ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোভিড-১৯: যে কারণে বাংলাদেশে আতঙ্কের কিছু নেই

অধ্যাপক কাজী মনিরুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
কোভিড-১৯: যে কারণে বাংলাদেশে আতঙ্কের কিছু নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের বাজেট অধিবেশনে বলেছিলেন, ‘করোনায় আতংক নয়, বরং আত্মবিশ্বাস থাকা উচিৎ।’ তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, ‘আমাদের মৃত্যুর আগে মরে যাওয়া উচিৎ হবে না।’ ‘বাংলা ইনসাইডারে’ প্রকাশিত আমার আগের ‘গুজব ছড়ানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধ করুন’ মতামতে আমি এই বিষয়টিই বলেছিলাম যে, বাংলাদেশে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার, আতঙ্কিত নয়। যদি আমরা প্রত্যেকে একত্রে কাজ করি, তবে আমরা এই করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পারবো। করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যেসব কারণে আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়, সেগুলো আমি এখানে একটু উল্লেখ করছি-

১. কোভিড-১৯ সম্পর্কে আমরা এখন অনেক কিছুই জানি

চীনের উহানে গুরুতর নিউমোনিয়া অস্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, এমন রিপোর্ট আসার ৭ দিন পর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব প্রথম এই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতে পারে। এর তিন দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স পাওয়া যায়। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন পরীক্ষাগারে কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিট, এই রোগ সংক্রমণের প্রকৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়। আমরা জানতে পারি যে, এটা প্রাকৃতিক ভাইরাস এবং বাদুড়ে পাওয়া ভাইরাসের সাথে এর মিল রয়েছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশেও এর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে।

২. আমাদের নির্ভরযোগ্য কৌশল ও পরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে

অর্থনৈতিক নানা সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ করোনা সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা হিসেবে পরীক্ষা করা, বিচ্ছিন্ন করা এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং এর কৌশল গ্রহণ করেছে। যদিও বাংলাদেশে শুরুতে আমাদের প্রতিটি জেলা বা হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা ছিল না, খুব কম জায়গাতেই টেস্ট করা হতো। কিন্তু বাংলাদেশ দ্রুত পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম ও সুবিধার জালিয়াতির খবর পাওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশে এখন নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবুও এখনও অনেক কিছু করা দরকার। আমি বিশ্বাস করি, দেশব্যাপী সাধারণ জনগণের কাছে পরীক্ষার সুবিধা আরও সহজ করতে সরকার আরও বরাদ্দ দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশকে বর্তমান মহামারীর পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারী প্রতিরোধে প্রস্তুত রাখতে পারবে। আমাদের মনে রাখা দরকার এবং গর্বিত হওয়া উচিৎ এজন্য যে, বাংলাদশের এখন ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃত্যু ও দুর্যোগ প্রতিরোধের অনন্য সক্ষমতা রয়েছে। আমি নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং দূরদৃষ্টি আমাদের বর্তমান যুদ্ধেও করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনও মহামারী প্রতিরোধেও আমাদের প্রস্তুত করবে।

৩. এটাকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

আমরা জানি প্রথম দিকে সব কিছু অবরুদ্ধ করলে সংক্রামক রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হয়। চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এর বড় প্রমাণ। তাদের কঠোর নেতৃত্ব এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপের কারণে এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে তারা সফল হয়েছে। আমরা শুরুতে ইতালি থেকে আগতদের কোয়ারেন্টাইন করতে পারিনি। তাদের মাধ্যমে দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ চীন ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভ্রমণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। চীন থেকে যারা ফিরে এসেছিল তাদেরও সফলভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। সেই সাথে যেসব চীনা নির্মাণকর্মী ও কর্মকর্তারা বাংলাদেশে কাজ করছে, তারাও সরকারের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলেছে। এজন্য আমাদের সবার উচিৎ তাদের ধন্যবাদ দেওয়া। 

মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে, অনেক পশ্চিমা দেশ এবং ভারতের আগে, দেশব্যাপী লকডাউনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। আমাদের এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত এবং অনেক কথা থাকতে পারে তবে আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যে তাড়াতাড়ি লকডাউন ভাইরাসের তাৎক্ষণিক বিস্তৃতি ঠেকাতে এবং সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া গিয়েছিল। এটি জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছিল।

এখন, সক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু রেখে সীমিত আকারে সব খুলে দেওয়া হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার ফলে সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকবে, আবার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে না। অর্থাৎ করোনা এবং অর্থনীতি সবই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

