ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিটি নির্বাচন বর্জনের নীল নকশা চূড়ান্ত!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
সিটি নির্বাচন বর্জনের নীল নকশা চূড়ান্ত!

২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে। তখন বাংলাদেশ হবে ২৪ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০১৮ সালে অর্থনীতিবিদগনের ভাষ্য ছিল যে, ২০৩৩ সালে আমাদের পেছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। আগামী ১৫ বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ বা তার উপরে থাকবে।

এমন বাস্তবতায়, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করে সরকারের উন্নয়নকে ব্যাহত করার প্রাণান্ত চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেলে যাদের লাভ তাঁরাই সরকার আর সরকারী পদক্ষেপ সমূহকে বিতর্কিত করার জন্য জানবাজি চেষ্টা চালাচ্ছে। আশু পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ বিরোধীরা বাংলাদেশ চলমান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে বেছে নিয়ে সরকার বিরোধীদের মদদ দিচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবরে জানা গেছে যে, অতীতে বিএনপি বা অন্য দল করতেন এমন কিছু আওয়ামী লীগ নেতা যাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ দুর্নীতির অভিযোগে তাঁরা নিজে বা নিজের লোকেরা দলীয় মনোনয়ন পাননি এমন সব নেতারা নিজেদের মধ্য যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯টিতে ৬৭ জন এবং উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টিতে ৩৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে অনেককেই টাকা দিয়ে মাঠে সক্রিয় রাখার কৌশল নিয়েছেন।

দল থেকে বারবার সতর্ক করার পরও শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল অনুসন্ধান করে দেখেছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা যারা অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে বা যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা দুর্নীতিতে প্রশ্রয়ের অভিযোগ আছে তাঁরা বিদ্রোহীদের ইন্ধন দিচ্ছেন। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত একাধিক নেতা দেশে ফেরার পরেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো না দেখতে পাওয়ায় অনেক দুর্নীতিবাজ নেতা উৎসাহিত হয়েছেন বলে জনমনে এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁরা মনে করেন যে, টাকা দিয়ে এসব সন্দেহভাজন কিছু নেতাকে ম্যানেজ করে তাঁদের অবস্থান ঠিক করে নিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের সম্পাদক-মণ্ডলীর বৈঠকে বিদ্রোহী ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁরা এটাও বলেছেন যে, গত কয়েক বছরে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে সংগঠন বিরোধী কাজে এখনো অনেকে লিপ্ত আছেন। তাই পুরাতন কৌশলে তারা মাফ পাওয়ার চিন্তায় বিভোর। কারণ, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেওয়াদের বহিষ্কারের মত কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হলেও দলের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। বরং পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে তাঁরা আরও শক্তিশালী হয়েছেন।

সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের নিয়েও অনেক খেলা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্তাগণ এখন বাঘের মত হুংকার দিচ্ছেন, আইনের দোহাই তুলে। তাঁরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে কিন্তু এসব কিছুই বলেন নি। ভোটকেন্দ্রও সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হয়। ঢাকার দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্র দুই হাজার ২০০টি। এর মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছরই পূজার আয়োজন করা হয়। ফলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ অনেক কেন্দ্রে এক শ্রেণির ধর্ম বিশ্বাসীদের মনে আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এর পরবর্তী বক্তব্য অনেকাংশেই সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। অনেকে ভাবতে শুরু করেছেন যে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিতর্কিত তারিখ ঘোষণার ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর পিছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে কি না বা কারা কাজ করছেন তা নিয়ে এখন গোয়েন্দারা কাজ করছেন। ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যারা চট্টগ্রাম -৮ আসনের উপনির্বাচনে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নি, তারা এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির মাঠ ঘোলা করার পাঁয়তারা করছে। এখানে টাকার কোন খেলা আছে কি না তাও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পূজার দিনে সিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, ইভিএমএর ব্যবহার, বিএনপি মনোনীত দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা এবং সবশেষে নির্বাচনের দিন এজেন্টের স্বল্পতার কারণে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভয় ভীতি দেখানোর মিথ্যা অজুহাত কিংবা টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কমিশনার প্রার্থীদের দিয়ে শেষ মুহূর্তে ভোট কেন্দ্রে গোলমাল বাঁধিয়ে গতবারের মত নির্বাচনের দিন মাঝ দুপুরে নির্বাচন বয়কটের মত ঘোষণা আসবে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। এদিকে গ্রেফতারী পরোয়ানা পেয়ে দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক ও তার সহযোগীদের নিয়ে আওয়ামী বিরোধী বুদ্ধিজীবীগণ বিবৃতির প্লাটফরমে এক হয়েছেন। তাঁদের কারো কারো সাথে স্বাধীনতা বিরোধী আর লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতার যোগাযোগ অনেক পুরাতন, যা চাঙ্গা হবার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। অবস্থা বুঝে বিএনপি’র লন্ডনে পলাতক নেতা এই সুযোগ লুফে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতার মনোনয়ন বাণিজ্য যা হবার তা হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জয়লাভ করলেও সরকার পতনের কোন সম্ভাবনা নেই। সিটি নির্বাচনে কয়েকটি কমিশনার পদে জয়লাভ করা ছাড়া বিএনপি’র হাতে তেমন ভালো কোন ফল আসার সম্ভাবনা নেই তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই নির্বাচন বয়কট করে আন্তর্জাতিক দেশে পরিমণ্ডলে সরকারকে বিব্রত করে উন্নয়ন যাত্রাকে ব্যাহত করার নীল নক্সা চূড়ান্ত হবার তথ্য পাওয়া গেছে। নীল নকশা বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রকারীরা কতটুকু সফল হয় তা দেখতে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।