ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বড় লসের মুখে বিকাশ

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার, ০৩:৪৩ পিএম
বড় লসের মুখে বিকাশ

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবা প্রদানকারী কর্মসূচির নাম বিকাশ। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে বিকাশ একাউন্ট খুলে একজন গ্রাহক বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে তার মোবাইলে অর্থ জমা, উত্তোলন এবং নিজের মোবাইল থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন।

২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই আর্থিক সেবা দেশের প্রান্তিক জনগণের আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। রবি আজিয়াটা লিমিটেড, বাংলাদেশকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর সহযোগী হিসেবে নিয়ে বিকাশ আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানের কার্যক্রম শুরু করে ২০১১ এর ২১ এ জুলাই।

`বিকাশ` ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ এবং মানি ইন মোশন, ইউএসএ এর একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, এবং লাভের অংকটা খুব বড় হওয়ায় ২০১৩ এর এপ্রিল মাসে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও `বিকাশ` এর অন্যতম অংশীদার হয়।

বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে সহজে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর জন্যে দেশব্যাপী বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক একটি দ্রুত ও দক্ষ মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, এমন ধারণা থেকেই বাংলাদেশে বিকাশ সার্ভিসের উৎপত্তি হলেও তা এখন খুব বড় ব্যবসায় রূপান্তরিত হয়েছে।

অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতই বাংলাদেশেও মানুষ গ্রামে পরিবারের ভরণপোষণের লক্ষ্যে কাজের জন্যে সমমুখী হয়। এ ধরনের কর্মজীবীদের জন্যে সহজ ও সুবিধাজনক উপায়ে বাড়িতে টাকা পাঠানোর একটি ব্যবস্থা তৈরির করার প্রয়োজনীয়তা "বিকাশ" উদ্ভাবনের পেছনে একটি অন্যতম মৌলিক ধারণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু লাভের অংকটা এত বেশি ছিল যে, পরে এটি সরকারের গোচরে এলে দেশের গরীব ও মধ্যবিত্তের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিকাশ আদলে ‘নগদ’ নামের একটি তেলি ব্যাংকিং সেবা চালু করে।

২৬ মার্চ ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ-এর উদ্বোধন হলে খুব স্বল্প সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত হয়েছে নগদ-এর নেটওয়ার্ক। জানুয়ারির ১০ তারিখে দৈনিক ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে নগদ।

দীর্ঘদিন ধরে বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করা বিকাশ এখনো প্রতি হাজারে ক্যাশ-আউট চার্জ রাখে হাজারে প্রায় ২০ টাকার মতো। যেখানে প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ-ইন করলে ‘নগদ’ ৫ টাকা ক্যাশ-ব্যাক দিয়ে থাকে। এর ফলে ‘নগদ’-এর ১৪ টাকা ৫০ পয়সা ক্যাশ-আউট নেমে আসে ৯ টাকা ৫০ পয়সায়, যা বিকাশের ক্যাশ-আউট চার্জের প্রায় অর্ধেক। ‘নগদ’ মূলত বাজারে ভারসাম্য আনতে প্রথম থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

নগদ এর এই প্রক্রিয়াটি সারা দেশে বাস্তবায়ন হলে বিকাশের মনোপলি ব্যবসা হাত ছাড়া হবে, আর দেশের সাধারণ জনগণের মোবাইল ব্যাংকিং এ টাকা পাঠানোর খরচও কমে যাবে।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর ক্যাশ-আউট চার্জ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছে বিকাশ। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে বিকাশ এই তদবির করছে।

এ বিষয়ে সরকারের ভাষ্য হল, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি উদ্যোগ হিসেবে ‘নগদ’ ব্যবসার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পদ্ধতিতে চলবে। দেশের সাধারণ জনগণের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে এবং সরকার নগদ-এর ব্যবসা পরিচালনা করব।

অনেকে বলেছেন, গরীব ও প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে বেশি মুনাফা নেওয়ার জন্য ব্রাকের এই চেষ্টা স্যার ফজলে হোসেন আবেদের নীতি আদর্শের সাথে কতটুকু মানানসই!