ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর কারণে বাংলা সর্বস্তরের ভাষা হয়নি: আহমদ রফিক

প্রণব সাহা
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ পিএম
উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর কারণে বাংলা সর্বস্তরের ভাষা হয়নি: আহমদ রফিক

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মনে হয় সাংবাদিক হিসেবে বড় অর্জন হচ্ছে ভাষা সৈনিক ডা: আহমদ রফিকের একটি বড় সাক্ষাতকার নেয়া। ৯১ বছর বয়সী এই বহুমাত্রিক গবেষক লেখক গত বছরও আমাদের জন্য একটি বই লিখেছেন। লিখেছেন ভাষা আন্দোলন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার কথা। আর এখন ভাবছেন নকশাল বাড়ি আন্দোলন ও রুশ বিপ্লবের পরিনতি নিয়ে বই লিখতে চান। এখনো টকবগে তারুণ্য নিয়ে কথাও বলেন।

ডিবিসি নিউজে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় প্রচারিত হবে ডা: আহমদ রফিকের সাক্ষাৎকারটি। যেখানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন ‘‘সর্বস্তারে মাতৃভাষার’’ দাবিটি পূরন হয়নি। আহমাদ রফিক বলেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যে দুটি মূল দাবি ছিল তার মধ্যে রাজনৈতিক বৈষম্য অবসানের দাবিটি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে আদায় হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রভাষা,জাতীয় ভাষা,জীবীকার ভাষা এবং সর্বস্তরের ভাষা হিসেবে বাংলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা এবং উচ্চ আদালত থেকে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরের ভাষা হওয়ার কথা থাকলেও এক চতুর্থাংশের বেশি পূরন হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. আহমদ রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন ১৯০ বছরের উপনিবেশিক শাসনে অভ্যস্ত বাঙালি, উপনিবেশিক রাজভাষা ইংরেজি এবং উপনিবেশিক সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারছে না। তিনি এজন্য দায়ী করেছেন রাজনীতিক এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেনীকে। আহমাদ রফিক দু:খ করে বললেন ‘‘রাজনীতিক ও উচ্চ শ্রেনীর মানুষরা যা চেয়েছিল তা পেয়েছে , সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে বাঙালিরা উচ্চ পদ পেয়ে ভাষাকে সর্বস্তরে প্রচলনের দায়িত্বের কথা ভুলে গেছে।

২১ ফেব্রুয়ারি সালাম-বরকত,রফিক-শফিকের শহীদ হওয়ার পর ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি একরাতেই শহীদ মিনার তৈরীর স্মৃতিচারন করে আহমদ রফিক জানিয়েছেন, পেয়ারু সরদারের কাছ থেকে চাবি এনে তার সিমেন্টের গোডাউন খুলে এনছিলাম। আহমদ রফিক বলেন, আজকালকার তরুনরা হলে গোডাউনের তালা ভেঙে ফেলতো,কিন্তু আমরা সেই চাবি আবার ফেরত দিয়ে এসেছিলাম। স্মুতিচারণ করে তিনি বলেন প্রথম শহীদমিনারে দুটি পোস্টার ছিল। একটিতে লেখা ‘‘রাষ্ট্রভাষা তহবিলে মুক্ত হস্তে দান করুন’’ আরেকটিতে ‘‘ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিন’’। ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মিনিটের জন্যও মানুষের মিছিল থামেনি। ফুল পাতার সাথে অনেক নারী তাদের অলংকারও খুলে বেদিমূলে রেখেছে। কিন্তু শাসকগোষ্টি তা মেনে নিতে পারেনি। তাই ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সরকারের সশস্ত্র পুলিশ আড়াই দিনের শহীদ মিনার ভেঙে গুড়িয়ে ইটের শেষ টুকরোটি পর্যন্ত নিয়ে গেছে। কিন্তু শহীদ মিনার মরেনি।