ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভোট বিতর্কিত করার পরিকল্পনা ফাঁস! 

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার, ০৫:৫৯ পিএম
ভোট বিতর্কিত করার পরিকল্পনা ফাঁস! 

ঢাকা মহানগরীর ভোট সারা দেশে কাড়া নাকাড়া বাজাচ্ছে। ইতোমধ্যে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সম্ভাব্য হরতালের খবর বেরিয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত মনে হলেও গোয়েন্দা তদন্তের ভিত্তিতে ১৫৯৭টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটের দিন পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র‌্যাব , বিজিবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পর্যবেক্ষক কার্ড সংগ্রহ করেছেন। ৭ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধি ঢাকা সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এদের মধ্যে আমেরিকার ২৭ জন, ব্রিটিশ ১২ জন, সুইজারল্যান্ডের ৬ জন, জাপানের ৫ জন, নেদারল্যান্ডসের ৬ জন, ডেনমার্কের ২ জন, নরওয়ের ৪ জন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৫ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করতে পারেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। 

এছাড়া নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দেশি ২২টি সংস্থার ১ হাজার ১৩ জন পর্যবেক্ষক সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৫০৩ জন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। আর কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৩ জন।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন কমপক্ষে ২০টি জেলায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত প্রায়  ১০০ স্কুলে আগুন দেয় বিএনপি তথা ২০ দলীয় জটের নেতা কর্মীরা। সেই কৌশল এবার হবে না। কেন্দ্রে ছাপ্পা মারাও কঠিন হবে বড় দুই দলের জন্যেই। 

ধনিয়ায় ব্যারিস্টার তাপসের ক্যাম্পে অগ্নি সংযোগ, গোপীবাগে মারামারি, মিরপুর ও গাবতলিতে নির্বাচনী প্রচার মিছিলে হামলার যে ঘটনা ঘটেছে তাকে গোয়েন্দারা বড় হামলার রিহারসেল বলে সন্দেহ করছেন। এমতাবস্থায়, বিকল্প হিসেবে লন্ডনে বসে নতুন ফর্মুলার সন্ধান করে হোম ওয়ার্ক  সম্পন্ন করার খবর পাওয়া গেছে।

গত ২৬ জানুয়ারি একটি বহুল প্রচারিত প্রাচীন দৈনিকে খবর বেরিয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগে ২০০৯ সাল থেকে ঢালাওভাবে হয়েছে গত ১১ বছরে ৫৫ হাজার বিরোধী মতাদর্শী আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছেন। বিষয়টি দলের জন্য অশনিসংকেত—সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে আসায় বিতর্কিত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হলেও পরিস্থিতি সামাল  দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।  দলের বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রুপিং, পদ বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্যের বদৌলতে বিএনপি, জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি সহ রাজাকারের আওলাদেরা এখন তৃণমূলে শক্ত অবস্থান নিয়ে ফেলেছে। তাদের অনেকের আছে দলের পদ ও পদবী। এদের অনেকের সাথে লন্ডন কানেকশন এখনো বেশ শক্ত। একই সঙ্গে এসব পদবি ব্যবহার করে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ ব্যবসা, বাণিজ্য, ঠিকাদারিসহ সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছেন। এমনকি মাদক ব্যবসায় জড়িত তাদেরই সিন্ডিকেট।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই এখন ঢাকার পথে। এদের সাথে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কিছু বিদ্রোহী কমিশনার প্রার্থীর যোগাযোগ আছে। এদের সাথে মিশে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে, আওয়ামী লীগের ব্যাজ পরে নগরীর উপকণ্ঠের কিছু কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করার খবর আছে গোয়েন্দাদের কাছে। নির্বাচনকে বিতর্কিত করে সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্যে। একই সাথে তাদের দলে যোগ দিয়েছেন কিছু আওয়ামী লীগ বিরোধী সাংবাদিক, সাথে আছে বিশাল গ্রুপ যারা কিছু কনটেন্ট তৈরি করে রেখেছে যার সাথে কিছু কেন্দ্রের গোলযোগের ছবি জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে পারলেই ভোটেও প্রভাবিত করা যাবে। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের কাছেও  সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।     

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভোট বিতর্কিত করার পরিকল্পনা ফাঁস হবার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় আর ষড়যন্ত্রকারীদের কীভাবে মোকাবিলা করে তা এখন দেখার বিষয়।