ইনসাইড থট

বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:০১ পিএম, ২০ জুন, ২০২১


Thumbnail

মানুষ কখনো তার সাথীকে ভুলে যায় না। বিশেষ করে সেই সাথী যদি হয় তার স্থায়ী বন্ধু। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে আমরা ভারতকে আমাদের স্থায়ী বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের সেই বিবেচনা থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা একচুলও বিচ্যুত হননি।  একারণেই ভারত যখন যেটা যুক্তিপূর্ণ আবদান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে করেছেন তিনি সেটি রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একজন বন্ধু যদি একজন জন্য করবে আরেকজন বন্ধু যদি তার বিপদে তাকে মনে রাখবে না সেটি হচ্ছে সেই দুই বন্ধুর গল্পের মতো। যখন তারা দুই বন্ধু এক বাগানে গল্প করছিল, তখন সেখানে একটি ভাল্লুক আসে। এক বন্ধু গাছে উঠতে পারে, সে উঠে গেলো। আরেক বন্ধু মরার মতো শুয়ে থাকলো। তারপরে যখন ভাল্লুক চলে গেলো গাছের বন্ধু নিচে এসে তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলো যে, তোমার কানে কানে ভাল্লুক কি বলল। নিচে শুয়ে থাকা বন্ধু বলল, "বিপদেই বন্ধুকে চেনা যায়"।

ভারত আমাদের সাময়িক বিপদে ফেলেছে কিন্তু এমন বিপদ যে বিপদে জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বোঝার প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তারা যখন হঠাৎ করে আমাদের পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিল এবং সেই অবস্থা কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বুদ্ধিমত্তা, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকার কারণে সেই অবস্থা থেকে তিনি উতরে গেছেন। এরপরে দেখা গেলো যে, ভারত থেকে সেরাম ইনস্টিটিউট টাকা নিয়ে আমাদের ভ্যাকসিন দিল না। যুক্তি দেখালো আমাদের করোনা পরিস্তিতি খুব খারাপ। এ কথা ঠিক যে, ভারতের তখন করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। তবে তার মধ্য থেকে আমাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য মাত্র ২০-২২ লাখ ডোজ দেওয়া ভারতের কাছে উপহার হিসেবেও কোনাে ক্ষতির কাজ ছিল না। কিন্তু ভারত সেটা করে নি।

শুধু তাই নয়, আমি ইতিমধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমার সঙ্গে যাদের যোগাযোগ আছে তাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, এখন যে পরিমাণ কোভিশিল্ড টিকা ভারত উৎপন্ন করছে এবং ভারত এখন যে পরিমাণ ভ্যাকসিন রোল আউট করছে সেখানে সমস্ত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রয়োজন হচ্ছে না। কারণ তারা বিভিন্ন ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। এই কারণে সেখান থেকে বাংলাদেশের কেনা ভ্যাকসিন অর্থাৎ এক বন্ধুকে বিশ্বাস করে আরেক বন্ধু যে ভ্যকসিন কিনেছিল, সেটা তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ভারত আস্তে আস্তে আমাদের বন্ধুত্ব থেকে সরে যেতে চাচ্ছে। ভারতের মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভারতের কোনো প্রতিবেশির সাথেই তারা বন্ধুত্ব স্থায়ীভাবে রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।

তারা আমাদেরকে দেখা যাচ্ছে যে, পানির জন্য যে ব্যবহারটা করেছে তার সমাধানকল্পে আমাদের ইতিমধ্যে চীনের সহায়তায় আমরা তিস্তা নদীতে জলাধার নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছি এবং আশা করি আমরা এতে সমর্থ হবো। ভারতের মনে রাখতে হবে যে, সাময়িকভাবে আমাদের প্রতি যে শত্রুভাবাপন্ন ব্যবহার করলো এর কিন্তু মূল্য দিতে হবে। কেননা কখনোই এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে প্রয়োজনের সময় সাহায্য না করলে আরেক বন্ধু তাকে সাহায্য করবেই এটি আশা করা সঠিক নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান আমরা ভুলিনি। কিন্তু আমরা যে ভারতকে কি দিয়েছি স্বাধীনতার ৫০ বছরে ভারত কি তা একবারও হিসাব করছে না। 

