ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডাকসু নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপচ্ছায়া

সাদিয়া হুমায়রা
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৯ রবিবার, ০৮:৫৫ পিএম
ডাকসু নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপচ্ছায়া

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ১১ মার্চ। গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারা অনুযায়ী ডাকসুর সভাপতি হিসেবে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গত ২৩ জানুয়ারি নির্বাচনের এই তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেন। নির্বাচনের ঘোষণার পরপরই জানা যায় ডাকসু নির্বাচন ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন সময়ের বহুল আলোচিত-সমালোচিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আগামীকাল ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ-নুর-ফারুক সহ আরও অনেকে। মুখ্য নেতাদের মধ্যে ভিপি পদের জন্য নুরুল হক নুর, জিএস পদের জন্য রাশেদ খাঁন এবং এজিএস পদের জন্য জন্য ফারুক হোসেন লড়াই করবেন।

প্রথমত, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এমনকি কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর এ কথাও বলেছিলেন যে, কোটা সংস্কার বিষয়ে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ দাবিদাওয়া পূরণ হলে এই পরিষদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনা পরিক্রমা শেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। বিসিএসসহ সব ধরনের সরকারি চাকরিতে যে কোটা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সেও অনেকদিন আগের কথা। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, কোটা আন্দোলনের নেতাদের পূর্ব ঘোষণামতো কিন্তু সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বিলুপ্ত হয়নি। বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি প্রমাণ করে দিয়ে দিনে দিনে কোটা আন্দোলনের নেতাদের রাজনৈতিক রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যার ধারাবাহিকতায় কোটা আন্দোলনের নেতারা এবার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যারা মূলত ডাকসু নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন শিবিরেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন।

কোটা আন্দোলন যে জামাত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি আন্দোলন এ কথা আর নতুন করে বলবার কিছু নেই। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের আন্দোলন মুলত জামাতেরই রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ২০০১ সালে যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় তখন নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বপ্রথম সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করার দাবি করে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে যার লিগ্যাসি বহন করছেন রাশেদ-নুর আর ফারুকরা।

শিবিরের পদধারী নেতাদের সঙ্গে কোটা আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের দহরম-মহরমের ছবি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। রাশেদ, নুর, দ্বীন মোহাম্মদরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে শিবিরের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতেন সে কথাও প্রমাণিত। বুকে-পিঠে আমি রাজাকার লিখে আন্দোলন করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর বা ছাত্রীর পায়ের রগ কাটার গুজব ছড়ানো কিংবা ভিসির বাংলো ভাংচুরের মত ঘটনাগুলো কোটা আন্দোলনের নেতাদের মূল উদ্দেশ্য পরিস্কার করে দেয়। এই উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করা, তারপর ঢাবিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের ফলে সম্ভব হয়নি।

আসলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরেরই নতুন রূপ। যেহেতু একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কারণে জামায়াতে ইসলামী এখন অনেকটাই কোণঠাসা, শিবিরকে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে; তাই জামাত-শিবিরের নেতারা নতুনভাবে, নতুন পরিচয়ে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। অপপ্রচার ও বিভিন্ন কূট কৌশলে দেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে চাপা দিয়ে রাখা স্বাধীনতা বিরোধী ইমেজটা আবার প্রকাশ্যে চলে আসায় শিবিরের পরিচয়টি পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে তারা নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন যার ফলে নতুন নাম ধারণ করে হয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। অবশ্য এই নাম বদলের রাজনীতি শিবিরের পুরনো কৌশল।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ছাত্র সংঘটনটির নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ। এই নামেই তারা বীভৎস সব অপকর্ম করেছিল। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী ছাত্র সংঘসহ সব ধর্মব্যবসায়ী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ১৯৭৬ সালের ৪ মে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন। তবু পূর্ববর্তী স্বাধীনতা বিরোধী ইমেজ ভবিষ্যতে সমস্যা করতে পারে এমন চিন্তাভাবনা থেকে ১৯৭৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জামাতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্র সংঘ’ নাম বদল করে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’ নামে যাত্রা শুরু করে। তবে নাম বদলালেও স্বাধীনতা বিরোধী আদর্শ থেকে কখনো একচুলও বিচ্যুত হয়নি সংগঠনটি। এবার নাম বদলের সেই পুরনো ঐতিহ্য অনুসরণ করেই আবার অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পর ছাত্রশিবির হয়ে গেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ঐতিহ্য অনুযায়ীই ধারণ করছে স্বাধীনতা বিরোধী আদর্শ।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা বরাবরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে আসছেন। এই অস্বীকার কৌশলটিও কিন্তু নতুন কিছু নয়, ঠিক নাম বদলের চর্চার মতোই। অতীতেও ছাত্রশিবিরের নেতারা ছাত্রসংঘের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্ক থাকার কথা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন নির্লজ্জভাবে যে অস্বীকার প্রবণতা এখন আমরা লক্ষ্য করছি রাশেদ, নুরদের মধ্যে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও ডাকসু নির্বাচনে জিতলে স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপার অবস্থান কী হবে তাদের, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেননি কোটা আন্দোলনের নেতারা।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সঙ্গীতাঙ্গনের তারকা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলন গ্রুপের সদস্যদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে অভিসম্পাত করা হয়েছে এবং গ্রুপের এডমিন প্যানেলের পক্ষ থেকে এসব পোস্ট বা কমেন্টের বিরুদ্ধে যথারীতি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া বুনো উল্লাস দেখা গেছে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতেও। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির কারো মৃত্যু ঘটলে কোটা আন্দোলনকারীদের আনন্দযজ্ঞ বারবার প্রমাণ করে দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলন কোনো সাধারন ছাত্র আন্দোলন ছিল না, ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি আন্দোলন। এই আন্দোলন যদি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন হত তবে আন্দোলনের যে মূল দাবি কোটা সংস্কার, তা আদায় হয়ে যাওয়ার পর এই আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ও এর নেতাদের এখনো এত রমরমা থাকতো না।

