ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভিপি নুরের মুখোশ খুলছে

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৪:০৪ পিএম
ভিপি নুরের মুখোশ খুলছে

সোশ্যাল মিডিয়া আর অনলাইন পোর্টালের বদৌলতে আস্তে আস্তে মিথ্যার নেকাব খুলে পড়ছে। মাইনাস টু ফর্মুলার অন্যতম কুশলীব তাঁদের সুপ্ত মনোবাসনা পূরণে সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিতভাবে নুরুকে হিরো বানানোর নানা অপচেষ্টায় নামার প্রমাণ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়ে গেছে। এর পেছনে কোন প্রভাবশালী শক্তি রয়েছেন তার একটা মোটামুটি ধারণ পায়া গেছে।

১০ বার বিরোধীদের হামলার শিকার ডাকসুর ভিপি নুরুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগে সয়লাব নেট দুনিয়া। অনেকেই তাঁকে নিয়ে মজা করে বলছেন যে, তিনি আহত আহত খেলার সফল অভিনেতা, সংগঠনহীন ছাত্র রাজনীতির অন্যতম নায়ক ভিপি নুরুল হক। কার প্রশ্রয়ে ভিপি ভিপি নুরুল হক এগুলো করছেন তার কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ার মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে গেছে।

ডাকসুতে সর্বশেষ হামলার আগের ঘটনার একটা ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, বহিরাগত পরিবেষ্টিত নুরু মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের কর্মীদের আহবান জানাচ্ছে, ‘আয় দেখি কত ক্ষমতা’। বিভিন্ন ঠিকাদারের কাজ পাইয়ে দেবার তদ্বির, টাকা আয়ের নানা ধান্দা, এক লাখ টাকার উপরের ভাড়ায় নিজের জন্য ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নেবার জন্য কথা বলা, ইত্যাদি নানা ধরনের অডিও, ভিডিও ক্লিপে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব।

অন্যদিকে, ভিপি নুর আর তারেক জিয়ার আলাপের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল নামে চারটি আইডির গ্রুপ চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট পায়া গেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট গ্রুপটির নাম `টিম ফোর`। স্ক্রিনশটে দেখা যায়- তারেক নামের আইডি থেকে লেখা হয়েছে, নুর আন্দোলন তো জমলো না। উত্তরে নুর নামের আইডি থেকে লেখা হয়েছে, স্যার সব চেষ্টা তো হলো। উত্তরে তারেক নামের আইডি থেকে লেখা হয়, আরও প্ল্যান করে করা উচিত সব। আমি আগেও বলেছি, লাশের বিকল্প নাই। যেকোনো উপায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তপ্ত করতে হবে। সকল নির্দেশনাই দেয়া হয়েছিল।

এরপর আসিফ নামের আইডি থেকে লেখা হয়, কামাল স্যারের সাথে তো বসা যায়। উত্তরে তারেক নামের আইডি থেকে লেখা হয়, নো, ভ্যালুলেস। এরপর মান্না নামের আইডি থেকে লেখা হয়, বাম ছাত্র-সংগঠনগুলোর কী অবস্থা নুর? নুর নামের আইডি থেকে লেখা হয়, আমাদের সাথে আছে স্যার। মান্না নামের আইডি থেকে নির্দেশনা আসে, কাজে লাগাও। নুর নামের আইডি থেকে তখন ছুরি হাতে শিবির নেতা বলে পরিচিত যুবক সালেহ উদ্দিন সিফাতের ছবি দেয়া হয়।

ছবি দেখে মান্না নামের আইডি থেকে মন্তব্য করে লেখা হয়, ওদের কাজই এগুলো করা। এখন সত্য কিছু দিলেও পাবলিক আর বিশ্বাস করে না ওদের। এরপর নুর নামের আইডি থেকে লেখা হয়, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মামুনদের ধরা না হলে আন্দোলন জমতো। আর ফারাবিও সুস্থ হয়ে গেল। তখন তারেক নামের আইডি থেকে লেখা হয়, টক টু নিউ জেসিডি কমিটি, ডু সামথিং ইন প্রোপার ওয়ে।

অন্যদিকে মাইনাস টু ফর্মুলার অন্যতম নায়ক যিনি একটি বাংলা পত্রিকার সম্পাদক, তাঁর দৈনিকের কয়েকটি নিবন্ধের শিরোনাম দেখলে অনুমান করা যায় তারেক, মান্না, আসিফ নজরুলের সাথে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে তারা আছেন। ২৬.১২.২০১৯ তারিখে উনার পত্রিকায় “অশান্ত সময়ের হিরো”, “বিগত বছরের নায়ক কে?” ২৭.১২.২০১৯ তারিখে “নিরাপত্তা নিয়ে শুধু তরুণেরা নন, সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন”, “সামাজিক আন্দোলনে আগ্রহ প্রবল” ইত্যাদির মাধ্যমে নুরুকে হাইলাইট করার জন্য জান বাজি রেখে আকু পাকু করা হয়েছে। নানাভাবে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, নুরু এসময়ের হিরো। 

ফোনালাপ ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার তুঙ্গে থাকা ডাকসুর বিতর্কিত ভিপি নুরুল হক নুরের আরও কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নুরের যে পেজটি রয়েছে, তাতে মোট ১২ অ্যাডমিনের দুইজন অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। এই দুই অ্যাডমিন মূলত লন্ডনে বিএনপি-জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্য।

নুরের ফেসবুক পেজের ট্রান্সপারেন্সি ফিচারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১০ জনের প্রাইমারি কান্ট্রি লোকেশন দেয়া বাংলাদেশ, আর বাকি দুইজনের লোকেশন যুক্তরাজ্য।

এ ব্যাপারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জানা গেছে যে, ওই পেজের যুক্তরাজ্যে যে অ্যাডমিন রয়েছে, তার অবস্থান পূর্ব লন্ডনের ১১২-১১৬ হোয়াটচ্যাপেল রোডে। অর্থাৎ, লন্ডনের ১১২-১১৬ হোয়াটচ্যাপেল রোডের বাড়িটি মূলত বিএনপির লন্ডন অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল ওই অফিসটি উদ্বোধন করেন বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত পলাতক নেতা তারেক রহমান। ওই অফিস থেকেই বিএনপির সাইবার টিম দেশ ও সরকারবিরোধী নানা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে থাকে। এছাড়া পেজের অপর যে অ্যাডমিন লন্ডনে অবস্থান করছেন, তিনি ‘ইউকে বাঁশের কেল্লা’ নামে জামায়াত-শিবিরের একটি পেজ পরিচালনার সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে জানা যায়।

এটা জানতে পেরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অনেক নেতা কর্মী নুরুর সংগ ত্যাগ করার খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা দাবি করেছেন যে, ভিপি নুর বিএনপি-জামায়াতের হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে `উসকানিমূলক` বক্তব্য এবং ছাত্রলীগ সম্পর্কে `অসম্মানজনক ও মানহানিকর` বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনে ডাকসুর ভিপি নুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অর্ণব হোড়৷ এর আগে গত ২৫শে ডিসেম্বর বুধবার নুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যাচেষ্টা ও হামলার অভিযোগ এনে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র ডিএম সাব্বির হোসেন। গত ২২শে ডিসেম্বর ডাকসুতে হামলায় নুরসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে যাবার পরেও অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। এভাবেই নুরুর মিথ্যাচারের মুখোশ এঁকে এঁকে খুলে পড়ছে।

তথ্যঋণ: সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল, ইত্যাদি

সায়েদুল আরেফিন

লেখক, উন্নয়কর্মী ও কলামিস্ট