তারা মনে হচ্ছে যেনো ভারতের গরুর প্রতি যেটুকু যত্নশীল, আমাদের দেশের মানুষের প্রতি সেটুকু নয়। আমরা দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে না পারার ফলে আমরা যেরকম লজ্জিত হচ্ছি মানুষের কাছে তাদের কাছে সেটাও কোনো গুরুত্ব পাচ্ছে না। এতে করেই প্রমাণিত হয় যে, ভারত আমাদের বন্ধুত্ব চায় না। ভারতের অনেক বিজ্ঞ লোক আছেন, যারা পরীক্ষা করে দেখুন যে বাংলাদেশ ছাড়া এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়া তাদের কোনো পরীক্ষিত বন্ধু আছে কিনা।  আমরা যেটুকু রাজনীতি বুঝি তাতে আমরা বিশ্বাস করি আমরা ছাড়া তাদের কোনো বন্ধু সেরকভাবে আর নাই এবং তারা আমাদেরকে নিজেরাই তাদের বন্ধুত্বের খাতা থেকে নাম কেটে দিচ্ছে। আমাদের যদি নাম কেটেই দেয় তাহলে তো স্বাভাবিকভাবেই তাদের সাথে আমাদের আর সেই নির্ভরযোগ্য বন্ধুত্ব আর থাকলো না। 

দুই ধরনের বন্ধুত্ব হয়। একটি হলো, মৌখিক তথাকথিত বন্ধুত্ব। আরেকটি হলো বিশ্বাসযোগ্য বন্ধুত্ব। ভারত এখন আমাদের বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু সে কথা বললে সত্যই অপরাধ হবে। ভারতকে চিন্তুা করতে হবে যে, তারা বাংলাদেশের সাথে বিশ্বাসযোগ্য এবং স্থায়ী বন্ধুত্ব চায় কিনা। যদি চায়, আমি যেহেতু জেনে বলছি, আমি বিএমআরসি`র চেয়ারম্যান হিসেবে আমার এই সব সয়েন্টিফিক খবরগুলি জানতে হয় তাই জেনেছি, তারা অবিলম্বে যেকোনো আকারেই হোক আমাদেরকে দেওয়া শুরু করতে পারে। যদি তারা সেটা শুরু না করে তাহলে আমরা বুঝে নেবো যে, ভারতের ওপরে কোনো ব্যাপারেই বিশ্বাস করা যাবে না। 

ভারতবাসী যেনো ভুলে না যায় যে, যখন দেশ স্বাধীন হয়, ইংরেজদের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে, তখন ভারতের অনেক অসুবিধা ছিল। তখনকার প্রধানমন্ত্রী নেহেরু দেশকে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট করার জন্য দেশবাসীকে অনেক কষ্ট দিয়েও তারা টেকনোলজিকে উন্নত করেছিল। টেকনোলজিক্যাল এই উন্নতি করতে গিয়ে তারা সমরাস্ত্রের দিকে নজর দেয়নি দেখে যখন চীনের সাথে তাদের যুদ্ধ হয় তখন দেখা যায় ভারত চীন থেকে অনেক নিচে অবস্থান করছে। আমরা অবশ্যই আল্লাহ`র মর্জি প্রত্যকটি ব্যাপারে সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট হওয়ার জন্য আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন। যে রাষ্ট্রনায়ক প্রতিটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি অবশ্যই এই সাময়িক অসুবিধা দূর করতে সক্ষম হবেন। সর্বোচ্চ আমাদের হয়ত জুলাই মাসের অর্ধেক পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের জোড়াতালি দিয়ে চলতে হবে। তারপর থেকে আমরা ভ্যাকসিনে অবস্থার উন্নতি করতে পারবো।

