ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নীল নকশা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত তারিখ ২৮ ডিসেম্বর?

মো: তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ১১:০১ এএম
নীল নকশা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত তারিখ ২৮ ডিসেম্বর?

রাজশাহীর একজন সাবেক মেয়রের টেলিফোন বার্তা ফাঁস হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেখানে ২৮ ডিসেম্বর তারিখ আক্রমণের চূড়ান্ত তারিখ সেটা তিনি জানিয়ে দিলেন! ফলাফলও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন,‘হয় বাংলাদেশ থাকবে না হয় বাংলাদেশ বিভাজন হবে!’ 

সে যাই হোক, যা হয়নি বাসর রাতে, সেটা এখন কীভাবে হবে মাথায় আসে না।  তবে তিনি তেল মবিল নিয়ে সকলকে যে ভাবে মাঠে নামার সংকেত দিলেন সেখানে বলতেই হয় রণসজ্জা প্রস্তুত। 

সংবাদটির সত্য মিথ্যা কি সেটা জানিনা। তবে ২৭ তারিখ ড. কামাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন, তারপরেইতো ২৮ তারিখ, তাই নয় কি? 

আমি পূর্বের লেখায় আসন্ন ২৭ তারিখের সমাবেশ নিয়ে উৎকন্ঠার দিক তুলে ধরেছি।  এখানেও বলছি,  নির্বাচন যদি ৩০ ডিসেম্বর হয় তাহলে নিয়ম অনুসারে ২৯ ডিসেম্বর সকালের পরে সকল প্রকার প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। সকল নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে সেটাই স্বাভাবিক।  অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট ২৯ তারিখ রাত থেকেই নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার ঘোষণা পূর্বেই দিয়েছে। তাহলে ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টার পর ঢাকায় যে জনসভা সেখানে নিশ্চয়ই সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী শুভাকাঙ্ক্ষী ঢাকায় ছুটে আসবে। তাই যদি হয় তাহলে কেন্দ্র পাহারা কে দেবে? ঢাকা হতে ফিরে যাবার যে সময় তারা পাবে সেই সময় কি যথেষ্ট? যদি যথেষ্ট না হয় তাহলে ২৭ ডিসেম্বর হতে ৩০ ডিসেম্বরের মাঝে যে সময়, সেই সময়ের সমীকরণ আসলে কী? 

এই বিষয়ে ড. কামাল নিশ্চয়ই ভালো বলতে পারবেন। তবে ড. কামাল যা বলবেন সেটি কি রাজশাহীর প্রাক্তন মেয়র আগেভাগেই জানিয়ে দিলেন? 

আসলে এতো ধরণের চিন্তা বা বিশ্লেষণের একটাই কারণ, সেটি হলো কোনক্রমেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মাটি যেন রক্তে রঞ্জিত না হয়।  কিন্তু সেটি কতটা হবে জানিনা। কারণ ইতিমধ্যেই আইএসআই নির্বাচনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে বলে প্রকাশিত। লন্ডনভিত্তিক কালো টাকার যে রক্তাক্ত বিস্তার সেটাও প্রকাশিত। নেতাকর্মীদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি বিরুদ্ধচারণ। ঐক্যফ্রন্টের বিশেষ করে বিএনপির ৩য়/৪র্থ সারির নেতাদের মনোনয়ন এবং তাদের সঙ্গে আইএসআই এর সরাসরি সম্পৃক্ততা।  নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণায় দ্বন্দ্ব-কলহ, প্রচারণায় নজিরবিহীন শৈথিল্য, জেলা প্রশাসক বরাবর হাতে লেখা হুমকি সম্বলিত বেনামি  চিঠি বিষয়টিকে একটি নীলনকশার দিকেই নিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

সবকিছুই হোক শান্তিপূর্ণভাবে, একটি শান্তিময় পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সেই কামনা রইল। প্রত্যাশার স্থানটি যেন কলংকিত না হয়।

লেখক: মো: তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন। 

বাংলা ইনসাইডার