ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রশান্ত কিশোরের খোঁজে বাংলাদেশ!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
প্রশান্ত কিশোরের খোঁজে বাংলাদেশ!

ভারতের দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির দুর্দান্ত বিজয়ের পরে রহস্যমানব-প্রশান্ত কিশোরের নাম উড়ছে ভারত ও তার আশেপাশের দেশ জুড়ে। এর হাওয়া বাইরে লেগেছে কি না তা পুরোপুরি জানা যায়নি। যা হউক এই পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি বেশ জমে উঠেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর মাঝে, যার গুরু হচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর।

বিরোধীর পাতা ফাঁদ এড়িয়ে, হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের চক্রে না পড়ে, জাতীয় ইস্যুতে ছটফটানি না দেখিয়ে নাগরিক সেবার ওপর জোর দিয়ে কীভাবে নির্বাচনে জিততে হয় তার দেখিয়ে দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিন্তু পিছনে ছিলেন সেই প্রশান্ত কিশোর।

প্রশান্ত কিশোর যার পাশে আছেন তিনি জিতবেন, ভোট কেন্দ্রিক এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে তাঁকে ঘিরে গোটা ভারত জুড়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার, কংগ্রেস-প্রধান রাহুল গান্ধী, পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা কাম মুখ্যমন্ত্রী অমেরেন্দ্র সিং আর হালের চমক অন্ধ্রের জগন (জগন মোহন রেড্ডি)—সবাই তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কথা পুরোপুরি না শোনার ফলে পুরো ফল পাননি বলে বলা হয়।

২০১২ সালে মোদীর গুজরাট বিধানসভা ভোটের হাল ধরেন প্রশান্ত কিশোর। সবাইকে তাক লাগিয়ে জিতিয়ে দেন হারের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা চিন্তিত মোদী আর তাঁর দল বিজেপিকে।

ইতিহাস বলছে, সত্যিকারের পলিটিক্যাল কন্সাল্ট্যান্ট বা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ক্যাম্পেইনস, ইনক ১৯৩০ - ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় রাজনৈতিক প্রচারে একচেটিয়া দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। এর পরে অন্য দেশেও এমন রাজনৈতিক পরামর্শদাতার কাজ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের মত এতগুলো সাফল্যের পালক কারো প্রতিষ্ঠানের গায়ে লাগার খবর মিডিয়ায় আসতে দেখা যায়নি। বিলেতের পলিটিক্যাল কন্সাল্টিং প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ এনালিটিকা ২০১৩ সালে কাজ শুরু করলেও ২০১৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা রাজনৈতিক প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রচারণায় কাজ করেন। তারা প্রার্থীদের মিডিয়া কৌশল বিকাশ করতে, জনগণের কাছে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যাখ্যা করতে, বিজ্ঞাপন তৈরি করতে, বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া জানাতে বা তহবিল সংগ্রহে জড়িত হতে সহায়তা করতে পারে। অন্যান্য পরামর্শদাতারা গবেষণা বা পোলিংয়ে কাজ করতে পারেন। প্রাক্তন চাকরির ক্ষেত্রে, তারা প্রচারণা বা প্রার্থীর বিরোধী প্রধান সমস্যাগুলি তদন্ত করে থাকে, এবং পরবর্তী সময়ে তারা জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করে যে প্রার্থী সম্পর্কে তাদের কী অনুভূতি রয়েছে। একই দলের নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশে ভারতের বিহারের প্রশান্ত কিশোরের মত পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট বা ‘রাজনৈতিক কৌশল রচয়িতা’ এখনো দেখা পাওয়া না গেলেও প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কৌশলের লোকাল ভার্সন করে নিয়েছে বাংলার বাঙ্গালিরা। কমিটি বাণিজ্য, পদ বাণিজ্য আর মনোনয়ন বাণিজ্য করে টাকা কামিয়েছেন বেশুমার। তার অভিযোগ সরকারী দলের চেয়ে বিরোধী দলের উপর কোন অংশেই কম না। তারেক রহমান ২০১৮ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার সাথে সহায়তার চুক্তি করলেও কাজ করতে পারেনি ক্যামব্রিজ এনালিটিকা।

নির্বাচন এলেই আমাদের দেশে টাকার হলি খেলা চলে। শেখ হাসিনার কারণে মনোনয়ন বাণিজ্যে সরকারী দলে খুব বেশি সুবিধা না করতে পারলেও খালেদা জিয়া জেলে থাকার কারণে তারেক জিয়ার `বাণিজ্যে লক্ষ্মী বসতি` গড়েছে। এখানে তারেক জিয়ার মনোপলি চলে। বিগত সিটি নির্বাচনেও তা দেখা গেছে, সামনের উপনির্বাচনেও তাঁর ব্যতিক্রম হবে না বলে অনেকে মনে করেন।

প্রশান্ত কিশোর ভারতের নানা রাজ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। যার মূলে হচ্ছে সংগঠনের মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যে, তাঁদের পরামর্শ, আর তাঁর বিশ্লেষণ করে নতুন সাংগঠনিক আর নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। বঙ্গবন্ধুর এক দৌহিত্র সিআরআই নিয়ে কাজ করছেন, আরেকজনও নানা গবেষণা করে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই মাঠ পর্যায় থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য মেইল নাম্বার দিয়েছেন, কর্মীদের। তাই এই দুইজনের কাজ দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন একজন প্রশান্ত কিশোরের খোঁজ করছেন। সময় বলবে কী হয়।