ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উচ্ছ্বসিত ৩৭ নয় দফা একটি, তা হলো ‘নাগরিক সেবা’

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৬:৪০ পিএম
উচ্ছ্বসিত ৩৭ নয় দফা একটি, তা হলো ‘নাগরিক সেবা’

৩৭ দফা মেয়র প্রার্থীর থাকতে পারে , কিন্তু একজন ভোটার বা রাজধানীবাসি হিসেবে মেয়রদের কাছে আমার দাবি একদফা। আর সেটা হচ্ছে ‘‘নাগরিক সেবা’’। কথাটা বলতেই হলো সিটি নির্বাচনে ঢাকার উত্তরের মেয়র র্প্রাথী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী ইশতেহার পেয়ে। আতিকুল ইসলামের নয় মাস সিটি করপোরেশন চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। অবিভক্ত ঢাকার সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে যে দুজন মেয়র দায়িত্ব পালন করে প্রয়াত হয়েছেন সেই মোহাম্মদ হানিফ ও সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বলা যায় , তারা দুজন দুটি করে দলীয় সরকারের আমলে মেয়াদের থেকে বেশি সময় মেয়র থেকেও রাজধানীবাসীর সকল নাগরিক সেবা নিশ্চি করতে পারেন নি। এখন পর্যন্ত মেয়র হিসেবে আমরা প্রয়াত আনিসুল হকের কথাই বলি। কিন্তু সেই উদাহরন অনুসরন করে এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে যে দুজন দায়িত্ব নিবেন ‘খণ্ডিত নগরপিতা’ হিসেবে তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

রবিবার উত্তরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতে হারে ৩৭ দফার কথা বলেছেন। আর এই দফাগুলোর মধ্যে মোটা দাগে আছে তিনটি বিষয়। ক. সচল ঢাকা খ. সুস্থ ঢাকা এবং গ. আধুনিক ঢাকা। সচল ঢাকা নির্মাণের জন্য ১৪টি , একটি সুস্থ ঢাকার জন্য ১৩টি এবং আধূনিক ঢাকার জন্য ১০টি মিলিয়ে মোট ৩৭টি প্রতিশ্রুতি। নিশ্চিত হয়ে বলা যায় এই ৩৭টি দফার প্রতিটি বাস্তবায়নই এক একটি চ্যালেঞ্জ। ‘‘নগর সরকারের’’ বহুল উচ্চারিত,আলোচিত এবং ক্ষমতাসীনদের কাছে উপেক্ষিত বিষয়টিকে সামনে আনতে চাই না। কিন্তু ঢাকার দুই মেয়রের পক্ষে যানজট নিরসন সম্ভব কি না , বিরাট প্রশ্ন। যানজট নিরসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত DMP ,BRTA , DTCA, DSCC এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে যত সমন্বয়ের কথাই বলা হোক না কেন, বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব যদি না সরকারের শীর্ষমহল যানজট নিরসনে আন্তরিক না হয় । আর এখন মেট্রোরেলের যে মূলা রাজধানীবাসীর সামনে ঝুলছে তার সুফল পেতে ২০২০ সালে নির্বাচিত মেয়দের মেয়াদ শেষ হবে , কিন্তু যানজট নিরসন হবে না। বাসরুটের ফ্রাঞ্চচাইজির তত্ব প্রয়াত মেযর আনিসুল হক সামনে এনেছিলেন , তা তার প্রয়ানের সাথে সাথে প্রয়াত না হলেও খুব বেশিদুর যে আগায়নি তাতো স্পষ্ট। এই প্রক্রিয়ার কাছে জড়িত একজন বিশেষজ্ঞের কাছে প্রশ্ন ছিল ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ঢাকায় কয়েকহাজার বাস চলাচল কমাতে হবে , মালিকপক্ষ কি তাতে রাজী হবে? একজন মালিকের উপিস্থতেই সেই প্রশ্নের জবাব মেলেনি। আতিকুল ইসলাম বলেছেন  রাজধানী ঢাকায় তিনি আলাদা সাইকেল লেন ও সাইকেলের পার্কিং তৈরী করতে চান। হয়তো তিনি সিরিয়াস ,কারন আতিকুল ইসলামকে সাইকেল চালিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে দেখেছে ভোটাররা। কিন্তু একটি প্রায় অসম্ভব বিষয় , যদি এটাতে আংশিকভাবেও তিনি সফল হন , তাহলে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের পরিবেশবাদীদের কাছে প্রশংসিত হবেন। কিন্তু ৩৭ দফায় যে অবৈধ রিক্সার কোনো উল্লেখ নাই , তার কি হবে?

সচল ঢাকা রাজধানীর হকারদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের কথা আছে আতিকুল ইসলামের ইশতেহারে , খুবই কঠিন কাজ। অনেক হুংকার দিয়েও দক্ষিণ সিটির বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন কিছুই করতে পারেন নাই। আমরা মেয়র আতিক জয়ী হলে খুব করে চেপে ধরবো এই প্রতিশ্রুতিটি দ্রুত বাস্তবায়নে। হকার লীগ তখন তার সাথে থাকবে কি না সে সম্পর্কে সন্দেহ রেখেই দিলাম। বায়ুদুষনে রেকর্ডতম প্রথম স্থান অধিকারী একটি মহানগরের মেয়র প্রার্থী যখন বায়ুদূষনরোধে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালু করতে চান, তখন আমরা আশাবাদী হতে চাই। ‘‘সবার ঢাকা’’ নামের এ্যাপস দিয়ে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহন  ও সার্বক্ষণিক তদারকিসহসব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, যেখানে মেয়রের সঙ্গে নাগরিকদের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে বলে আতিকুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা তার বাস্তবায়ন চাইবো। কিন্তু তার আগে বলবো গান গেয়ে, চা বানিয়ে খাইয়ে, ক্রিকেট খেলে,সাইকেল চালিয়ে ভোটের প্রচার যত সহজ, তার থেকে কঠিন বিজয়ী হওয়া । আর তারও চেয়ে শতগুন কঠিন মেয়র হিসেবে সফল হওয়া। তারপরও শুভকামনা রইলো আতিকুল ইসলামের জন্য।