ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা ‘টীকা আবিষ্কার’!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ০৯:০০ পিএম
শেখ হাসিনা ‘টীকা আবিষ্কার’!

যারা মার্কেটিং নিয়ে পড়েছে তারা আধুনিক মার্কেটিং এর ৭ টা পি’র কথা শুনেছেন বা জেনেছেন। এরা হচ্ছে- প্রডাক্ট, প্লেস, প্রাইস, প্রমোশন, পিপল, প্রসেস ও ফিজিক্যাল এভিডেন্স। তাই পণ্যের মার্কেটিং এর আধুনিক নীতি মেনে যারা কাজ করেন তাদের কাছে সাফল্যের দেবী ধরা দিতে দেরি করেন না। এছাড়া ‘বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী’ কথাটা তো সবাই জানেন। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যের সুফল যে কত দ্রুত পাওয়া যায় তার প্রমাণ হালের আলোচিত যুবতী পাপিয়ার সুন্দরী যুবতীদের সরবরাহের জন্য এসকর্ট  সার্ভিসের ব্যবসায়। যা আমাদের সমাজে বিকৃত যৌন লালসা মেটানোর একটা বেআইনি প্লাটফর্ম।
 
এবার দেখা যাক যৌনবিকৃতি বলতে কী বুঝায়। যৌনবিকৃতি বলতে অবৈধ যৌনকর্মকাণ্ডের প্রতি আকর্ষণ এবং/অথবা সেই সকল কর্মকাণ্ডের সংঘটন বোঝায় যেগুলো `স্বাভাবিক` নয়।  চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যৌনবিকৃতিকে মানসিক রোগ বা বৈকল্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়ে থাকে। কোন কোন যৌনক্রিয়া স্বাভাবিক (বা অস্বাভাবিক) তা নির্ধারিত হয় তিনটি পর্যায়ে। এগুলো হলো (ক) সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি (খ) ধর্ম এবং (গ) স্থানীয় আইন। যেহেতু ধর্ম ব্যতীত বাকী দুটি নিয়ামক চলমান বা পরিবর্তনশীল, তাই সার্বিকভাবে যৌনবিকৃতির সংজ্ঞার্থও পরম বা চূড়ান্ত নয়।

আমাদের দেশে বিদ্যমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যৌনবিকৃতি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের সাথে যায় না, যা আইনের ভাষায় অপরাধ বলে গণ্য হয়। আবার ধর্মীয় চেতনা আর মূল্যবোধের সাথেও এটা অগ্রহণযোগ্য তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এটা বেআইনি। ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কথা বলে অনেক মন্ত্রীর চাকরি যাবার নজীর আমাদের দেশে আছে। এবার আসি রাষ্ট্রীয় আইন। বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় আইনে এটা যে গ্রহণযোগ্য নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এবার আসি ৭ টা পি’র কথায়। এখানে প্রডাক্ট হচ্ছে বিকৃত অবৈধ যৌনতা, প্লেস মানে এটা দেশের বিভিন্ন ৫ তারা হোটেল বা গেস্ট হাউজ বা গাজীপুরের খোয়াব ভবনের মত তৈরি বিভিন্ন বাসা, প্রাইস এর ক্ষেত্রে এর মূল্য একটু বেশি হলেও খদ্দেরের অভাব নেই। সাধারণত ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই ব্যবসার প্রমোশনের কাজ করা হয় যাতে উঠতি বড়লোক বা উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক নেতারা সেবা নিয়ে বা দিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার সুবিধা অর্জন করে থাকেন এক শ্রেণীর পিপল।  এটা প্রসেস করা হয় সারা দেশে খুব গোপনে প্রসেস কিন্তু সরবরাহ ১০০ ভাগ নিশ্চিত যাকে মার্কেটিঙের ভাষায় বলা হয় ফিজিক্যাল এভিডেন্স। 

এই এসকট সারভিসে কিন্তু শুধ যৌনতার সেবা চলে না, সাথে থাকে বেআইনি ব্যবসা, ড্রাগের পাচার, বেআইনি অস্ত্র পাচার ইত্যাদি। কলকাতার আদলে করা এই এসকর্ট সার্ভিস কিছু বেসিক তথ্য জেনে নেওয়া যায়।

১. এসকর্ট সার্ভিস নিয়ন্ত্রিত হয় হয় মূলত ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে। বিভিন্ন এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনের সাইটেও এঁদের বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যাবে।

২. আপনি যদি এই ‘সার্ভিস’-এর ‘সেবা’ পেতে আগ্রহী হন তাহলে নির্দিষ্ট মেইল আইডি বা ফোনের মাধ্যমে আপনার আগ্রহের কথা জানাতে হবে সার্ভিস প্রোভাইডারকে।

৩. সাধারণভাবে এই সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত থাকেন যে মেয়েরা তাঁদের কাজের কোনও নির্দিষ্ট এলাকা থাকে না। আপনি যেখানে চাইবেন সেখানেই তাঁরা পৌঁছে যাবেন। তবে হোটেলের ঘরেই এঁরা বেশি স্বচ্ছন্দ  বোধ করেন।

৪. এঁদের সার্ভিসের পরিধি বেশ বিস্তৃত। আপনি চাইলে, এবং এঁদের চাহিদামতো পারিশ্রমিক দিতে আপনি সম্মত হলে এঁরা আপনার সঙ্গে দূরদেশে বেশ কয়েকদিনের জন্য বেড়াতেও চলে যাবেন।

৫. এঁদের পারিশ্রমিক একটু চড়া। এক রাত্রের ‘সার্ভিস’-এর বিনিময় বেশ কয়েক হাজার টাকা দাবি করবেন এঁরা।

৬. এঁদের পারিশ্রমিক অবশ্য আপনি কী ধরনের সার্ভিস চাইছেন তার উপর নির্ভর করছে। ‘সার্ভিস’-এর দাবি যত উদ্ভট হবে তত চড়বে পারিশ্রমিক।

৭. তথাকথিত ‘ভদ্র’ এবং ‘শিক্ষিত’ মেয়েদের দেখাও এসকর্ট সার্ভিসের দুনিয়ায় পাওয়া যাবে।

৮. বিজ্ঞাপনে ঢাকা লেখা থাকলেও বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন মফঃস্বল শহরেও এই সার্ভিসের জাল ছড়িয়ে পড়েছে।   

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে নিষিদ্ধ পণ্যের কারবারিরা আর তাদের গ্রহীতারা উভয়েই অপরাধী। তাই পাপিয়ার কাছ থেকে যারা এসকর্ট সার্ভিস, ড্রাগ, অবৈধ অস্ত্র, ব্যবসা ইত্যাদি সেবা নিয়েছেন তারা কী পাপিয়ার মত সমান অপরাধী না। পুরুষ শাসিত সমাজে নারী বলেই কী পাপিয়ারা বেশি শাস্তি পাবে আর তাঁর কাছে থেকে অবৈধ বা বেআইনি সেবা গ্রহীতারা পর্দার আড়ালেই রয়ে যাবে!  

লেখাটা যখন শেষ করার চেষ্টা করছি তখন পত্রিকায় খবর বেরুলো যে করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে তা বাজারে আসার সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল। ঠিক একইভাবে আমাদের দেশে ভাইরাসের মত পাপিয়াদের যে এসকর্ট সার্ভিসএর নামে অবৈধ বাবসা চালু হয়েছে তার ভ্যাক্সিন হচ্ছেন শেখ হাসিনা নিজেই। তিনি কী তাঁর দলের মধ্যে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই অনৈতিক, অবৈধ, বেআইনি এ সকল এসকট সার্ভিস ও অন্যান্য বেআইনি ব্যাবসায় লাগাম টানতে টীকা প্রয়োগ শুরু করবেন!