ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ধর্ষণ ও গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন একই সূত্রে বাঁধা!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ১১:০১ এএম
ধর্ষণ ও গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন একই সূত্রে বাঁধা!

১৯৭১ আর ১৯৭৫ পরবর্তীর শত্রুদের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষিত তরুণ দিয়ে মন্ত্রীসভা সাজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে কারো কারো মনে ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকলেও মোটা দাগে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ খুশি হয়েছেন তা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা রেখেছেন আর ‘দুর্নীতির বরপুত্র খুনি তারেক জিয়া’, জামায়াত, ৭৫ এর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দল এবং প্রথম আলো গংকে যে প্রত্যাখ্যান করেছে সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই তার প্রমাণ মেলে।   

গত বুধবার ৯ই জানুয়ারী ২০১৮ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া জয়ী হয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন মঈনকে ৮ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে আশুগঞ্জ উপজেলার তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। বুধবার স্থগিত এই তিনটি কেন্দ্রে ১০ হাজার ৫৭৪ ভোটের মধ্যে বুধবার ৪ হাজার ৩০০ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে কলার ছড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনউদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৫ আর ধানের শীষ প্রার্থী পেয়েছেন ১ হাজার ২৭৪ ভোট। মঈনউদ্দিন জিততে পারেন নি কারণ তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যিনি শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাই অনেকেই তাঁকে বেঈমান মনে করে ভোট দেন নি। এখানে মহাজোটের জাতীর পার্টির প্রার্থী ছিল, নৌকার প্রার্থী ছিল না। তবে ভোট বিপ্লবের দাবীদার বিএনপি পেয়েছে মঈনউদ্দিন সাহেবের অর্ধেকেরও কম ১ হাজার ২৭৪ ভোট। এতেই বুঝা যায় যে, ধানের শীষের ভোট বিপ্লবের কাহিনী ছিল কাগুজে, বাস্তবের কিছু না।          

বিএনপির নেতাদের অনেকে বলছেন, ‘দ্য গেম ইজ নট ওভার ইয়েট।’ খেলা এখনও শেষ হয়নি। এখনও অনেক কিছুই বাকি। সামনে অপেক্ষা করছে অনেক কিছুই। আর বিএনপির নেতারা এসব কথা বলছেন লন্ডনে পলাতক তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার বরাত দিয়েই। তারেক জিয়া এখন দলের মধ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিএনপি’র এরকম একজন নেতা বলেছেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অনেক কিছুই হবে।’ মানে স্বপ্ন বিএনপি’র পিছু ছাড়ছে না, আশায় আশায় আছে বিএনপি অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় যাবার। 

‘নতুন বোতলে পুরাতন মদ’এর সেই গল্পের মত নতুন ধারায় পুরাতন খেলা শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে চাপে রেখে বিশেষ সুবিধা আদায়ে তৎপর দেশী বিদেশী শকুনেরা। ‘তদ্বির, টেন্ডার, বাণিজ্য বন্ধ; মন্ত্রীদের ১০ অনুশাসন আসছে’, এমন খবরে সাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষ উল্লসিত হলেও দলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদীরা গাছাড়া ভাব নিয়েছে। সুযোগ বুঝে জনঅসন্তোষ তৈরির ছাই চাপা আগুনে হাওয়া দিচ্ছেন অনেকেই তা ইতোমধ্যেই সরকারের নজরে এসে গেছে। এক কৌশল বার বার সফল হওয়ার নজীর আমাদের মত দেশে নেই। অপকর্মকারীরা যেমন নিত্য কৌশল পরিবর্তন করে, ঠিক তেমনি সরকারও নতুন নতুন ফাঁদ পাতে। ক্লু-লেস অপরাধ আজও পৃথিবীতে হয়নি, হবেও না কোনদিন। অপরাধী তার অপরাধের আলামত বা চিহ্ন রেখে যায় নিজের অজান্তেই। সেটা ধরেই এগুবে, এগুচ্ছে সরকারের ভিতরে কাজ করা অপরাধবিজ্ঞানীরা। সরকারের মধ্যে থাকা বা অবসরে যাওয়া কয়েকজন আমলাও চরম আতংকে আছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থান দেখে।      

পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, ‘নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মালিক, শ্রমিক ও সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আগামী একমাসের মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসন্তোষ কমেনি এই লেখা লেখা পর্যন্ত। শতাধিক গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার এটাকে আরও এক দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে চায়, দেখতে চায়, প্রমাণ চায় কারা এর পিছনে কল কাঠি নাড়ছে আড়াল থেকে।  

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বলছে যে, এই অসন্তোষের পিছনে রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে। যে ৭টা গামেন্টেসর বেতন দেওয়া নিয়ে এই গোলযোগের শুরু তার সবগুলোর মালিক কিন্তু এন্টি আওয়ামী লীগ ঘরণার লোক। এটাও খতিয়ে দেখছে সরকার। বিশেষ করে একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠন এবং কয়েকটি বাম সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসন্তোষে উস্কানি দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য এসেছে। তারা বলছেন যে, নতুন সরকারকে একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকই নয়, আরও বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবি সংগঠনের মধ্যে এই গ্রুপ কাজ করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে যেন সরকার একটি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং চাপের মধ্যে থাকে। যেখান থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা যায়। সে লক্ষ্যেই গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবি সংগঠনকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে’।

আরেকটি সুত্র বলছে যে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন একটু চাঙ্গা করা গেলেই শুরু হতে পারে কোটা বিরোধীদের আন্দোলন, নতুন করে। তারা এমন করমসুচী দেবে যাতে সারা দেশ অস্থির হয়ে পড়ে আর তাতেই ঘলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য লাশের জগান আস্তে পারে ভাইবার মান্নাদের মত মানুষদের মদদে। কারণ এদের পিছিনে পুরণ সমর্থন দিচ্ছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় দণ্ডিত কাদের সিদ্দিকীর মত অনেকেই।       

এই পরিকল্পনা আগেও ছিল। হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদির মত মিথ্যা খবর সয়াশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে নির্বাচন বানচালের কাজে ছাত্র, শ্রমিকদের কাজে লাগানো। অন্য খাতের পেশাজীবীদের কাজে লাগানো। যেহেতু গার্মেন্টস শিল্প আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আর কর্মসংস্থানের বড় খাত, যেখানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন, তাই এটাকেই টার্গেট করা হয়েছে সবার আগে। এটা মাথায় রেখেই হয়তো সফল গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও সাবেক বিজিএমই এর সভাপতি বর্তমান বাণিজ্য মন্ত্রি টিপু মুন্সিকে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পিছিনে নিরবে কাজ করছেন সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী ও কর্তাব্যক্তিগণ। যেহেতু কিছু প্রবীন অভিজ্ঞ মন্ত্রী এবার ক্যাবিনেট থেকে বাদ গেছেন, তাই তাদের ব্যাকআপ প্লান আছে পরিবহন খাতকে টার্গেট করে রেখেছে সরকার বিরোধীরা। কারণ গার্মেন্টসের সাথে পণ্য পরিবহন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর সরকারী দল ও জোটের লোকদের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফায়ার দিলে’ সরকার বিরোধীদের ঝামেলা কম হয়, সফলতা আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।    

নির্বাচনের পর পরেই নোয়াখালীতে ধর্ষণের ঘটনা সারা দেশকে হতবাক করে দেয়। সরকারের তৎপরতায় দ্রুত ধর্ষক ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার হয়। একটি সূত্রে জানা গেছে যে, মাত্র ৭ দিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে নয়াখালীর সুবর্ণ চরের ধর্ষনের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত। আসলে কী উদ্দেশ্য ছিল তার, তাদের? একটা সামাজিক বিরোধের ঘটনাকে কেন কে বা কারা রাজনীতির রঙয়ে রাঙ্গালো! ইতোমধ্যে কয়েকজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মানে ১৬৪ করেছে। এখন দরকার আসল ঘটনা জানা আর এই ঘটনার দ্রুত বিচারের চিন্তা করছে সরকার।

অভিজ্ঞ একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন যে, নির্বাচনের পর পরেই নোয়াখালীতে ধর্ষণের ঘটনা, ধাকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন সব কিছুই একই সূত্রে বাঁধা।                 

বাংলা ইনসাইডার