যদি কেউ দোষ বলে, তাহলে বলবো আমাদের দোষ হয়েছে সেটি হচ্ছে, ভারতকে আমরা নির্ভরযোগ্য বন্ধু মনে করেছি। আমাদের ভারতকে বন্ধু ভাবায় দোষ ছিল না কিন্তু নির্ভরযোগ্য বন্ধু ভাবাটা বোধহয় ভুল ছিল। ভারত যেমন তাদের স্বার্থের জন্য আমাদেরকে বন্ধু ভাবে, আমাদেরও তাদেরকে স্বার্থের ওপরে বন্ধু এখন থেকে ভাবা শুরু করবো। তাই ভারতীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এখনো তাদের সরকারকে গরুর দিকে নজর না দিয়ে মানুষের দিকে নজর দেওয়ার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি এবং আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, না হলে তারা যেরকমভাবে স্বার্থের জন্য বন্ধুত্ব রক্ষা করে, আমাদেরও বন্ধুত্ব ভারতের সাথে ও স্বার্থের জন্যই হবে। ভারত যে বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু ছিল সেটা ভারতই নষ্ট করলো। এর সব দায় দায়িত্ব ভারতকেই নিতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শান্তিনিকেতন

প্রকাশ: ০২:০১ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail

কথা ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক পরবর্তী সফরে অতীতে যে সকল স্হান বা ঐতিহাসিক স্হাপনা দেখি নি, এবার চেষ্টা করবো। সকালে হাওড়া থেকে ট্রেনযোগে বীরভূম জেলার বোলপুরে যাত্রা করি। ট্রেনের নামই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস । সময় লাগে তিন ঘন্টার মত। পথে বড় স্টেশন বলতে বর্দ্ধমান জংশন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্হান আসানসোল এ জেলাতেই। দেখলাম, এখানে অগ্নিবীণা নামেও একটি এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। জানালার পাশে সীট পাওয়ায় সরাসরি প্রকৃতির কোমল স্পর্শ অনুভব করি। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ। নয়ন জুড়ানো নিসর্গে নুয়ে আছে অবারিত আকাশ। দিগন্ত রেখায় শরতের সাদা মেঘের আনাগোনা। দৃষ্টির সীমানাতেই কোথাও কোথাও কাশ ফুলের শুভ্রতা।  কলকাতা শহর ছেড়ে মফস্বলের দিকেও শারদীয় দূর্গোৎসবের সাজ সাজ রব পড়ে আছে। আজকের দিনটাও যেন এক অপূর্ব মোহনীয় সৌন্দর্যের আবেশে জড়ানো। একরাশ ঝলমলে রৌদ্রময় সকাল দিয়ে শুরু। ভাবছিলাম আহা! আমাদের কত বড় বাংলাদেশ ছিল। এক সময়ে এ পথেই নিত্য পাড়ি দিয়েছেন, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, ইন্দিরা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ আরও কত মনীষী। অল্পক্ষণের মধ্যেই পাশে বসা যাত্রীর পরিচয় পেয়ে গেলাম।  বোলপুরের এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের  শিক্ষিকা তিনি। নাম নমরুতা মুখার্জি। পড়াশুনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন আমাদের ময়মনসিংহের। লক্ষ করলাম, শান্তিনিকেতন ট্রেনের কামরাতেও রবীন্দ্রনাথের বাণী উৎকীর্ণ করা আছে। দাঁড়িয়ে একটু পড়ে নিলাম, "We come nearest to the great, when we are great in humility."  বা "Faith is the bird that feels the light when the dawn is still dark" ইত্যাদি। বোলপুর স্টেশনে নেমে সোজা ডানে যাই। প্রথমেই বাংলাদেশ ভবন ও ইন্দিরা গান্ধী স্মৃতি ভবন। ফিরে এসে পরবর্তী সারাদিন শান্তিনিকেতনের নানা অলিগলি ধরে ঘুরি। টেক্সিওয়ালা নিজেই গাইড। তারা সবই চিনে। প্রতিদিনের নতুন অভিজ্ঞতা বলে কথা। 

