ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

সরকার বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রের বিরোধিতা!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৮ এএম
সরকার বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রের বিরোধিতা!

করোনাভাইরাসের মরণ ছোবল ঠেকাতে না পারলে আগামীতে বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়ার প্রায় সব দেশ ও জনগণ মহাসংকটে পড়বে তা জানার জন্য জ্ঞানী হবার দরকার নেই। রোগ ও পুষ্টিহীনতা  সারা দুনিয়ার কর্মক্ষম মানুষের বিরাট একটা অংশের কর্মক্ষমতা মারাত্মক হ্রাস পাবে। আর্থিক অভাবের কারণে কৃষি উপকরণ আর  অর্থের অভাব তাঁর সাথে যোগ হয়ে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হবে। খাবার সংকট দেখা দেবে, দেখা দেবে অন্যান্য কৃষি পণ্যের সংকট। ফলে কৃষিভিত্তিক প্রাইমারী খাতের শিল্প ব্যবস্থা সংকটে পড়বে দুই ভাবে। কৃষি উপকরণের অভাব, শ্রমিকের অভাব হবে স্বল্প উৎপাদন, তাতে মানুষের চাহিদা মিটবে না। সারা দুনিয়ায় বেঁচে থাকা বর্তমান শিশু আর যে সব শিশু জন্ম নেবে তাঁরা পুষ্টিহীনতায় তাঁদের ব্রেইন ঠিকমত গঠিত হবে না। স্ট্যামিনা থাকবে না বর্তমান সময়ের মত, অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে যাবে। সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন কমে যাবে। 

ফলে সেকেন্ডারি খাতের শিল্পে  অর্থাৎ শিল্প কারখানায় দেখা দেবে শ্রমিকের বা দক্ষ কর্মীর অভাব আর দ্বিতীয়ত কাঁচামালের অভাব। এটা ১৭৫০ সালের ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের বা উপনিবেশের যুগ নয় যে ইউরোপিয়ানরা তাঁদের উপনিবেশ থেকে সাধারণ নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে তাঁদের চাহিদা মত তাঁদের শিল্পের জন্য কাঁচামাল হিসেবে পণ্য উৎপাদন করিয়ে নেবে।     

 এতে সার্ভিস সেক্টর আর টারশিয়ারী সেক্টরের শিল্প ধুকে ধুকে মরবে। তখন মেধার অভাবে কোটেনারী খাতের শিল্পের বিকাশ হবে না। আমরা কয়েক যুগ  পিছিয়ে পড়তে পারি জ্ঞান বিজ্ঞান আর গবেষণায়। শুরু হতে পারে একটা শ্যাডো যুগ। বিশ্বের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক ক্ষমতায়  আসতে পারে ভারসাম্যহীনতা। এর মধ্যে উদ্ভব হতে পারে নতুন শক্তির।    

 উপরে আলোচনা সবই অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান মাত্র। ১০০ বছর আগে যখন আবহাওয়া অফিস ছিল না তখন গ্রামের মুরুব্বিরা মেঘের আনাগোনা দেখেই বলতে পারতেন যে এই মেঘে ঝড় বৃষ্টি হবে কি না। আমাদের দেশে ন্যাংড়া, ফজলি, বোম্বাই, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত, ইত্যাদির মত আমের আবিষ্কার কিন্তু কোন বৈজ্ঞানিক করেন নি। প্রাচীন  কালের অভিজ্ঞ মানুষেরা এটা তৈরি করেছেন। এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়।  

ইদানীং বাংলাদেশে সরকার বিরোধিতার নামে একদল বুদ্ধিজীবী ও তাঁদের অন্ধ অনুসারীরা সরকার বিরোধিতার নামে রাষ্ট্রের ও রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধচারণ করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের একাংশ দেশ ও জনগণের বিরোধিতা শুরু করেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের বিরোধিতার নামে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলে তাঁদের বিভ্রান্ত করছেন। মানুষ না বাঁচলে দেশ বেঁচে কী লাভ। কী লাভ হবে একটা বিধ্বস্ত দেশে সরকার গঠন করে? কে পড়বেন তাঁদের পত্রিকা! কে কিনবে শিল্পপতিদের উৎপাদিত পণ্য, নেবেন সেবা? এসবের সাথে শুরু হয়েছে আত্মপ্রচারের মাধ্যমে টাকার কামানোর ধান্দা, যাতে মানুষ সাহায্যের আশায় এসে জড় হয়ে নিজেদের করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে ফেলছেন। তাঁরা জানেন যে আমেরিকা, ইউরোপের মত দেশ যেখানে করোনাভাইরাসের থাবায় নাজেহাল সেখানে বাংলাদেশের মত দেশের সরকারের সীমিত সম্পদ আর চিকিৎসা উপকরণ দিয়ে যে চেষ্টা করছেন তাতে সবার পরামর্শ আর সহযোগিতা দরকার। এটা না করে তাঁর সরকারের ছিদ্রান্বেষণের চেষ্টায় আঁকিবুঁকি করছেন। দেশের এই চরম সংকট কালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তাঁরা মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। দেশর মানুষ না বাঁচলে সেই দেশের ক্ষমতায় গিয়ে কী হবে। যদিও গত দুই তিন দিনে সরকার সারা দেশের অনেক স্থানে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার সুবিধা চালু করেছেন, যা ছিল সবার একান্ত চাওয়া। সাথে যে সব ডাক্তারগন তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইকুইপমেন্টের অভাবে, যেমন পিপিই, ইত্যাদি ডি মোটিভেটেড হয়ে গিয়েছিলেন, ভয় পেয়েছিলেন তাঁরা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। তাঁদের ভীতি কমে গেছে। সমাজের বিত্তশালী মানুষেরা শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের পাশে এসে তাঁদের খাবার সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, খাবার বিতরণ শুরু করেছেন। সেনা, পুলিশ আর স্বেচ্ছা সেবকগন আরও জোরদারভাবে মানুষকে ঘরের বাইরে না আসার জন্য মোটিভেট করে চলেছেন, দিন রাত ধরে। 

আমাদের পাশের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চরম রাজনৈতিক  শত্রু পশ্চিম বঙ্গের মমতা ব্যানারজী তা আমরা সবাই জানি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আর তাঁর বিস্তার রোধে মোদী সাহেব যখন ভারতের সব এলাকা প্রায় লোক ডাউনের আহবান জানিয়েছিলেন, তখন মমতা বিনা বাক্য ব্যয়ে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়েছে টেলিফোনে। একই সময়ে আমাদের দেশের কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সরকারের বিরুদ্ধচারণের  নামে দেশে যাতে মহামারি আকারে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে তাঁর চেষ্টা করছেন, বিভিন্ন কৌশলে। আইটি’র এই যুগে মানুষের কাছে সেই তথ্য হয়তো আর গোপন নেই। মিডিয়ার কল্যাণে তাঁরা অনেক কিছুই জানেন।