৪. মানুষ সচেতন হচ্ছে, ফলে সংক্রমণ সহজে বাড়ছে না

যদিও সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবিকার কারণে অনেকেই লকডাউন ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করা বা সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করতে পারেনি, তবুও আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে কুর্নিশ করা উচিৎ। কারণ সংকট থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ মানুষ সরকারী পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বাইরে যাওয়া সীমাবদ্ধ করছে। বেশিরভাগ মানুষই মসজিদে যাওয়ার বদলে বাসায় বসে প্রর্থনা করছে। এমনকি ঈদের সময়ও মানুষ ঘরে থেকেছে। অনেকে এ বছর কোরবানি পালন না করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। বেশিরভাগ মানুষ, পরিবার, অফিস, শিল্পক্ষেত্র ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করছে। গণ জমায়েত এড়িয়ে চলছে। ফলস্বরূপ, আমরা দেখতে পাই, দৈনিক সংক্রমণের হার ১৯-২৪ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং বাড়ছে না। অর্থাৎ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এখন তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

৫. বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণগুলো মৃদু বা উপসর্গহীন হয়

চীনে করোনায় ৮০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের ক্ষেত্রে খুব হালকা লক্ষণ বা একেবারে উপসর্গহীন ছিল। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ হয় উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত। এই পরিস্থিতি সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু যেহেতু এটা মানুষ ইতিমধ্যেইও জেনে গেছে এবং সচেতন হচ্ছে। সেভাবে তারা তাদের জীবন যাপন এবং আচরণও নিয়ন্ত্রণ করছে। আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গহীন হতে পারে জেনে মানুষ আরও বেশি সচেতন হচ্ছে। এটা সংক্রমণ ছড়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

৬. মৃত্যুর হার কম এবং সুস্থতার হার বেশি

বাংলাদেশে আশ্চর্যজনকভাবে গুরুতর ও জটিল রোগী এবং মৃত্যুর হার খুবই কম, যা মাত্র ১.১ -১.৪ শতাংশের মধ্যে। ইনফেকশন ফ্যাটালিটি রেট আরও কম। আমি মোটামুটি সাহস করে অনুমান করে বলতে পারি, এটা ০.৫ শতাংশের নীচে। সেই তুলনায় সুস্থতার হার অনেক বেশি, প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি। এটা জনগণের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশে ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রি বা কেনায় তেমন কোনো বিধি নিষেধ নেই। ফলে অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, বাসায় বসেই ওষুধ পথ্য খাচ্ছেন এবং সুস্থও হয়ে উঠছেন। এদিক দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীতে অনন্য বলা চলে। কারণ অনেক দেশেই ওষুধপত্র, চিকিৎসা সামগ্রীতে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধের কারণে এসব মানুষ চিকিৎসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া বাসায় নিতে পারে না।

৭. ভ্যাকসিন তৈরিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

আমাদের অবশ্যই গর্বিত হওয়া উচিৎ এ কারণে যে, বিশ্বের অনেক দেশ যখন ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজস্ব ভ্যাকসিন তৈরি করছে। এটা মনে রাখতে হবে যে, পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি ভ্যাকসিন বাংলাদেশে বা অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশে কাজ করতে বা আসতে সময় লাগবে। অনেক পশ্চিমা দেশ ইতিমধ্যে তার নিজস্ব জনগণের জন্য সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের প্রি-অর্ডার করে ফেলেছে। এমনকি টাকাও পরিশোধ করেছে। বিশ্বব্যাপী ৭ বিলিয়ন ডোজ উৎপাদনের জন্য আরও সময় এবং অর্থের প্রয়োজন। এ কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নাও পেতে পারে। এক্ষেত্রে সুখবর হলো ভ্যাকসিন তৈরির পথে বাংলাদেশও সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এর উন্নয়ন ও উত্পাদনের জন্য সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় সকল সহায়তাও দিচ্ছে। খুব তাড়াতাড়িই হয়তো আমরা আমাদের নিজ দেশে তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে পারবো।

৮. করোনা চিকিৎসার ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে এবং এগুলো আরও কার্যকর করার কাজ চলছে

বিশ্বব্যাপী করোনা চিকিৎসার বিভিন্ন ওষুধ ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি ওষুধ অসুস্থতা নিরসনে কিছুটা সফলও হয়েছে। আর বাংলাদেশে ওষুধ উন্নয়ন ও উত্পাদনের অনন্য সক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ ওষুধ অনেক কম এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ফলে এখন বেশিরভাগ বাংলাদেশী প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো খুব সহজেই কিনতে পারে। ফলে করোনা জটিল রোগীরা বিনা ওষুধে বা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।