২) মামুন, সুজনসহ আমরা তিনজন দীর্ঘ রাস্তা ধরে যাচ্ছি। চোখে পড়ে সূচনালগ্নের সেই  ছাতিম তলা, উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন বাড়ি, লাইব্রেরি, তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, কলা ভবন, সংগীত ভবন, যাদুঘর, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র, ইন্দিরা গান্ধীর ছাত্রী হোস্টেল, পেছনের রাঙা মাটির পথ, বিশালাকার খেলার মাঠ ইত্যাদি। ঘুরতে গিয়ে প্রবেশ করি সৃজনী শিল্পগ্রামের ভেতরে। এতে টিকিট করে যাওয়ার ব্যবস্হা। দু'পাশে উন্মুক্ত সবুজে আলোচনা মঞ্চ। নানা প্রকার মূর্তিসহ গৃহের সারিবদ্ধ প্রদর্শনী। এগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের গৃহায়ণ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। আদিবাসীদের হস্তশিল্প ও হোম-মেড পোশাক প্রদর্শনীও চোখে পড়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয়  ছিল একগুচ্ছ বাঁশঝাড়ের নিচে বসে বাউলশিল্পী দিলীপ বীরবংশীর গান। তার হাতের একতারাটা যেন কথা বলছে। সে গাইছিল "তোমায় হৃদ মাজারে রাখবো ছেড়ে যাব না"। আমার অনুরোধে রবি ঠাকুরের গান "দেখেছি রূপ সাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা" কী অসাধারণ সুর, তাল ও লয়। মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে আমার মতন অনেকেই শুনছিল। আমি কিছু সময় তাকে সঙ্গ দিই। আলাপ করে জানি, বোলপুর স্টেশনের পাশেই ওর বাড়ি ; বংশ পরম্পরায় এখানে বসে রবীতীর্থে আগত দর্শণার্থীদের মনোরঞ্জনের নিমিত্ত কন্ঠসেবা দিয়ে চলেছেন। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দানই তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। 

৩) ফেরার পথে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিষয়ক মেলায় প্রবেশ করি। দেখি, শিশুরাই হরেকরকম খাবার বিক্রি করছে। মূলত এদেরকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষে নিজেরাও খেয়েছি। ভেতরে ঘুরে একে ওকে জিজ্ঞেস করে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভবনের নাম জানার চেষ্টা করি। তখন বারংবার মনে পড়ছিল আমাদের বিখ্যাত রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী ও ক্ষীতিমোহন সেনের কথা । তবে বাঙালি  নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের জন্মবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরটা দেখলাম। অমর্ত্য সেনের জন্ম এখানেই। জনশ্রুতি আছে,  তাঁর এ নামটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই রেখেছিলেন। ভাবছিলাম, সর্বত্র প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং অন্তহীন কঠোরতার ভেতরেও একজন বাঙালি নিরাপত্তাকর্মী সদয় হয়ে আমাদের ঈশারায় অনুমতি দিলেন। এতে আমরা কৌতুহল উদ্দীপক এবং একইসাথে  আনন্দিত ও বিস্মিত হই। এতটা প্রত্যাশাই করিনি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আমাদের ট্রেনের সময় প্রায় আসন্ন। টেক্সি মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা কর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্তত তাকে একটু প্রসন্ন করি। তার অকৃত্রিম হাসিটা আমাদেরও প্রীত করেছিল। 

