানোর ফ্যাক্টরী খুলে বসেছেন।        

ড. কামাল হোসেন তারেক জিয়ার সাথে তাঁর জামাই বাবাজির মাধ্যমে মোটা ‘কোটি টাকার কাবিন’করে পলিটিক্যাল এন্ড লিগ্যাল কনসালটেন্সি, শরিকদের সামাল দিয়ে নিজে বোরকা হয়ে জামায়াতকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এই কথা মিডিয়ার কল্যাণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দুনিয়ায় চাউর হয়ে গেছে। এরশাদ সাহেবের নামে সরাসরি না হলেও তাঁর দলের মহাসচিব ও নিজের উপদেষ্টার মাধ্যমে সারা দেশে তাঁর দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যার ফলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাংচুর হয়েছে। সামাল দিতে দলের মহাসচিবকে জবেহ করে নিস্তার লাভের চেষ্টায় অবশেষে জাতীয় পার্টি এখন একটা আঞ্চলিক দলে পরিবর্তিত হওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেছে বলা যায়। রব, মান্না সাহেবরাও কম যান না। ওয়ান ম্যান পার্টির মান্নার বিরুদ্ধেও নমিনেশন বাণিজ্যের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নমিনেশন বানিজ্যে দুই হাতে টাকা কামিয়েছেন তারেক জিয়া, বিদেশে তাঁর বিলাসী জীবন নিশ্চিত করতে। তার কিছু ছিটেফোঁটা পেয়েছেন দলের কিছু বড় বড় নেতা। যাঁদের মাধ্যমে তারেক জিয়া টাকা নিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই এখন তারেক জিয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে ‘নিজের চামড়া বাঁচানোর’ প্রাণান্ত চেষ্টায় আছেন।       

রেসকোর্স ময়দানে ঘোড় দৌড় নিয়ন্ত্রণ করতো ১৯১১ সালের ১৯শে আগস্ট লর্ড মাউন্ট ব্যাটন এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ক্লাব। তখনকার দিনে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করলেই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোড় দৌড়ে জ্যাকপট ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতো বেনিয়া ব্রিটিশরা। ব্রিটিশ কলোনির অনেক দেশেই এমনকি ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানে এখনো ঘোড় দৌড়, মানে জুয়া চলে। আমাদের তারেক জিয়া ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোড় দৌড়ে জ্যাকপট ছেড়ে দেওয়ার ইতিহাস হয়তো শুনেছে কারো কাছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই তিনি দলের মধ্যে বিদ্রোহ দমনে জ্যাকপট ছেড়ে স্টাইলে নিজ দলের মধ্যে গ্রেপ্তার আতংক ছড়াচ্ছেন। বলছেন এখন ভোটের ক্যাম্পেইনে নামলে গ্রেপ্তার হতে পারো। এর ফলে সারা দেশে হাতে গোনা ২৫/৩০ আসন ছাড়া কোথাও তেমন করে বিএনপি নেতা কর্মীদের নির্বাচনের মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের বলা হচ্ছে যে শেষ ১০ দিন মানে ২০ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাঠ দখল করলেই চলবে। এভাবেই তারেক জিয়া তাঁর নমিনেশন বাণিজ্যের কোটি কোটি টাকা হজম করার পরিকল্পনা করেছেন।এর কিছু অংশ দিয়ে তিনি বানিয়েছে হাজার হাজার কনটেন্ট যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে বুস্টিং এর মাধ্যমে নিজ দল ও সমমনা দলের নেতা কর্মী আর যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার অশুভ খেলায় মেতেছেন বলে প্রমাণসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন।    

অনেকেই বলেন যে, বিএনপি কোন রাজনৈতিক দল না। বিএনপিকে বড় জোর বলা যায় সুবিধাবাদীদের একটা কমন প্ল্যাটফর্ম। যেখানে নানা মত ও পথের জুয়ারী মানসিকতার মানুষ এক হয় নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য। তাই তো মনোনয়ন বানিজ্যে বিএনপি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জুয়ারী মানসিকতার মানুষেরা নিজের স্বার্থ তারেক জিয়ার লোভের আগুনে আত্নাহুতি দিয়েছেন। তাই যে দলের প্রধান আর উপ-প্রধান হন দুর্নীতিবাজ, মিথ্যাচারী সেই দলকে দল না বলে সুবিধাবাদীদের প্ল্যাটফর্ম বলাই শ্রেয় নয় কি! এর মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগে কোন দুর্নীতিবাজ নেই। আছে, তবে তুলনামূলক বিবেচনায় অনেক কম। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান, বর্তমান সরকার প্রধান দুনিয়ার অন্যতম সৎ রাজনীতিক ও সরকার প্রধান হিসেবে দুনিয়াজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখানেই বিএনপি’র সাথে আওয়ামী লীগের মোটাদাগে পার্থক্য। এটা আমাদের দেশে যুবসমাজে না জানার কথা নয় কি! এই আইটির যুগে তথ্য গপন থাকে না। আমেরিকার কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতি, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র অমিত সাহ এর সঙ্গে টেলি সংলাপ বা হালের জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বিএনপি মহাসচিবের বৈঠকের আমন্ত্রণের মিথ্যাচার বালাদেশের সচেতন যুবসমাজ জানে।               

বাংলাদেশের মানুষ কি এতোই বোকা! তারা কি সেই সোলাইমানের ‘আই এম কমপ্লিটলি মেইড ইন বাংলাদেশ’ দেখছেন না! তারা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে কী জানে না যে বাংলাদেশ এতদিনে, বিশেষ করে গত ১০ বছরে কত এগিয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি এমন যে, এখানে শিশু মৃত্যুর হার বিশ্বের সর্বনিম্নের অন্যতম মানে ৩১.৭ ভাগ মাত্র। আর বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে গিয়ে দাড়িয়েছে ৭১ বছরে। এখানে দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে মাত্র ২১ ভাগ লোক যেটা ১০ বছর আগেও ছিল ৪০ ভাগের উপরে। অন্য দিকে প্রায় ১ কোটি বাঙ্গালী সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে নানান পেশায় মানে উন্নয়ন কর্মে নিজেদের দক্ষতার সাক্ষর রাখছেন। চলতি বছরে আমাদের দেশের শিক্ষিতের হার গিয়ে ঠেকেছে শতকরা ৭০ ভাগ এ। চীনের পরে বাংলাদেশ ২য় সর্বোচ্চ গার্মেন্টস রপ্তানীকারক দেশ। বাংলাদেশের তৈরী টুপি ব্যবহার করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাদের আছে নিজস্ব স্যাটেলাইট, হচ্ছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, একইভাবে বাংলাদেশের আছে অস্কার বিজয়ী। বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমকে অনেক দেশই এখন সমীহ করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অবস্থান ২য় সর্বোচ্চ। দুনিয়ার তাবৎ বড় বড় নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবেন বাংলাদেশী স্কলারদের। এমন অনেক কথাই বলা যাবে যা আমাদের দেশের যুব সমাজ সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এখন জানে। তাই বিভ্রান্তি কী এতো সহজ হবে, যদি না তারা রক্তে পাকিস্তানী চিন্তার পরিবারের সদস্য না হয়! মনে সন্দেহ আছে, অনেক বেশী। 

বাংলা ইনসাইডার/এসআর