এটা মনে রাখুন এবং গর্বিত হোন, কারণ এটা কেউ আর বলার সাহস পাবে না যে, বাংলাদেশ "তলাবিহীন ঝুড়ি"। সবাই এখন বাংলাদেশের সাফল্য দেখে শিখবে।

৯. বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফলাফল বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশ হচ্ছে, খুব সহজেই এগুলো পাওয়া যাচ্ছে

এখন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সুযোগ-সুবিধা এবং মানসম্পন্ন জিনিসপত্র রয়েছে। বিস্তৃত মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সুবিধার কারণে সাধারণ জনগণ খুব সহজেই বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও এর ফলাফল জানতে পারছে। বাড়িতে বসেই মানুষ এখন বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করছে। এটা তাদের করোনা সম্পর্কিত তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য পেতে সাহায্য করছে। কিছু মানুষ বাদে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণই অসত্য সংবাদের ব্যাপারে সচেতন এবং তারা এ ধরনের সংবাদ ছড়ায় না।

আমি শুনছি, অনেক পণ্ডিতরা বলছেন, সীমিত পরীক্ষার কারণে আমরা জানি না যে বাংলাদেশে করোনার প্রকৃত অবস্থাটা আসলে কী। এ বিষয়ে আমি আন্তরিকভাবেই বলতে চাই যে, প্রকৃত অবস্থার তথ্য দিয়ে আমরা কতটুকু, কী করতে পারতাম? সেই তথ্য কীভাবে আমাদের করোনার সংক্রমণ বন্ধ করবে? বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি যদি আমরা বিবেচনা করি, তাহলে করোনার সেই প্রকৃত অবস্থার তথ্য কীভাবে আমাদের দেশের মানুষের দুর্ভোগ এবং করোনায় মৃত্যু কমাবে?

উদাহরণস্বরূপ, তর্কের খাতিরে বলছি, বাংলাদেশ যদি আগামীকালের মধ্যে বড় অংকের টাকা খরচ করে ২ লাখ পরীক্ষা করে বলে যে, এর মধ্যে ৪০ হাজার আক্রান্ত। এদের মধ্যে বেশিরভাগই উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গবাহী। এখন এই ৪০ হাজার লোকের আইসোলেশন, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা কীভাবে করবো?

আমরা জানি যে, আমাদের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বিস্তৃত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা দরকার তা হলো মানুষের মধ্যে সচেতনতা, খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, করোনা পজিটিভ এবং উপসর্গযুক্ত মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বা সেলফ কোয়ারেন্টাইন কঠোরভাবে প্রতিপালন করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঘন ঘন হাত ধোয়া।

আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা হ্রাস করা এবং জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কষ্ট দূর করতে সরকারী যে প্রচেষ্টা তা অব্যহত রাখতে জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। চারপাশের সবকিছুর ব্যবস্থাপনা ছাড়া শুধুমাত্র পরীক্ষা করা কার্যকর কোনো কৌশল নয়। তবে একটা কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা বাংলাদেশে খুব বেশি প্রয়োজন।

করোনা বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়, এটা নিয়ে আজকাল ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কিতও হয়ে পড়ছে। যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সচেতন হই, তাহলে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াক বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়াক, স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং সচেতন হওয়া ছাড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ বা আটকে রাখার কোনো উপায় আপাতত নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং প্রশংসিত। রোগব্যাধি, বর্তমানের পরিসংখ্যান, জনভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন তিনি। সবকিছু বিবেচনা করেই তিনি দূরদর্শী নির্দেশনা প্রদান করছেন। জীবন জীবিকার ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছেন। সম্ভাব্য সমস্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ফলে করোনায় বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুহার যেমন কম, তেমনি ক্ষুধার জ্বালায় কোনো মৃত্যু ঘটছে না।  

আতঙ্ক সৃষ্টি এবং অসত্য সংবাদ জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করবে, যা করোনা যুদ্ধে আমাদের পরাজিত করবে। মনে রাখবেন, মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে অনেক প্রচেষ্টা এবং সময়ের দরকার হয়। তবে এটাকে নষ্ট করতে কেবল কয়েকটি ভুয়া খবর, কয়েকটি মিথ্যা এবং কিছু দুর্নীতিই যথেষ্ঠ। সরকার সব জায়গায়, সমস্ত কিছু করতে পারে না। বর্তমান পরিস্থিতিটা হচ্ছে একটা যুদ্ধ এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই যুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব।