ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফলের চাহিদা মেটাতে বিদেশি ফলের চাষ বেড়েছে

ডঃ মোঃ আওলাদ হোসেন
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ এএম
ফলের চাহিদা মেটাতে বিদেশি ফলের চাষ বেড়েছে

গ্রীষ্মকালের মধুমাস জৈষ্ঠ্য মাস শেষ হলেও রাজধানী ঢাকার রাজপথে, অলিগলিতে ফল বিক্রেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনি একজন অতি সাধারন ফল বিক্রেতা দুটি ঝাকায় কালোজাম ও ড্রাগন ফল সাজিয়ে বসেছেন রাজধানী ঢাকার পাঁচ হোটেল সোনারগাঁও সম্মুখস্থ ফুটপাতে। অপর একজন দুটি ঝাকায় কাউফল ও ড্রাগন ফলসহ কাঁধে ভাড় নিয়ে পাড়ামহল্লা, অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কালোজাম, কাউফল, ডেউয়া ফল, টেপা ফল, ইত্যাদি আমাদের দেশীয় ফল। এই সকল ফলের যথেষ্ট পুষ্টিমান রয়েছে। ফুটপাতে বসা দোকানী ও কাঁধে ভাড় নেওয়া দুজনেরই একটি ঝাকায় রয়েছে দেশীয় ফল, অপরটিতে একধরনের উষ্মমন্ডলীয় ক্যাকটাস প্রজাতির বিদেশী ফল, ড্রাগন ফ্রুটস।

মূলত আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো ছাড়াও চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়ায় ড্রাগন ফলের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। 
বাজারমূল্য বেশি হলেও চমকে ওঠার মতো এর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। ৮০% পানি, প্রচুর পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ ও ভিটামিন সি দ্বারা সমৃদ্ধ এই ফলটি দেহে শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে এবং অন্ত্রের গতিবিধিকেও নিয়ন্ত্রণ করে বিধায় আমাদের দেশেও এই বিদেশি ফলটির ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। 

বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে, আমদানি নির্ভর, বিদেশী ফলটির ব্যাপক চাষ হওয়ায়, বাংলাদেশে বিদেশি এই ফলটি এখন আর দুর্লভ নয়, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। 

আমার এই লেখার উদ্দেশ্য ড্রাগন ফ্রুটস এর গুনাগুন বর্ণনা করা নয়। আমার উদ্দেশ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশে কৃষির সফলতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষি বিজ্ঞানীদের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ খাদ্যে আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের চাহিদা মেটাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের পাশাপাশি আমদানী নির্ভর বিদেশী ফল বাংলাদেশের মাটিতে চাষ করার জন্য নিরলস কাজ করছেন। ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটি ড্রাগন ফল চাষ করার উপযোগী। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সমন্বিত উদ্যান প্রকল্পের অধীনে ড্রাগন ফল এর প্রদর্শনী প্লটের সূচনা করার মাধ্যমে, কৃষি বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশের মাটিতে সর্বপ্রথম ড্রাগন ফল গাছ চাষ শুরু করেছেন। ২০১৪ সালে, একই প্রকল্পের অধীনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১০০০টি প্রদর্শনী প্লটে ড্রাগন ফ্রুট এর চাষ করা হয়। প্রদর্শনী প্লটে ড্রাগন ফল চাষ এর সফলতায় আকৃষ্ট হয়ে কৃষকরা সময়ের প্রয়োজনে লাভজনক ফসল ড্রাগন ফল এর চাষ শুরু করেন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ড্রাগন ফল এর উৎপাদন ২০১৯-২০ সালে ৫০০০ হাজার টনে দাড়িয়েছে। এই উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরে এপর্যন্ত (২০২০-২১ সালে) ১০,০০০ টন ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদিত পণ্য বাজারে ব্যাপক বিক্রি হওয়ায়, চাহিদা মেটাতে কৃষকরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে বাংলার বিভিন্ন জেলার আনাচে-কানাচে  ড্রাগন ফলের চাষ বাড়াচ্ছেন। ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে সামান্য পরিমাণ ড্রাগন ফ্রুটস আমদানি করা হলেও বছরের এপ্রিল-নভেম্বর মাসে দেশের মাটিতে উৎপাদিত ড্রাগন ফল বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে  বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ানের মত দ্রুত অর্থনৈতিক সফলতায় বাংলাদেশও আজ ‘Emerging Asian Tiger` হিসাবে খ্যাত। উন্নয়নের সব সূচকে পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে, মাথাপিছু আয়ের তুলনামূলক চিত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ (বাংলাদেশ ২,২২৭ ডলার, ভারত ১,৯৪৭ ডলার, পাকিস্তান ১,৫৪৩ ডলার)। নিম্ম আয়ের দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণেই একজন রিক্সাচালক, একজন দিনমজুরসহ সকল নিম্ম ও নিম্মমধ্যবিত্ত আয়ের ব্যক্তিবর্গের আয় বেড়েছে। তাদের দৈনন্দিন উপার্জনের অর্থ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করার পর উদ্বৃত্ত অর্থে ঘরে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবা ও আদরের সন্তানদের জন্য পছন্দমত রসালো দেশী-বিদেশী ফল ক্রয় করার সক্ষমতাও বেড়েছে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ গ্রীষ্মকালীন দেশি-বিদেশি রসালো ফল ক্রয় করে বলেই ফলবিক্রেতারা পাড়ামহল্লায়, অলিগলিতে  ভ্যানগাড়িতে বা ভাড় কাঁধে, ফুটপাতে ঝাকায় করে আম, জাম, লিচু, আপেল, মালটা, কমলা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি ফল নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সকল শ্রেণীপেশার মানুষের আয় বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি, কমদামী-বেশিদামী যে কোন ধরনের, যে কোন মূল্যের ফলও ক্রয় করছেন। সকল ধরনের ফল বিক্রয় হয় বিধায় একজন অতি সাধারন বিক্রেতা ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি পন্য ড্রাগন ফল নিয়ে পসরা সাজিয়ে ফুটপাতে বসতে সাহসী হয়েছেন। বাজারের চাহিদা মেটাতে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শক্রমে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ড্রাগন ফল এর চাষ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হয়েছেন। সাবাস শেখ হাসিনা। দীর্ঘজীবী হউন।