ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সাংবিধানিক ভাবেই আমরা এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি।’

জিএম কাদের
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২০ রবিবার, ০৪:০০ পিএম
‘সাংবিধানিক ভাবেই আমরা এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, জি এম কাদের বলেছেন ‘রাজনীতিবীদদের চেয়ে আমলা ও পুলিশ প্রশাসন এখন ক্ষমতাবান। এটা হয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে।’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন ‘৯০এ এরশাদের বিরুদ্ধে তিনজোটের প্রধান শ্লোগান ছিলো স্বৈরাচার নিপাত যাক। এরশাদের পতনের পর, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হলো। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।’

জি এম কাদের বলেন ‘স্বৈরাচার হটিয়ে তিন জোট সাংবিধানিক ভাবে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।’ এর ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন এমপি তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদে মত বা ভোট দিতে পারবেন না। তাহলে তার সদস্যপদ চলে যাবে।’ 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন ‘এর ফলে সংসদ নির্বাচনে যে দল জয়ী হয়, সেই দলের প্রধানের কাছে সর্বময় ক্ষমতা অর্পন করা হয়েছে। কেউ তার কৃর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। ফলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাই সংসদীয় দলের নেতা, তিনিই প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ সব ক্ষমতার মালিক তিনি। এই ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা হলো সাংবিধানিক ভাবে অপরাধী।’ জি এম কাদের বলেন ‘এই ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে প্রকারান্তে সংসদ সদস্যদের অযোগ্য এবং চোর বানানো হয়েছে। জনগনের নির্বাচিত ব্যক্তিরা টাকা খেয়ে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন, টাকা খেয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে পারেন। এজন্যই তো ৭০ অনুচ্ছেদ প্রবর্তন করা হয়েছে। তাহলে শুরুতেই জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যাপারে অবিশ্বাস এবং অনাস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে রাজনীতিবীদদের হাতে ক্ষমতা থাকে কিভাবে।’ 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন ‘বাংলাদেশে এখন যে শাসন পদ্ধতি, এটাকে সংসদীয় গণতন্ত্র না বলে প্রধানমন্ত্রীর শাসন বলাই ভালো। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশ পরিচালনা করতে চান, সেভাবেই করেন। এখন তিনি মনে করছেন, যে কারনেই হোক, আমলাদের ভূমিকা বেশী হওয়া উচিত, তাই এখন আমলারা ক্ষমতাবান। প্রধানমন্ত্রী যদি রাজনীতিবীদদের বেশী দায়িত্ব দেন, তাহলে রাজনীতিবীদরাই ক্ষমতাবান হবেন।’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন ‘প্রশাসন এবং রাজনীতিবীদ দুপক্ষের কারোরই সীমা লংঘন করা উচিত নয়। রাগ ও অনুরাগের বর্শবর্তী হয়ে কাজ করা উচিত নয়।’ জিএম কাদের মনে করেন ‘বর্তমান সংবিধান গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয় না, এক ব্যক্তির শাসনকে স্বীকৃতি দেয়।