ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আসন্ন লকডাউন নিয়ে চরম অশুভ ইঙ্গিত!

সায়েদুল আরেফিন
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২১ রবিবার, ১০:৫৯ এএম
আসন্ন লকডাউন নিয়ে চরম অশুভ ইঙ্গিত!

আগামী ১৪ তারিখ থেকে আসন্ন সর্বাত্মক লকডাউনে দেশে নতুন সংকট তৈরির অপেক্ষায় আছে দেশি বিদেশী নানা মানুষ ও গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরীহ কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এদের প্রায় সবাই তাদের স্লিপার গ্রুপের সদস্য হয়ে গেছে, তাদের মনের অজান্তেই। এরা জানে না যে তারা কি করবে, কি করার জন্য তারা দিনাতিপাত করছে। ইসলাম প্রিয় এসব নিরীহ কিশোর-কিশোরীদের ধর্মের নামে নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যার মাধ্যমে ওরা এসব ধর্ম ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী গ্রুপের হয়ে কাজ করে জীবন দেবার জন্য তৈরি হয়ে যাচ্ছে, গেছে। কিশোরীদের সংগ্রহ করা হচ্ছে জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মেয়েদের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে। এরা সবাই হবে ইসলামের সেবাদাসী।      

এদের দিয়ে চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে হয়তো কাল কিংবা পরশু কিংবা ১৪ তারিখ থেকে। ওয়ার্ম আপ গেম শুরু হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া, বিদেশ গণমাধ্যম। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনদের একটা বিশেষ গ্রুপ খুব সক্রিয়। তারা আটঘাট বেঁধে নামার চেষ্টায় আছে; এমন কি ফেসবুকের বাংলাদেশের অংশে কাজ করা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হেফাজত বিরোধী পোষ্ট ডিলিট করা, এন্টি হেফাজত সোশ্যাল মিডিয়া একিভিস্টদের একাউন্ট ব্লক করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।       

দেশি বিদেশী পাকিস্তান পন্থী ধনকুবের হেফাজতকে সামনে নিয়ে অর্থ জোগান দিচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপের সোশ্যাল মিডিয়া একিভিস্টদের। এক শ্রেণীর ইসলাম প্রিয় মানুষের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টিতে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে মামুনুল হক ও শিশু বক্তা নামে খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানিকে। বহু আইটি এক্সপার্ট ও হ্যাকারদের এ ব্যাপারে কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁদের দিয়ে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত অভিযোগ আছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পাক দূতাবাস এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ বিরোধী একাধিক দূতাবাসের মাধ্যমে ক্যাপ্টাগন নামের একধরণের ওষুধ আগেভাগেই আনা ও তার প্রয়োগ হয়েছে বলে জানা গেছে।    

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও তার প্রমাণ আছে। মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের  উপর লিখিত চিঠি দিয়ে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে গোপনে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এটা তারা শিখেছে আই এস এর কাছ থেকে। নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ধর্মী সংখ্যালঘুদের ‘যিযিয়া’ নামে একটি বিশেষ কর দিতে হয়।

আই এস যখন ইরাকের নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন মুসল শহরের মসজিদগুলোতে একটি ঘোষণা পড়া হতো, যেখানে ক্রিশ্চানদের বলা হয় মুসলমান হয়ে যেতে, নয় ‘যিযিয়া’ কর দিতে। “তাদের আমরা তিনটি পথ দিয়েছি। হয় ইসলাম গ্রহণ করো, নয় যিযিয়া করসহ ধিমা চুক্তি। তারা যদি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের জন্য তলোয়ার ছাড়া আর কিছুই থাকবে না”, আই এস বিবৃতিতে কথা বলা হয়েছিল।

ফাইভ আই`স সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সূত্র দাবি করেছেন যে, এ-সপ্তাহেই ইসলাম প্রিয় এসব নিরীহ কিশোর- কিশোরীদের দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে একত্রিত করা হচ্ছে, হবে। তাঁদের ক্যাপ্টাগন বড়ি খেয়ে যুদ্ধের জন্য আর সেবাদাসী হবার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় সম্প্রতি একটি খবরে জানানো হয়েছিলো যে, “ক্যাপ্টাগন নামের শক্তিশালী এই ড্রাগ খুব দ্রুত কাজ করে এবং এটি খেয়েই সিরিয়ার যোদ্ধারা ঘুম বিশ্রাম ফেলে দিনে রাতে সর্বক্ষণ যুদ্ধ করতে পারছে। নেশা সৃষ্টিকারী এই বড়ি খাওয়ার কারণেই জিহাদিরা কোনো ধরনের বিচার বিবেচনা ছাড়াই নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালাতে পারছে”।

বিবিসির একটি তথ্যচিত্রে আরেকজন ক্যাপ্টাগন গ্রহণকারী বলেছিলেন, এই ট্যাবলেট একবার খেলে আপনি আর কিছুতেই এটা খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন না। “মনে হবে আমি পৃথিবীর শীর্ষে অবস্থান করছি। আমার যে ক্ষমতা তা আর কারো নেই।” বলেন তিনি। আরেকজন বলেছেন, “ওই বড়ি খাওয়ার পর মনে হয়েছে এই পৃথিবীর আর কেউ আমাকে আক্রমণ করতে পারবে না।”

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে সিরিয়া এখন এই ড্রাগের সবচেয়ে বড়ো উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশে পরিণত হয়। ষাটের দশক থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। বিষণ্ণতা কাটাতে তারা এই ওষুধ গ্রহণ করতো। তবে পরে এটি নেশা সৃষ্টিকারী ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করলে বেশিরভাগ দেশেই এটা নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এখনও এই ড্রাগ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার মতো এই ড্রাগের মারাত্মক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এবার আসি আগামী ১৪ তারিখ থেকে আসন্ন সর্বাত্মক লকডাউনে দেশে যে নতুন সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। 

একটি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সেনানিবাস এলাকা হতে একটি ছেলে আচমকাই নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। জেনারেল লাইনেই ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে ছেলেটি। ৫ দিন আগে ছেলেটি স্থানীয় মসজিদে যায় নামাজ পড়তে। সে সেখান থেকে আর বাসায় ফেরেনি। মা বাবার চাপা উৎকণ্ঠা ভাবিয়ে তুললো সকলকে। গত শুক্রবার সংবাদ পাওয়া গেছে, ছেলেটি হাটহাজারী মাদ্রাসায় অবস্থান করছে। 

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার আগেও এভাবে কিশোর–কিশোরীগন বাড়ি থেকে উধাও হতে শুরু করে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে যখন গুরুত্ব দেন এবং নিরাপত্তার চাদরে গুলশান এলাকা ঢেকে দেওয়া হয় কিন্তু তা সময়ের অভাবে নিচ্ছিদ্র ছিল না।

হেফাজতকে সামনে নিয়ে নষ্ট ভ্রষ্ট বাম, বিএনপি, জামায়াত যে “ইসলাম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের” পরিকল্পনা নিয়েছে তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ আছে ক না দেশি বিদেশী গোয়েন্দারা খইয়ে দেখতে পারেন এখনি; হাতে সময় খুব কম। একটার পরে একটা নারী কেলেঙ্কারির কথা ফাঁস হবার পরেও মামুনুল গংদের সোশ্যাল মিডিয়ায় মাতম আর বিভিন্ন এলাকা থেকে  কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়া খুব ভালো ইঙ্গিত বহন করে না।   

বিষয়: লকডাউন