ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

এই লম্বা ছুটিতে কী করবেন!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:৫৭ এএম
এই লম্বা ছুটিতে কী করবেন!

পরিবার নিয়ে ভয়ে মনটা চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। কাউকে বলাও যাচ্ছে না, আবার বাইরে যাবার উপায় নেই। একদিকে করোনার ভয় অন্য দিকে সরকারের নিষেধাজ্ঞা। সব চেয়ে বেশি হচ্ছে ভয়, যদি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়! আমার কী হবে, আমার পরিবারের অন্যদের কী হবে! রাত দিন এসব চিন্তায় মনটা বিষণ্ণ থাকে। কতোইবা ঘুমানো যায়, বসে থাকা যায়! সোশ্যাল মিডিয়ায় গেলেও সেই করোনাভাইরাসের নানা খবর, অনলাইন পোর্টাল, টেলিভিশন সবখানেই। এক বন্ধুকে বললাম কী করি বল তো এই অবস্থায়? অনেক কথা হলো ফেসবুক ম্যাসেঙ্গারে বা ভাইবার, হোয়াটস আপ এ, কারণ ফোনে টাকা শেষ হলে ভরতে বাইরে যাবার ভয় আছে, বাসায় সবাই ভয় পায়, আমিও; কিন্তু মুখে বলি না।   

বর্তমানে সবার একটাই চিন্তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। মোটা দাগে এর দুটি উপায়। একটি হচ্ছে বেছে বেছে যথা সম্ভব এমন খাবার খাওয়া যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি সম্ভব নাও হতে পারে। আরেকটি যা করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজন, তা হচ্ছে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়াম করা।  মন ভালো রাখার কথায় পরে আসছি।  

এখন তো আর বাইরে হাঁটা-চলাফেরার উপায় নেই, ঝুঁকিও বটে তাই এখন সহজ উপায় হল প্রতিদিন পারলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় শুয়েই আর বাসার মধ্যেই ব্যায়াম করা। বর্তমানে এটা খুব জরুরি। বিজ্ঞানীদের মতে-   

নিয়মিত ব্যায়াম সবার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যায়াম করলে মানুষের সাধারণ অসুখ-বিসুখ কম হয়। সহজে ঠাণ্ডা লাগে না, কাশি বা হালকা জ্বরে ভুগতে হয় না। কোনো জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে এর প্রতিক্রিয়ায় রোগপ্রতিরোধ-ব্যবস্থা শরীরের বিভিন্ন সেলের মাধ্যমে জীবাণুগুলোকে আক্রমণ করে। কিছু সেল সরাসরি কাজ না করে রোগপ্রতিরোধের উদ্দেশে অন্য রকম ব্যবস্থা নেয়। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থান একটু লাল হয়ে ফুলে ওঠে (ইনফ্লেমেশন)। এসব দেখে আমরা অনেক সময় ঘাবড়ে যাই, মনে করি রোগের লক্ষণ। কিন্তু অনেক সময় ইনফ্লেমেশন শরীরের রোগপ্রতিরোধ-ব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। যদি ইনফ্লেমেশন বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তখন টিস্যুর ক্ষতি হয়। এ ধরনের ক্ষতি কমাতেও ব্যায়ামের দরকার। শরীরের ফ্যাট সেলগুলো সাধারণত ইনফ্লেমেশনের উপাদান যোগায়। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের চর্বি কমায় এবং এভাবে রোগপ্রতিরোধ-ব্যবস্থাকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণে সাহায্য করে। যারা একটু লম্বা হতে চান, এই লম্বা ছুটি তাঁদের জন্য মহা সুযোগ। ঘরে বসেই সাধারণ ব্যায়ামের পাশাপাশি তীব্র sprinting ব্যায়াম করার অভ্যাস করে নিন। সাথে নিয়মিত দুধ পান করুন আপনি অনেকটা লম্বা হতে পারবেন বলে বিজ্ঞানীরা বলেছেন।        

খাবারের তালিকায় পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং গোল মরিচ যোগ করুন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। দুধ চায়ের পরিবর্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি চিনি ছাড়া পান করুন। বলতে পারেন গ্রিন টি অনেক দামি। এটা কী করে কিনে খাব, আবার ঝুঁকি নিয়ে বাইরে যেতে হবে! সাবধানে নিরাপত্তা নিয়ে ভিড় এড়িয়ে পাশের দোকান থেকে গ্রিন টি কিনুন। তবে যাঁদের বাড়ি গ্রামে তাঁদের বাড়িতে বা রাস্তার পাশে সজনে গাছ আছে। সজনে পাতার গ্রিন টি’র মত ভালো গ্রিন টি আর দ্বিতীয়টি নেই। এক ফাঁকে গিয়ে সজনে পাতা ছিঁড়ে নিয়ে এসে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। পানি ঝরানো পাতা স্বল্প আলো-বাতাসে শুকিয়ে চুলার কড়াইতে একটু টেলে নিন শুটকি মাছের মত। গুড়া করে বয়েমে ভরে রাখুন। চিনি ছাড়া চায়ের মত পান করুণ (এটা স্যুপের সাথেও খাওয়া যায়)। ১ বা ২ দিন একটু অন্যরকম লাগলেও এর উপকারিতা জানলে আপনি আর এটা ছাড়বেন না। আমাজান.কম এ গিয়ে দেখুন ১০০ গ্রাম সজনে পাতার (Moringa Tea) গ্রিন টি’র দাম কত! দিনে ৪/৫ বার গ্রিন টি খান, প্রাণ ভরে। এর পাশাপাশি বার বার গরম পানি পান করতে ভুলবেন না। লেবুর দাম শহরে অনেক বেড়ে গেছে, তবুও টক জাতীয় কিছু যাতে ভিটামিন সি আছে আমরা সেটা খেতে পারি গরম পানির সাথে, আলাদাও।         

৭/৮ ঘণ্টা ঘুম তো আছেই। তবুও মানসিক চাপ কমাতে আপনার পছন্দ মত বই পড়া, গান শুনা, ছবি আঁকা, কিংবা ইন্টারনেটে গেম খেলুন, ভিডিও দেখুন বা অন্য কিছু করুণ যাতে আপনার মনে আনন্দ হয়। যে কাজটি সময়ের অভাবে এর আগে করতে পারেন নি। সেটা এই ফাঁকে করে নিন। যাঁদের লেখার অভ্যাস আছে তাঁরা অনেক অনেক পড়ে কিছু কিছু লেখার চেষ্টা করুণ। ঘরে থাকলেও বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন‍, পরিষ্কার কাপড় পরুন।    

যারা ছাত্র তাঁদের প্রায় সবার অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। ক্লাস শেষ হলেও বাবা মা কিংবা ভাই বোনের সাথে মজা করে দুষ্টুমি করে নিতে পারো, যা সময়ের অভাবে আগে করতে পারো নি। অনলাইনে নতুন মজার বা আনন্দের কিছু পেলে বড়দের সাথে শেয়ার করে নিতে পারো তাতে আনন্দটা আরও বাড়বে। ছবি আঁকার অভ্যাস থাকলে এটা মোক্ষম সময়। সময় নষ্ট করে কী লাভ!