ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমেরিকার ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ০৩:০১ পিএম
আমেরিকার ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে

সম্প্রতিকালে আমেরিকার প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বৈষয়িক জলবায়ু বিষয়ক দূত জন কেরি বাংলাদেশে ঘুরে গেলেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মূলত দাওয়াত দিতে এসেছিলেন। তিনি যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্যের মধ্যে আমার কাছে একটি বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আর সেটি হলো ভ্যাকসিন সম্পর্কে। কারণ প্রেসিডেন্ট বাইডেন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, এপ্রিল মাসের মধ্যেই তিনি তার দেশে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ করবেন এবং সেই ভাবেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

আমেরিকায় যে পরিমাণ ভ্যাকসিন তাদের প্রয়োজন, তার থেকে অনেক বেশি রাখা আছে। সুতরাং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকা ভ্যাকসিন দেয়া শেষ করবে। আমেরিকায় যে তিনটি ভ্যাকসিন ব্যবহার হচ্ছে তার মধ্যে দুটি ভ্যাকসিন অনেক নিম্ন তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এই দুটি ভ্যাকসিন হলো ফাইজার এবং মর্ডানার ভ্যাকসিন। এখন এই ভ্যাকসিনগুলো মাইনাস ৫ তাপমাত্রায় রাখলেও এর একটি দীর্ঘায়ু থাকে। তারপর এটি নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই তারা, যে সব দেশ ভ্যাকসিন পায়নি সেসব দেশে তারা ভ্যাকসিন দেবে। বিশেষ করে গরীব দেশগুলোতেই তারা দেবে। যদিও এখন পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয় নি।

কিন্তু আমাদের দেশে এসে জন কেরি বলেছেন, বাংলাদেশ যদি চায় তাহলে আমাদের ভ্যাকসিন দেয়ার পর যেটা থাককে সেটা আমরা বাংলাদেশকে দিতে চাই। আমি মনে করি আমাদের এটি গ্রহণ করা উচিৎ। সম্ভবত তারা হয়ত ফাইজার এবং মর্ডানার ভ্যাকসিনই আমাদের দেবে। এই দুটি ভ্যাকসিনই নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। এই কারণেই আমরা সব সময় দ্বিধায় থাকি যে, কিভাবে এটি নিয়ে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আমার মনে হয় এটি করা সম্ভব। কেননা আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনেই মাইনাস ৮০ ডিগ্রির অনেক ফ্রিজ আছে। আমরা যদি ভাগ করে নেই যে শুধু ঢাকাতেই এই ভ্যাকসিনগুলো রাখা হবে এবং আমরা মানুষকে জানিয়ে দিলাম যে রেজিষ্ট্রেশন করে এসএমএস পেলে একটি জায়গা থেকে এই ভ্যাকসিন নিতে হবে। তাহলে এটি করা সম্ভব।

এই ভ্যাকসিনগুলো যেখানে রাখা হবে সেখান থেকেই দেয়া হবে। যেমন, বিএসএমএমইউ তে অনেক বড় জায়গা আছে। সুতরাং ওইখানে যদি রাখা হয় এবং সেখান থেকেই যদি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তাহলেই হবে। কারণ এই দুটি বিশ্বের বেষ্ট ভ্যাকসিন। আমাদের এই ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করা উচিৎ এবং সেগুলো দেওয়া উচিৎ।

এগুলোর জন্য আগে পরিকল্পনা করতে হবে এবং টেকনিক্যাল লোকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে হবে। মুশকিল হচ্ছে আমাদের যে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে সেগুলো সবই আমলারা নিচ্ছেন। তার ফলে টেকনিক্যাল লোকের যে ইনপুট সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের একটি ভালো টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। তারা বসে এটাকে কিভাবে রুপ দেওয়া যায় সে বিষয়ে চিন্তা করবেন। কিন্তু আমি মনে করি দেশের স্বার্থে এখনি আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, এই ভ্যাকসিন আনার যে খরচ সেটি আমাদের কারো কাছ থেকে সাহায্য নিয়েই করতে হবে। কেননা যে সব প্লেনে এই ভ্যাকসিনগুলো আসবে সেগুলো মডিফাই করা এবং অনেক ব্যায়বহুল। তাই এগুলো আনতে বিশ্ব ব্যাংকের মতো সংস্থার থেকে সাহায্য নেয়া যেতে পারে। আমরা যদি শুধু ঢাকা শহরটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে দেখা যাবে আমরা সত্যিকারেই করোনা থেকে বাঁচতে পারছি। 

আমাদের অন্যান্য কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে। যেমন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যে লকডাউন দেয়া হয়েছে এতে তেমন কোনো লাভ হবে না। কঠোর লকডাউনে সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে, তবে বিরাট আকারে কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। সুতরাং আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বৈজ্ঞানিক নিয়ে বসে চিন্তা-ভাবনা না করা যায়, তাহলে আমরা এই করোনা থেকে সহজে মুক্তি পাবো না। ফলে ভ্যাকসিন এখন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই আমেরিকার ভ্যাকসিনটি আনার ব্যাপারে সরকারের খুব জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয়: ভ্যাকসিন