ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!  

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১০:০১ পিএম
টাকা পাগল ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলা!  

ড. কামালের ‘খামোশ’ শব্দ প্রয়োগ করা ভিডিও ফুটেজটি এখন ভাইরাল। সবখানেই ‘খামোশ’ নিয়ে আলোচনা চলছে। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া ড. কামাল হোসেনকে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ভাস্করের উপর এই ‘খামোশ’শব্দ প্রয়োগ করেন। তাঁকে দেখে নেওয়ার, চিনে রাখার হুমকি দেওয়া হলে স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে এটা ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। তাই ‘খামোশ’ শব্দের ভাষাগত আর আইনগত দিক খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ে, কারণ তিনি একজন নামকরা আইনজীবী। 

‘খামোশ’ শব্দের অর্থঃ উর্দু ভালো জানেন এমন ব্যক্তির মতে উর্দু ‘খামোশ’ শব্দের দুটো অর্থ আছে। শব্দের প্রয়োগ আর তার প্রক্ষেপণে কতটুকু জোর দেওয়া হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ‘খামোশ’শব্দের তিনটি ব্যবহার আছে। যখন কেউ খুব হালকা স্বরে করে বলেন যে, আসুন আমরা ‘খামোশ’হয়ে যায়, তখন তার অর্থ দাঁড়ায় চুপ করে যাওয়া। কিন্তু মাঝারি স্বরে ‘খামোশ’ বলা হয় তখন তার অর্থ দাঁড়ায় ‘চুপ কর’। কিন্তু রাজ রাজাদের আমলে যখন উচ্চ স্বরে বা রাগত স্বরে ‘খামোশ’বলা হতো তার অর্থ তাঁকে চিরতরে চুপ করিয়ে দেওয়া, যা একধরনের প্রাণনাশের হুমকি। আমরা ‘যাও’ শব্দটি হাল্কা, মাঝারী বা উচ্চস্বরে উচ্চারণ করলেও তাঁদের অর্থের চরম ভিন্নতা লক্ষ্য করতে পারি।     

আইনগত দিকঃ ‘খামোশ’ শব্দ প্রয়োগ করে যেহেতু তিনি যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ভাস্করকে হুমকি দিয়েছেন তাই বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে কী কী বলা আছে তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের একজন সিনিয়র অধ্যাপক বলেন যে, হুমকির জন্য সাধারণত বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারায় মামলা করা হলেও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারার সঙ্গে ১১৭(গ) ধারা অনুযায়ী মূলত মুচলেকা সম্পাদনের প্রতিকার চাইতে হয়। আদালতও সে অনুযায়ী আদেশ দিয়ে থাকেন।‘সাধারণ হুমকি হলে ৫০৬ ধারায় শাস্তি দুই বছর হতে পারে। আর হত্যার হুমকি হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনও হতে পারে হুমকিদাতার।’ভাস্কর যদি‘খামোশ’শব্দের প্রয়োগ ও তার প্রেক্ষাপটে দাবি করে যে তাঁকে হত্যার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাহলে ড. কামাল কী বলবেন? এটা তো কোন গোপন কিছু নয়, অনএয়ার হয়েছে, সবাই রাগত স্বরে ড. কামালের এই হুমকি দেওয়া দেখেছেন, শুনেছেন।       

ডিসেম্বর মানে আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসের সঙ্গে আমাদের অনেক আবেগ জড়িত আছে। এই ১৪ই ডিসেম্বর তারিখে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে পাক হানাদার আর তাঁদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস, যা আদালতের রায়ে প্রমাণিত। আমরা জানি যে ভালোবাসা আর দেশপ্রেম দুটোই আবেগ। ড. কামাল হোসেন হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারী নিষিদ্ধ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী প্রমাণিত জামায়াতের রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। ড. কামালের কাছে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে উনার আচরণ আর কাজের মিল নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি রাজাকারদের পুনর্বাসনে মাঠে নেমেছেন বলে মানুষ বিশ্বাস করা শুরু করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ আর শহীদ বুদ্ধিজীবী  কবরস্থানে গিয়ে প্রমাণিত খুনিদের পক্ষ নিয়ে ড. কামালের এহেন আচরণে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী বহু মানুষ মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন যা টট আইনেও অপরাধ, এতে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের মামলা করার আইনগত অধিকার রাখেন। এটি ইউরোপ আমেরিকা হলে এতক্ষণে বহু মামলা হয়ে যেত। আসলে উন্নত দেশে টট আইনেই মামলা বেশি হয়, যদিও আমাদের দেশে এই ধরণের মামলার সংখ্যা কম।

যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক ভাস্করের বিরুদ্ধে ড. কামালের হুমকি বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ড. কামাল হসেনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ড. কামালের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী সোমবার নাগাদ লাইন দিয়ে আরো অনেক মামলা হতে পারে বলে সারাদেশের বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন। এছাড়া সুখাধিকার আইন ১৮৮২ ব্যবহার করেও অনেকে মামলা করার চিন্তা করছেন বলা জানা গেছে।     

নিজে টাকার বিনিময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ নিয়ে ড. কামাল এই আচরণ করেছেন বলে একজন মনোবিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন যে, ড. কামালের সারা সত্ত্বা জুড়ে অর্থ প্রাপ্তির প্রত্যাশা আছর করেছে, হয়তো সেখানে হয়তো কোন গড়মিল হয়েছে তাই তিনি এমন উদ্ধত আচরণ করছেন। খবরে জানা যায় যে, ৩ দিন আগে ড. কামাল হোসেন বিএনপির দেওয়া টিকেটে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে। মাজার জিয়ারত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচারণা শুরু করেন তিনি। মাজারে নিয়ম হলো, ওখানে রাজনৈতিক দল বা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গেলে অনুদান করেন। কামাল হোসেন যখন মাজারে গেলেন, তখন তাঁর কাছে সহায়তা চাওয়া হলে তিনি তাঁর পকেট হাতড়ে দেখান যে কোন টাকা নেই। মানিব্যাগেও টাকা নেই। তখন তিনি পাশে থাকা নেতাকর্মীদের বলেন যেন মাজারে কিছু টাকা দেয়। সেসময় বিএনপির একজন স্থানীয় নেতা ওই মাজারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেন। তাই পরের টাকায় সব কিছু করা ড. কামাল মনে করেন যে, নিজের মত করে সবাই টাকার বিনিময়ে সব কিছু করে। ড. কামালের এহেন আচরণে একজন ছড়াকার রঙ্গ করে বলেন যে-  

“নষ্টরা সব নিজের খোলা চোখে, 

সবাইকে সে নিজের মত দ্যাখে”


বাংলা ইনসাইডার