ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সচল- আধুনিক ঢাকা বনাম ইন্টেলিজেন্ট ঢাকা

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২০ সোমবার, ১১:১০ পিএম
সচল- আধুনিক ঢাকা বনাম ইন্টেলিজেন্ট ঢাকা

বলা যায় অন্তত নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সংখ্যায় এগিয়ে গেলো ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থি তাবিথ আউয়াল। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের ৩৭ দফার বিপরীতে তাবিথ আউয়াল দিয়েছে ১৯ টি ক্ষেত্রে মোট ৯৫ টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আতিকুল ইসলামের সচল ঢাকা, সুস্থ ঢাকা ও সচল ঢাকার কথাকে অতিক্রম করে তাবিথ আউয়াল বলেছেন ‘‘ইন্টেলিজেন্ট ঢাকার’’ কথা। তবে ইশতেহারে যথারীতি আছে বছর জুড়ে মশা মারা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ঢাকা এবং রাজধানীর যানজট নিরসনের কথা। আতিকুল ইলেকট্রনিক্স বাস চালুর কথা বলেছেন , তাবিথ আউয়ার আগ বাড়িয়ে বলেছেন হাউড্রোজেনচালিত বাসের কথাও।

ঢাকা অ্যাপের কথা বলেছেন আতিকুল ইসলাম। সেটাকে আরো একটু ডিজিটাইস করে তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন তিনি ‘ডেটা অ্যানালাইসিস ও ফেইস রিকগনিশন’ চালু করে নাগরিক সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যাবসায়ী তাবিথ আউয়াল। গত পাঁচ বছরে বিরোধীদলে থেকেও যার বার্ষিক আয় ও সম্পদের পরিমান বেড়েছে। তাবিথ আউয়াল অবশ্য দাবি করেন যে ঋণের পরিমান কমিয়েছেন তিনি, তাই হিসেবের খাতায় আয় বেড়েছে। 

আমরা যারা দীর্ঘদিন নগরভবনে যাতায়াত করেছি সাংবাদিকতার সূত্রে তারা জানি যে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যিনি তাবিথ আউয়ালের পিতা, তিনি অভিভক্ত ঢাকার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। শুধু তাই নয়, মেয়র হলে কিভাবে ঢাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন তা নিয়ে একটি বইও লেখা আছে তার। ২০১৫ সালের মেয়র নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের প্রার্থী হওয়ার জন্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু মনোনয়পত্র দাখিল করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু এক রহস্যজনক কারনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায় ‘ত্রুটি থাকার’ কারণে। আর গৃহীত হয় ছেলে তাবিথ আউয়ালের মনোনয়নপত্র। সোমবার তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে আব্দুল আউয়াল মিন্টু নিজে উপস্থিত থেকে ভোট চেয়েছেন।

গতবারের নির্বাচনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাবিথ আউয়াল ভোটের দিন দুপুরেই ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার শুরুতেই তাকে বারবার এ প্রশ্নেরই মুখোমুখি হতে হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন কি না? এবার অবশ্য দলগতভাবে বিএনপি বলছে যে তারা ভোট বর্জন করবে না, তাবিথ আউয়ালও সেটা জোর দিয়ে বলছেন। আর রাজধানী ঢাকার উন্নয়ন,নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা নাকি শুধু দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের মহড়া হিসেবে নগর নির্বাচনে এসেছে বিএনপি, এই সমালোচনার জবাব দিতে হচ্ছে বিএনপি এবং প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়ালকে।

উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাবিথ আউয়াল সাহস পাচ্ছেন সিলেটের আরিফুল হক বা কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর জয় থেকে। পাশাপাশি হয়তো তিনি নিজেকে অনেক বেশি ডিজিটাল হিসেবে দেখাতে চান। কারন সরকার এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াকেই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর সেজন্যই কি তাবিথ আউয়াল রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ‘রিমোর্ট ও র্ভাচুয়াল’ চিকিৎসাসেবা এবং ইন্টেরিজেন্ট ঢাকার কথা বলছেন। কারন আমরা এরই মধ্যে পরিচিত আছি রোবট মানবি সোফিয়ার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাথে। আবার বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর অতীতের আওয়ামী রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে তাবিথ আউয়ালের আত্মীয়তাও ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে স্বাচ্ছন্দ দিচ্ছে বলেও প্রচারনা আছে।

তাবিথ আউয়াল ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র প্রার্থী আর আতিকুল ইসলাম ৯ মাসের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাবেক মেয়র। আবার নিজে ব্যবসায়ী এবং তৈরী পোষাক রপ্তানীকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক শীর্ষ নেতার পালকও আছে আতিকুল ইসলামের সাফল্যের টুপিতে। মেয়র হিসেবে তাকে অবশ্য ব্যার্থ বলেই দুষছেন তাবিথ আউয়াল। আর তা মূলত এডিসের দংশনে ডেঙ্গুজ্বরের মরন কামড়ের কারনেই। ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ কিন্তু সাবেক বর্তমান এবং ভবিষ্যত সকল মেয়রের জন্যই।

সরকারের উন্নয়ন কাজের ধোয়া ঢাকার বাতাসে, মেট্রোরেলের কারনে সংকুচিত রাস্তায় সিটি নির্বাচনী প্রচারনায় যানজট,শব্দদূষনে অতিষ্ট নগরবাসী ইভিএমে ভোট দিয়ে কাকে বেছে নিবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১ ফেব্রুয়ারি ভাষার মাসের প্রথম দিন পর্যন্ত। যে ভোটের কারনে বইমেলা উদ্ধোধনের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানও পিছিয়েছে সেই ভোটে নৌকার পালে হওয়া লাগবে নাকি ধান থেকে চাল হবে তা নির্ধারনে দরকার একটি সুষ্ঠ নির্বাচন। তাবিথ আউয়াল জয়ী হলে নগরবাসী অপেক্ষকৃত তরুন মেয়র পাবে, আর তারুণ্যের জন্য আমাদের শুভ কামনা সবসময়ই।