কোটা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর রাশেদ, নুর, ফারুকরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতেন। কিন্তু তা না করে ডাকসু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের আপাদমস্তক রাজনৈতিক চরিত্র ও দূরভিসন্ধিরই প্রকাশ ঘটায়। রাশেদ-নুর-ফারুকরা ডাকসু নির্বাচনে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন শিবিরকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন ও নিরাপদ পরিচয়ে শিবিরের বিষবাষ্প গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই তাদের পরিকল্পনা।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, স্বাধীনতার পর শিবির একবারই ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পেরেছিল যার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। ছাত্রশিবির নাম ধারণ করে পুনরায় রাজনীতি শুরু করার এক বছরের মধ্যেই তারা নিজেদের আসল রূপে আবির্ভূত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সে বছর শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনন্য উদাহরণ হয় দাঁড়িয়ে থাকা ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভেঙে ফেলার জন্য স্বাক্ষর গ্রহণ করতে শুরু করে। কিন্তু প্রগতিশীল ছাত্রসমাজের এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে রাতের অন্ধকারে শিবির অপরাজেয় বাংলা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু সচেতন ছাত্রসমাজের প্রতিরোধের ফলে তাদের সে দুরভিসন্ধিও সফল হয়নি। এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনোই প্রকাশ্যে আসতে পারেনি স্বাধীনতা বিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রায় তিন দশক পর সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আবেগ এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক অসচেতনতাকে পুঁজি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছেন শিবিরের নেতারা। তার ওপর আগামীকাল কোটা আন্দোলনের নেতারা যদি ডাকসু নির্বাচনে জিতে যান, জিতে যান হল সংসদগুলোর নির্বাচনে তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির উত্থান ঘটবে শক্তিশালী রূপে যার স্বরূপ কেমন হতে পারে তা অতীতেই শিবির দেখিয়েছে।

অপরাজনীতির চর্চা, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম কিংবা স্বজনপ্রীতির মতো বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা ও গবেষণার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে এখনো অসংখ্য জায়গায় উন্নতি ঘটাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। কিন্তু দিনশেষে এটাই সত্যি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র এই বিশ্ববিদ্যালয়। এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিকল্প বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি থাকবে নাকি স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি থাকবে সেটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, বরং পুরো দেশের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। । কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা হয় তার প্রভাব পড়ে গোটা দেশের ওপর। ঢাবির ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন থেকে যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুবাস ছড়ায় তাহলে তা ক্যাম্পাসের গন্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় দেশের সকল তরুণ-যুবার মধ্যে যা অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে মূলধন হিসেবে কাজ করে। আর যদি মধুর ক্যান্টিন পরিণত হয় স্বাধীনতা বিরোধীদের আড্ডায় তাহলে পুরো দেশেই হুমকির মুখে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এসব বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বাছাই করবেন নাকি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে নিজেদের প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দেবেন।

অতীতে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শিবিরকে রাজত্ব কায়েম করতে দেখেছি যা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রঞ্জিত এই দেশের জন্য অত্যন্ত গ্লানিকর। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কখনোই ঘাঁটি গাড়তে পারেনি। আজ যদি শুধু একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার হিসাব-নিকাশ মেলাতে গিয়ে ঢাবির শিক্ষার্থীরা শিবিরকে ক্যাম্পাসে জাকিয়ে বসার সুযোগ করে দেয় তবে তা সামনের দিনগুলোতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই নয়, পুরো জাতিকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর