ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডা: ফেরদৌস গং চুপ কেন!  

দেওয়ান আলম/ সিরাজুল ইসলাম সরকার     
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২০ শনিবার, ০১:০৩ পিএম
ডা: ফেরদৌস গং চুপ কেন!  

ডা: ফেরদৌস খন্দকার নিউ ইয়র্ক ও বাংলাদেশে হালের একজন চরম আলোচিত ব্যক্তি। ডা:ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? ডা: ফেরদৌস নিজে যৌন চিকিৎসক হয়েও,বর্তমান বিশ্বের মহামারী করোনা ভাইরাস এর একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সকাল, দুপুর, বিকেল ও রাত্রে অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। আর এই বক্তব্যে আমেরিকাকে “হেয়” করে বাংলাদেশকে অনেক অনেক “হাইলাইট” করেছেন। কিন্তু কেন সেটা করেছেন আমেরিকা প্রবাসী বাঙ্গালীদের কাছে তা বোধগম্য নয়? মনে হয়েছিল তিনি যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার  করোনা রোগীকে সুস্থতা দান করে বাংলাদেশকে করোনামুক্ত করতে গিয়েছিলেন? কিন্তু না তিনি বিশ্বের একজন প্রভাবশালী ডাক্তার হিসেবে বাংলাদেশে গিয়ে গোয়েন্দাদের হাতে অনেক বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছেন। এটা ওনার নিজের বক্তব্য। এদিকে তাকে নিয়ে আমেরিকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিনিয়ত অনেক গোপন তথ্য প্রকাশ হচ্ছে। 

১। প্রবাসের অত্যন্ত পরিচিত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব নাজমুল আহসান তার পত্রিকার হেড লাইন লালকালিতে লিখেছেন-এক ডজনেরও অধিক নারী যৌন সমস্যায় ডা: ফেরদৌসের নিকট হয়রানির স্বীকার হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তার লাইসেন্স Revoked.  

২। বিশিষ্ট সাংবাদিক তাসের মাহমুদ ও দর্পণ কবির একই কথা লিখেছেন (আবার অনেক ভক্ত সাংবাদিকদের “সাংঘাতিক” বলে ও মন্তব্য করেছেন)।

৩। ডা: ফেরদৌস আসলে পাকিস্তানি আমেরিকান। পাকিস্তানের নাগরিকের প্রমাণ হিসেবে তার আমেরিকান পাসপোর্টের কপি আমেরিকায় ভাইরাল হয়েছে। 

প্রশ্ন হল ডা: ফেরদৌস খন্দকার যেখানে সকাল, বিকাল, দুপুর, সন্ধ্যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতেন? তিনি এখন New Yorkএ তবুও কেন তিনি এই সমস্ত অপপ্রচারের (!)  বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন না? সত্য মিথ্যার উপর তার একটি প্রতিবেদন আসলে সব কিছু পরিষ্কার হতো বলে অনেকে মনে করেন। ডা: ফেরদৌসকে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি- নুর, চট্টগ্রাম এক ডাক্তার ও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের এই বক্তব্যগুলি প্রতিহিংসা পরায়ণ ছিল বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন (ডা: ফেরদৌসের ভক্তগণ) তাকে নিয়ে এত তামাশা কেন? আমরা সবাই জানি পাকিস্তান বাংলাদেশের একটি চির শক্র দেশ ও জঈীবাদের মদদ দাতা। তারা কখনই বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। ডা: ফেরদৌস খন্দকার একজন পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে তার সত্যতা স্বীকার করে শপথের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। সেটা কখন? বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনেক পরে! ১৯৭১ এর পূর্বে হলেও কোন কথা ছিল না, এক্ষেত্রে তাকে কি বাংলাদেশের নাগরিক বলা যাবে? এটা অনেকের প্রশ্ন?        

যারা বিদেশে অবস্থান করেন তাঁদের সকলের মুল পরিচিতি হল একটা পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্টই একজন নাগরিকের সকল পরিচয় বহন করে। সেই পাসপোর্টে যদি পাকিস্তানি-আমেরিকান নাগরিকের একজনের হয়? আর তিনি যদি তার সাথে যদি ৮/১০টি লাগেজ থাকে? তখন গোয়েন্দা কর্মকর্তাগন কি করবেন? আমরা জানিনা তার এই পাসপোর্টের কপি সঠিক কিনা। যদি সঠিক হয় তা হলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বা বাংলাদেশ সরকারের কি করনীয়? একই প্রশ্ন সকল ফেরদৌস ভক্তদের কাছে? পাসপোর্টের কপি সত্য না হলে তাঁরা প্রতিবাদ করেন না কেন?         

এবার আসুন রাজনৈতিক নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। ডা: ফেরদৌস নিজেও বলেছেন অন্যরা ও জোরাল বক্তব্য দিয়েছেন তিনি ছাত্রলীগ করতেন। তিনি যখন ছাত্রলীগ করতেন? তখন কি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন, সেটা কেউ পরিষ্কার করে বলেন নি? কারণ সেই সময়টা ছিল পাকিস্তানপন্থী তাবেদার সরকারের সময়।  তা হলে ডা: ফেরদৌস কেন জন্ম সনদ গোপন রেখেছিলেন? এখানে মেডিকেল কলেজও তাদের দায় এড়াতে পারেন না? তারাও কী জন্ম সনদ গোপন করেছেন? এখন প্রশ্ন হল তখনকার সরকার কি আওয়ামী লীগের ছিল না বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা সামরিক কায়দায় ক্ষমতায় ছিল তারা? এখানে কি প্রতীয়মান হয়না যে ফেরদৌস খন্দকার সব কিছু সজ্ঞানে সব কিছু গোপন রেখে ছাত্রলীগ করেছেন? যদি করে থাকেন তার রহস্য কি? এখানে আরো অনেক প্রশ্ন এসে যায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করে কোন দিন আওয়ামী লীগের কোন মিছিল মিটিং এ না এসে হঠাৎ কি করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান? ড. সিদ্দিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে কীভাবে একজন পাকিস্তানি নাগরিককে আওয়ামী লীগের কমিটিতে মনোনয়ন দেন এবং সরাসরি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন? আমেরিকায় জনশ্রুতি আছে ডা: ফেরদৌস সব কিছু গোপন রেখে ড. সিদ্দিককে ১০ বা  ২০,০০০/- হাজার ডলার প্রদানের মাধ্যমে উপদেষ্টার পদ খরিদ করেছিলেন, কিন্তু ধরে রাখতে পারেন নি। আর ড. সিদ্দিকও সেটা বিক্রি করে ছিলেন। ড. সিদ্দিকের এই দোষ বা ডলারের নেশা সব সময়েই ছিল তা আমেরিকার বাঙ্গালী কমিউনিটির সবাই জানেন। গত কমিটি হওয়ার সময় অনেককে ফোন করে ড. সিদ্দিক বলেছিল তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদে থাকতে চান কি না? কমিটিতে থাকতে হলে তার সাথে দেখা করতে হবে?        

আমেরিকায় অনেকে আছেন যারা ১৯৬৬ সাল থেকে জাতির জনককে ভালবেসে আওয়ামী লীগ করেন। ১৯৬৯ এর গন-আন্দোলনে যারা ৩০২ ধারা মামলার আসামী হয়ে পলাতক ছিলেন। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করে বাড়ি ঘর হারিয়েছেন, এখনও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকানা পত্রিকায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন অনেকেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের উপর সিডি বের করেছেন কলকাতা থেকে। তারা কি কারো বাসায় গিয়ে টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের পদ নেবেন!  তাই বঙ্গবন্ধু প্রেমিক অনেকের নামই আওয়ামী লীগের কমিটিতে আসেনি। তাঁদের কোন দুঃখ নেই,, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁদের বড় পদ ও পরিচয় হল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একজন গর্বিত সৈনিক! আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ছাত্রলীগের রাজনীতি, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ ছাড়াই ড. সিদ্দিকদের মত মানুষেরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হন, পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে দলকে, আদর্শকে বিতর্কিত করেন।    

বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন, যেহেতু ডা: ফেরদৌস এখন যুক্তরাষ্ট্রে তাই তার পক্ষে এসব কথার বিরুদ্ধে টেলিভিশন বা ইউটিউব বা ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তার সাঙ্গপাঙ্গরা, সমর্থকগণ নিয়ে এসব প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলবেন, সত্য প্রকাশিত হবে। পরিশেষে ডা: ফেরদৌস খোন্দকারের ভক্তদের উদ্দেশে একটা কথা হচ্ছে ডা. সাহেবের পাসপোর্টের জন্মসনদ পাকিস্তানের সেক্ষেত্রে যদি উনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে“ডুয়েল সিটিজেনশিপ”এর দরখাস্ত করেন তাহলে বা আদালতের মাধ্যমে এলেও তিনি আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে পারেন অথবা তার পাসপোর্টে নো ভিসা রিকুয়ার্ড সীল পড়তে পারে।