ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আয়েশারা দুর্দিনের জন্য জন্মায়, সুদিন আয়েশাদের ভুলে যায়

হারুনুর রশিদ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৩:১৬ পিএম
আয়েশারা দুর্দিনের জন্য জন্মায়, সুদিন আয়েশাদের ভুলে যায়

দুর্দিনের সাহসী যোদ্ধা, যুব মহিলা লীগের আয়েশা আকতারের মৃত্যর করুন চিত্রটি সােশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। । ত্যাগী নেতা- কর্মীদের ভিতর চলছে বুকফাটা হাহাকার। আমাদের সুদিনে মানবেতর পরিবেশে  বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা গেলো এই হতভাগী।  তার ভাগ্যে জোটলনা চিকিৎসার জন্য দলীয় বা সরকারী কোন সাহায্য। 

অথচ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দলের কর্মীদের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল। তিনি কর্মীদের জীবন দিয়ে ভালোবাসেন। এবং মায়ের মমতা দিয়ে আগলে রাখেন। এই মহৎ গুণ তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন তাঁর মহান পিতা, ইতিহাসের মহানায়ক,  স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাংলাদেশর মহান স্হপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে।

https://www.banglainsider.com/media/PhotoGallery/2018October/ffffffffff20200813091926.jpg

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন কর্মীরাই তাঁর সংসার। তিনি বলতেন কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করতে পারে। সেই  কর্মীদের আত্মত্যাগের পথ বেয়েই তো বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে  আমাদের মহান স্বাধীনতা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার যুগান্তকারী নেতৃত্বে বিশ্বের বিষ্ময় আমাদের আজকের আধুনিক বাংলাদেশ। 

আয়েশাও তৃণমূলের মানুষ। বি এন পি - জামাত জোট সরকারের আমলে তাদের অত্যাচার নির্যাতনের দুর্বিসহ সময়টায় আয়েশা রাজপথে এসে দাঁড়াতো প্রতিবাদী কর্মী হয়ে। যার ফলশ্রুতিতে পুলিশ তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছিল। তাই আমাদের ক্ষমতার আমলে আয়েশার এমন করুন মৃত্যুতে তৃনমূলে হচ্ছে রক্তক্ষরণ । কেউ আয়েশার খবর রাখলোনা, কেউ মাননীয় নেত্রীর কাছে তার দুর্দশার কথা তুলে ধরলো না। আয়েশা লাশ হওয়ার পর আমাদের চৈতন্য উদয় হলো।  আমরা শোক সাগরে ভাসলাম। কিন্তু আয়েশার আত্মা কি আমাদের ক্ষমা করবে? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে?

আমরা কিছু লোক বড় অকৃতজ্ঞ। দুর্দিনে যে তৃনমূলের আত্মত্যাগ এবং রক্তের পথবেয়ে আমরা সুদিন লাভ করি এবং ক্ষমতায় আরোহন করি তাদের কথা আমাদের আর মনে থাকেনা। ক্ষমতার আস্বাদন এবং ভোগ- বিলাষে আমরা এতোটাই মত্ত থাকি  যে, খেয়ালও করিনা অভিমানী আয়েশারা মানবেতর জীবন যাপন করে একদিন লাশ হয়ে যায়। 
ক্ষমতার আমলে অবহেলার নিদারুন অভিমানে তৃনমূল নির্বাসিত হয় এক অনিশ্চিত জীবনে। আর আত্মীয়- স্বজন এবং সুযোগ সন্ধানী শাহেদ- সাব্রিনাদের সমম্বয়ে গড়ে উঠে এক সর্বনাশা ক্ষমতার বলয়। দুর্দিনে যারা কর্পুরের মত উবে যায়। তখন অবহেলিত তৃণমূলরাই আবার রাজপথে বুকচিতিয়ে দাঁড়ায়। 
আয়েশার বেদনাদায়ক করুন মৃত্যু কি আমাদের বিবেককে জাগ্রত করবে?

লেখক: যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক