ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দুর্নীতির আসল উৎস হলো প্রশাসন ক্যাডার’

অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২০ বুধবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘দুর্নীতির আসল উৎস হলো প্রশাসন ক্যাডার’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা: ইকবাল আর্সলান বলেছেন। ‘আমলারা সবকিছু কুক্ষিগত করছে। নিজেরা ইচ্ছামতো পদোন্নতি নিয়ে এখন টেকনিক্যাল পদ গুলো দখল করছে। এর ফলে দেশে এক ধরনে অস্বস্তি এবং অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।’ বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে স্বাচিপ সভাপতি একথা বলেন।

অধ্যাপক ইকবাল আর্সালান বলেন ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কিছু পদ আছে, যে পদগুলো স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এখন ঐ পদগুলোতে প্রশাসন ক্যাডারের লোকজনকে বসানো হচ্ছে। এটা অগ্রহনযোগ্য এবং অন্যায়।’ তিনি বলেন ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই শুধু নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও যেমন প্রকৌশলীদের পদগুলোও তারা (প্রশাসন ক্যাডার) দখল করছে।’

পেশাজীবীরা প্রশাসনিক কর্মকান্ডে দক্ষ হয় না, তারা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করলে দুর্নীতি হয়, এজন্যই প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকল্প প্রধান সহ টেকনিক্যাল পদে দেয়া হচ্ছে। এরকম বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন অধ্যাপক ইকবাল আর্সালান। তিনি বলেন ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চালায় তো প্রশাসন ক্যাডারের কর্তারাই। অর্থ বরাদ্দ এবং ছাড় দেয় মন্ত্রনালয়। তারা কেন শেষ মুহুুর্তে ছাড় দেয়?’ ইকবাল বলেন ‘দুর্নীতির আসল উৎস হলো প্রশাসন ক্যাডার।’

রাজনৈতিক সরকারে কিভাবে আমলাদের দৌরাত্ম সৃষ্টি হচ্ছে? এরকম প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল আর্সালান বলেন ‘এটা রাজনীতিবীদদের ব্যর্থতা।’ তিনি বলেন ‘রাজনীতিবীদদের নিস্ক্রিয়তার জন্যই আমলারা প্রভাব বিস্তার করছে।’ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি বলেছেন। ‘অতিমারির সময় আমলাদের সবখানে দখলদারিত্ব নিত্য নতুন সংকট তৈরী করছে। তারা কারিগরি এবং বৈজ্ঞানিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছেন।’ ইকবাল বলেন ‘বাংলাদেশে আমলারা সব কিছুর মধ্যে নাকগলান। কিন্তু যখন সমস্যা সৃষ্টি হয়, তখন তারা দায় দায়িত্ব নেন না।’ তিনি বলেন ‘বাংলাদেশ দুর্নীতি থেকে যতো ধরনের সমস্যা সরকার মোকাবেলা করছে, তার অধিকাংশই আমলাদের সৃষ্টি।’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের এই নেতা বলেন ‘বঙ্গবন্ধু আন্ত: ক্যাডার সমন্বয়ের বিধান করেছিলেন। সুপরিয়র সিলেকশন বোর্ড করেছিলেন। ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে পদোন্নতির যে বিধান করেছিলেন, তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। না হলে পেশাজীবী ক্যাডাররা নতুন করে আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে।’