ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী ‘টার্গেট কিলিং’ হাঁটি হাঁটি পায়ে পায়ে

মো. তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:০১ এএম
নির্বাচনী ‘টার্গেট কিলিং’ হাঁটি হাঁটি পায়ে পায়ে

এই ভয়টাই করছিলাম, বার বার বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে এটাই বলার চেষ্টা করেছি যে, নির্বাচন চলুক নির্বাচনের গতিতে, রাজনীতি চলুক রাজনীতিকে মোকাবেলা করে, নির্বাচন হোক স্নায়ুযুদ্ধের হাত ধরে। কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ হোক বাংলার মানচিত্রে। স্বাধীন বাংলাদেশে কে কার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে? কে কার রক্ত নিয়ে হোলি খেলবে? 

এমন একটি পার্থক্য গড়ে দেবে তারাই যারা বাংলাদেশকে চায় না। অনেক বার লিখেছি, প্রতিশোধের নেশা অতি ভয়ঙ্কর। সেই প্রতিশোধের নেশা বন্ধ হোক। 

কিন্তু ক্ষমতায় যেতে যায় এমন নেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী জয় পেতে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেই প্রতিশোধের নেশাকে উস্কে দেয়, হুংকার ছাড়ে চামড়া খুলে নেবার, হুংকার ছাড়ে রাজপথ বলি দেব, হুংকার ছাড়ে লাশ চেয়ে তখন প্রতিশোধের নেশা বিলুপ্ত হবে এমন আশা করা বোকামি। 

একটি ভয় বার বার তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল, এবারের নির্বাচন আবার একটি স্বাধীনতা যুদ্ধ হবার কারণে, নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিভিন্ন কারণে ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত একটি রক্তক্ষয়ী সময় এগিয়ে না আসে। 

নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষের গ্রাম, মফস্বলের কর্মীদের অপেক্ষাকৃত চুপচাপ অবস্থান, নীরব হয়ে যাওয়া বা নীরব থাকার পিছনে একটি মেঘ জমায়েত হবার যথেষ্ট ভয় উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল।  ঝড়ের পূর্বের পূর্বাভাস কি না সেটা চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দেয় তীব্র ভাবে। 

এটাই কামনা করেছি যে, সবার মধ্যে সুচিন্তিত বোধ যেন জেগে ওঠে। কিন্তু হয়তো সেই শুভ কামনা যথেষ্ট নয়। সেই চাওয়া বাস্তবের মুখ দেখবে না সেটার আভাস আস্তে আস্তে সামনে আসতে শুরু করেছে। হাঁটি হাঁটি পায়ে এগিয়ে আসছে প্রতিশোধের চরমপত্র। 

গত কয়েকদিনে টার্গেট কিলিং পরিষ্কার ভাবে সামনে আসতে শুরু করেছে। যারা টার্গেটে রয়েছে, এই কিলিং মিশনের মাধ্যমে তাদের মধ্যেও যে পাল্টা জবাবের ইচ্ছাশক্তি জেগে উঠবে না, এমনটি ভাবা বোকামি। যা আস্তে আস্তে বিপদজনক কোনো আভাস দেয় বলেই মনে করি। 

নিশ্চয়ই এই টার্গেট কিলিংয়ে সেই সব নেতারা ভীষণ খুশি হবেন, মদের পেয়ালায় মুখ লাগিয়ে নিশ্চয়ই চিন্তা করবেন, ‘মরুক ঐ সব পাতি নেতাকর্মীর নামধারী কিছু মানুষ, আমার প্রাপ্তি হয় ক্ষমতা, না হয় নির্বাচনী শতকোটি টাকা আয়।’

নিশ্চয়ই সেই সকল নেতা আনন্দে ঢেকুর তুলবেন যে, ‘জনগণের ভোটের অধিকারের নামে নীল বিষ ছড়িয়ে দিতে পেরেছ’, যার ফলে জনগণ হবে নীলকণ্ঠী আর আমরা হবো ক্ষমতা বা অর্থ লোভী। 

এমন রাজনীতি ঘৃণা করি, যে রাজনীতি মানুষের রক্ত ঝরায়। প্রশাসন নিশ্চয়ই সময় থাকতে নিশ্চিহ্ন করে দেবে ঘৃণিত এমন অপরাধ ও অপরাধীকে।

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