ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মুখ ও মুখোশে জাতীয় নির্বাচন

মো:তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:৫৯ এএম
মুখ ও মুখোশে জাতীয় নির্বাচন

আসিতেছে জাতীয় নির্বাচন। গুটিকয়েক দিবস পূর্বেও নেতা একটি দলের বিষাদগারে ছিলেন উন্মুখ, আজি তিনি সেই দলের প্রতীক লইয়া বলিতেছেন, ‘আমি আসিয়াছি আপনাদের নিকট ভোট লইতে’ ভোট ভিক্ষা প্রাপ্ত হইবো কি?

উপস্থিত জনগণ উচ্চ স্বরে চিৎকার করিয়া বলিলেন, হ্যা ----।  ৮০ বৎসরের বয়বৃদ্ধ ভাবিতেছেন, কর্ণকুহরে কি প্রবেশ করিলো?  কেহ যেন কিছু একটি ভিক্ষা চাহিতেছে। তবে কি দাজ্জাল দুনিয়ায় আবির্ভূত হইয়াছে? 

সেই কবে হইতে শুনিয়া আসিতেছি, দাজ্জাল আসিবে আসিবে, তাহার আসিবার সময় হইয়াছে বুঝি? 

নেতা বলিতেছেন, এইবার হিমালয়ের যা কিছু জংগল আছে, সব কিছুই উপড়াইয়া ফেলিবো। আপনাদের মালিকানা ফেরৎ দিয়া দেবো। আপনাদের নিকটে শুধু আপনার সন্তানের রক্ত চাই।

কে যেন পিছন হইতে ডাকিয়া বলিলো, কেমনে তাহা করিবে বাছা, তুমি নিজেইতো সহায় সম্বলহীন।  সেই মুক্তিযুদ্ধের পরে একটিবার তোমার মুখখানি অবলোকন করিয়াছিলাম, আর আজিকে তোমার বদন দৃষ্টিগোচর হইলো। সবেমাত্র একটু নিঃশ্বাস লইতে শুরু করিয়াছি, অমনি তোমার গাত্রদাহ শুরু হইয়া গেলো? 

সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় কামাই করিয়াছ বেশ, তাই লইয়াই না হয় আমাদের রেহাই দাও। 

নেতা বলিতেছেন,

আসিয়াছি আমি ধ্রুবতারা হয়ে

করিতে ভিক্ষা আলো

বুঝিলে না কভু মোর ছলাকলা

আমি যে আজন্ম কালো।

জনগণ বলিলেন, ভাবনার কিছুই নাই ভাই, আমরা সর্বদাই আছি আপনার সঙ্গী হইয়া। নেতা অন্তরে বড়ই সুখ অনুভব করিলেন।  তিনি চিৎকার দিয়া বলিলেন, কোন উন্নয়ন হয় নাই দেশে, কিছুতেই ইহা সহ্য করার নয়। আমি আপনাদের উন্নয়ন ঘটাইয়া দেবো, শুধু ভোট একটিবার দিয়াই দেখেন। 

কোথা হইতে একটি আওয়াজ ভাসিয়া আসিলো, ‘তুই রাজাকার’।

এইদিক ওইদিক দৃষ্টিপাত করিয়া কিছুই যখন আবিষ্কার করিতে পারিলেন না, তখন তিনি আরো উচ্চ স্বরে বলিলেন, ‘রাজাকার বলে বলুক, আলবদর বলে বলুক, যা ইচ্ছা তাই বলুক, কিন্তু কিছুতেই পাকিস্তানকে না খাইয়ে থাকিতে দেয়া হইবে না। শুধু নিজেরা খাইলে হইবে?’

জনগণ বলিলেন, না কিছুতেই না।  যে ভাবেই হোক অর্থনীতি দখল করিয়া পাকিস্তানে পাঠাইতেই হইবে। 

নেতা বলিলেন,

অনেক লাথি খাইয়াছি আমি

স্থান পাইনি কভু

এইবার শোধ লইতে হইবে

দয়া করো মোরে প্রভু।

জনগণ জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার ঘর নাই, দলিল নাই পরমুখাপেক্ষী হইয়া কিসের শোধ লইবেন নেতা?

নেতা বলিলেন, শুধু ভোট একটিবার দিয়া দেখিতে পারো। অনেক জ্বালা, অনেক যন্ত্রণা অন্তরে পুষিয়া রাখিয়াছি, আর সহ্য হয়না। কতদিন আর না খাইয়া দিনপাত করা যায় বলুন? 

নির্বাচন আসিতেছে। মুখ ও মুখোশের ঝলসানো আগুনে বাংলাদেশ পুড়িয়া ছাই হইবে কি হইবে না, আজিকার আধুনিক বাংলাদেশে বসিয়া সিদ্ধান্ত লইবার সময় হইয়াছে। 

ভাবার সময় হইয়াছে, নিশ্চিত স্থিরতা চাই নাকি আবার ফিরিয়া যাইতে চাই সারাদেশে একিসাথে একযোগে বোমা বিস্ফোরণের যুগে? নাকি চলন্ত বাসের অগ্নিকুণ্ডের অভ্যন্তরে? নাকি ১০% হিস্যার যুগে?  সিদ্ধান্ত আপনাদের।। 

 

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

বাংলা ইনসাইডার/এমআর