ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর শতায়ু নীতি!

সায়েদুল আরেফিন   
প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১১:০১ এএম
প্রধানমন্ত্রীর শতায়ু নীতি!

কোন দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য দরকার সেই জাতির উন্নত জনস্বাস্থ্য আর আর্থিক সচ্ছলতা, বিশ্বমানের শিক্ষা আর দক্ষ জনশক্তি, শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠা। তাই সেই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়ে গেল গত ৩ ফেব্রুয়ারি রোববার। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত নিরাপদ খাদ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যে ভেজাল রোধে দেশে বিশেষায়িত পরীক্ষাগার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কেন এই ঘোষণা দিলেন, তাঁর লক্ষ্য কী তা বুঝার জন্য আমরা আমাদের দেশের আর অন্যান্য কিছু তথ্য ঘেঁটে দেখতে পারি।         

সরকারী হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬.১৭ কোটি। যার মধ্যে ৮.১০ কোটি পুরুষ আর মহিলা ৮.০৭ কোটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে জনসংখ্যার বৃদ্ধির বর্তমান হার- ১.৩৭%। যা ২০৩০ সালে ১৮.৫ কোটি এবং ২০৫০ সালে ২০.৩৩ কোটিতে রূপান্তরিত হতে পারে বলে অনুমিত হয়। বর্তমানে আমাদের মোট জনসংখ্যাকে যদি বয়স অনুসারে ভাগ করি তবে ০-১৪ বছর বয়সী হচ্ছে ৩০.৮%, ১৫-৪৯ বছর বয়সী ৫৩.৭% আর ৫০-৫৯ বছর বয়সী হচ্ছে ৮.২%। অন্যদিকে ৬০ বছরের উর্ধ্বে ৮.১% বাংলাদেশের মানুষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। এর অর্থ হচ্ছে জাতিসংঘের হিসেব মতে বাংলাদেশের ৬১.৯০ ভাগ জনসংখ্যার অধিকাংশই কর্মক্ষম। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হিসাব ভিন্ন হবে, সে কথায় পরে আসবো। তবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের হিসেব মতেই কর্মক্ষম ব্যক্তি আরও যোগ হবে প্রায় ৫ কোটি পক্ষান্তরে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যক্তির, দেশে মৃত্যুহার কম বলে। আমাদের এই বিশাল কর্মক্ষম মানব সম্পদকে ব্যবহার করার জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিয়েছে। পদক্ষেপগুলো হচ্ছে-        

বিভিন্ন নামে গরীব গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা প্রকল্প যাতে করে মাতৃগর্ভে থাকা শিশু, আর জন্মের পরে মা তাঁর শিশুকে যত্ন নিতে পারে। শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। কারণ প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে শিশুর ব্রেইনের গঠন ঠিক হয় না, বড় হয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পেয়ে স্বাস্থ্যবান দেখা গেলেও তাঁদের শরীরে স্ট্যামিনা থাকে না, তাঁরা কঠিন, কঠোর পরিশ্রম করতে পারে না।  

সরকার দেশে উন্নত প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেছে যা শিশুর ব্রেইনের এনালিটিক্যাল ফ্যাকাল্টি ডেভেলপ করবে। ভালো মন্দ, সত্যা মিথ্যা বুঝার ক্ষমতা অর্জন করবে। পিইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত প্রাথমিক শিক্ষা চালু করার কাজ পুরোদমেই চলছে। সাথে প্রাথমিকের ড্রপ আউট ঠেকাতে প্রাইমারি স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ এর পাইলটিং হয়ে গেছে, এখন তা পুরোদমে চালুর অপেক্ষা।         

তথ্য প্রযুক্তির অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত প্রায়। এতে আর আগের মত মানুষকে সহজে ভুল বুঝানো সম্ভব হয় না, গুজবে কাজ হয় না। বাংলাদেশে এমন কোন গ্রাম পাওয়া যাবে না যে গ্রামের মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত নেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় নেই।   

সব চেয়ে যেটা খুব জরুরী তা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য। গ্রামে গ্রামে চালু হয়েছে ক্লিনিক, গ্রামের মানুষ পেতে শুরু করেছেন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা। মাদকমুক্ত একটা প্রজন্মের প্রত্যাশায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে বলা যায়। 

সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য নিরাপদ পানির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই নিরাপদ পানীয় আর খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে চলছে সর্বাত্মক কর্মসূচি। মানুষকে সচেতন করতে চলছে নানা কর্মসূচি, পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান। এদিকে নিরাপদ খাদ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খাদ্য পরীক্ষার জন্য একটি পরীক্ষাগার খুব দরকার। এটি আমরা স্থাপন করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কেন্দ্রীয় খাদ্য পরীক্ষাগার হবে। আর দেশের সব বিভাগীয় শহরে এর শাখা থাকবে। খাদ্য ক্ষতিকর বা তাতে ভেজাল আছে কি না, যে কোনো সময় যে কোনো জায়গা থেকে তা পরীক্ষা করার জন্য এই পরীক্ষাগার করা হবে।  

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন বলেন যে, ‘সুস্থ-সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই’ তখন সেই কথায় আমরা প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকের কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পায়। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকের ভাষায় ‘যখন স্বাস্থ্য অনুপস্থিত থাকে, সম্পদ নিরর্থক হয়’।  

গত কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা খবর ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় আমাদের মত বয়সীদের চোখে তা এড়ায়নি। সেটি হচ্ছে- ১৮৭৫ সালে ব্রিটেনে ‘দ্য ফ্রেন্ডলি সোসাইটি এক্ট’ এ ৫০ বছর বয়সী মানুষকেই বৃদ্ধ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে জাতিসংঘ বলেছে মানুষের বয়স ৬০ বছর হওয়া মানে বার্ধক্যের সীমানার কাছে পৌঁছে যাওয়া। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের নানান দেশের মানুষের গড় আয়ু আর তাদের কর্মক্ষমতা বিচার করে অন্য কথা বলছে। শূন্য থেকে ১৭ আন্ডার এজ, ১৮ থেকে ৬৫ হচ্ছে যুবকাবস্থা, ৬৬ থেকে ৭৯ হচ্ছে মধ্য বয়সী মানুষ আর ৮০ থকে ৯৯ বয়সের মানুষকে বলা হচ্ছে বয়স্ক মানুষ। ১০০+ বয়সের মানুষকে বলা হচ্ছে দীর্ঘজীবী বয়স্ক মানুষ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিন্তা ভাবনায় জারিত হয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়িয়ে ফেলতে চান! সেই জন্য কী তিনি এতসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন! তিনি কি আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষকে শতায়ু করে দেবেন, সেই নীতি নিয়েছেন! আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও শতায়ু হউন, দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর