ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অর্থ পাচারকারীদের মদদদাতা কারা!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
অর্থ পাচারকারীদের মদদদাতা কারা!

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে সরকার কিভাবে এর কৈফিয়ত দেবে? কেনো পাচার হচ্ছে? তিনি বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নজরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, “অস্ত্র দিয়ে, বিভেদ সৃষ্টি করে, সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় নিয়ে আমাদের বঞ্চিত করে দেশের পুঁজি বা অর্থ পাচার করবে। কার বাবার সম্পত্তি তোমরা পাচার করছ। তাদের ধরে না কেন? বলা হয় না কেন কোথায় থেকে তোমরা এই ক্ষমতাটা পেলে”?

তিনি বলেন, “এটা হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডাকাতি। আমরা গ্রাম পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডাকাতকে যেভাবে ধরি, আজকের রাষ্ট্রের ডাকাতদের ধরতে হবে। এরা নিজেদের চিহ্নিত করে রেখেছে”।

তিনি বলেন, “৪৮ বছর আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছি এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে”।

সিনিয়র আইনজীবীগণ বলেন, “১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সেই অধ্যাদেশকে ১৯৭৯-এ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির আইনি গোড়া পত্তন হয়। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও বিচারহীনতার শেকড় সমাজের এত গভীরে প্রবেশ করেছে, তার মূলোৎপাটন করে বিচার নিশ্চিত করা অনেকটাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। কারণ আমাদের সংবিধান ও কিছু প্রচলিত আইন বিচারহীনতায় কিছু রসদ জুগিয়ে যাচ্ছে। যেমন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা ক্ষমতাসীন তথা সরকারকে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা অর্পণ করেছে। সংবিধানপরিপন্থী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার প্রয়োগের ফলে দেশে ও রাজনৈতিক দলের বিচারহীনতার উর্বর ভূমিতে অপরাধ আর অপরাধীর চাষাবাদ হচ্ছে”।

এছাড়া বিচারের “বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে। এটি অপরাধীদের সাহস যোগাচ্ছে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য।”

বিচারিক প্রক্রিয়ায় জড়িত পক্ষগুলো মধ্যে থাকে বাদী, বিবাদী, সাক্ষী, আলামত, দেশের সংশ্লিষ্ট আইন, ডাক্তার, মামলার ধরণ বুঝে সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর, পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, উকিল/ ব্যারিস্টার, জেলখানা, আদালতের নন- জুডিশিয়াল স্টাফ, বিভিন্ন পদমর্যাদার বিচারক। এর পরেও বিচারকগনের মেধা বা জ্ঞান, তাঁদের সততা, সদিচ্ছা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, ইত্যাদিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। পক্ষগুলোর যে কোন স্তরে একটু বিলম্ব মানে পুরো বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে বাধ্য। সময়মত বিচার শেষ হবে না, তখনই কথা আসবে "Justice delayed is justice denied"। বিচারপ্রার্থী তথা সচেতন সবাই বলবেন, ‘এই বিচারে কিচ্ছু হবে না’।

নিকট অতীতের সব চেয়ে আলোচিত মামলা বেগম খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলা’ যা ৬০ কর্ম-দিবসেই শেষ করার কথা, কিন্তু রায় দিতে আদালতের সময় লেগেছে কম বেশী ১০ বছর। কেন এতো দেরী হলো আদালতের? সরকার কি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার ধান্দায় ছিল! এটা কী মানুষ বিশ্বাস করবে, না বাস্তব কথা হবে। কিন্তু কেন এমন হলো? আমাদের দেশে সবাই বলেন, দেওয়ানী মামলা বা জমিজমার মালিকানা সংক্রান্ত মামলা কোন উকিল একবার পেলে তার নাতিও নাকি সেই মামলা চালিয়ে, আয় রোজগার করে খেতে পারেন। কিন্তু কেন এমন বিশ্বাস আমাদের দেশের মানুষের মাঝে, এটা কি মিথ্যা ধারণা!

আমাদের মত দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে লাভবান হন দুটি পক্ষ। এক- দুর্নীতিবাজ বা অপরাধী আর দুই সিনিয়র উকিল বা এডভোকেট। দেশের প্রচলিত আইন আর তার ফাঁক ফোঁকর ড. কামাল হোসেন মত সিনিয়র উকিল সাহেবদের নখের ডগায় বা মুখস্থ। তাই তো আদালতের বিচারপতিগণ যখন কোন জটিল মামলার সমাধানে বা নিষ্পত্তিতে সংশয়ে থাকেন তখন ড. কামালের মত সিনিয়র আইনজীবীদের এমিকাস কিউরি নিয়োগ করে পরামর্শ নেন। আবার এইসব ড. কামাল গংরা যখন কোন মামলার শুনানির জন্য সময় চান তখন বিচারক তা দিতে অনেকটাই নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে যান। তাইতো ৬০ কর্ম-দিবসেই শেষ করার মামলায় সময় লাগে কম বেশী ১০ বছর। এমন সব কারণেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মত ব্যাংক লুটের মামলাগুলোও ঝুলে যায়, এত দেরি হয় তাঁর নিষ্পত্তিতে।

এসবের জন্য কি শুধু সরকার বা বিচার বিভাগ দায়ী! ড. কামাল হোসেনরা কি একটুও দায়ী নন! তাঁরা কি বাংলাদেশের জনগণের অর্থপাচারকারীদের পরোক্ষ মদদদাতা নন! কে দেবেন এসব প্রশ্নের জবাব!