৪) বিরাট এলাকা জুড়ে এখন শান্তিনিকেতন। জানা যায়, ভেতরে ৩৬৭০ বিঘা জমি। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন মাত্র ২০ বিঘা দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের জন্মের দু'বছর আগেই তিনি ব্রম্মধর্মের আধ্যাত্মিক জগতের সন্ধানে এমন নিরালায় উপাসনালয় নির্মান করে নাম দেন শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর হাত ধরেই এখানে কালক্রমে গড়ে উঠে আজকের পৃথিবীর বহুভাষার সূতিকাগার এবং বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত বিশ্বভারতী  বিশ্ববিদ্যালয়। যার আচার্য স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এখানকার যে বাড়িতে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বাস করতেন এর বয়স হয়েছে ১৫৮ বছর। বছরব্যাপী, এমনকি বারোমাসেই বহুবিধ উৎসব,পার্বণ,মেলায় মুখরিত হয়ে থাকে শ্রীনিকেতন প্রাঙ্গন। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছি, মানুষ আসছে, মানুষ যাচ্ছে, তাঁরা  যুগযুগান্তর ধরে ঘুরছে। অনাগত কালের জন্য   এ যেন এক মহাতীর্থভূমির কিংবদন্তিতে পরিনত হয়ে আছে। রবীন্দ্র গবেষকদের অনেকেই  মনে করেন,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ শান্তিনিকেতনের উদয়ন বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিন পূর্বে শারীরিক অবস্থার অবনতিতে তাঁকে ইজি চেয়ারে উপবিষ্ট করিয়ে বোলপুর স্টেশনে নিয়ে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে আনা হয়েছিল। ডাঃ নীল রতন সরকার ও ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানেই তাঁর প্রস্টেট অপারেশন হয়েছিল, তবে সফল হয়নি। ২২ শ্রাবণ, ৭ আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিঃ তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। 

৫) সূর্যাস্ত হয়ে পড়ে। বোলপুর রেলস্টেশন বেশ জনাকীর্ণ। ওপরের ফুটওভার ব্রিজ ডিঙিয়ে ওপারে যাই। দুই মিনিটও অপেক্ষার ফুরসত পেলাম না। বিকট শব্দে দিকবিদিক কাঁপিয়ে অসম্ভব দীর্ঘ এক এক্সপ্রেস ট্রেন এসে থামলো। 

কোনো রকম খোঁজাখুঁজি না করে ওঠে পড়ি। পর্যায়ক্রমে তিনজনই আসন পেয়ে যাই। ঝমঝম ঝিকঝিক শব্দ করে চলছে ট্রেন। বর্দ্ধমান স্টেশনটা ছাড়া প্রায় বিরতিহীন ভাবে চলেছে। ঘন্টাতিনেক বাদে ঘোষণা আসে, আমরা শিয়ালদহ রেলস্টেশনে অবতরণ করছি। ভাবছি ভালোই হলো, রবীন্দ্রনাথ এর অসংখ্য লেখায় বিশেষ করে ছিন্নপত্রে শিয়ালদহ রেলস্টেশনের নাম এসেছে একাধিক বার। আমরা গেলাম হাওড়া থেকে ফিরে এলাম শিয়ালদহ হয়ে। আবার কলকাতা। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শান্তিনিকেতন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail শান্তিনিকেতন

কথা ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক পরবর্তী সফরে অতীতে যে সকল স্হান বা ঐতিহাসিক স্হাপনা দেখি নি, এবার চেষ্টা করবো। সকালে হাওড়া থেকে ট্রেনযোগে বীরভূম জেলাধীন বোলপুরে যাত্রা করি। ট্রেনের নামই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস । সময় লাগে তিন ঘন্টার মত। পথে বড় স্টেশন বলতে বর্দ্ধমান জংশন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্হান আসানসোল এ জেলাতেই। দেখলাম, এখানে অগ্নিবীণা নামেও একটি এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে। জানালার পাশে সীট পাওয়ায় সরাসরি প্রকৃতির কোমল স্পর্শ অনুভব করি। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ। নয়ন জুড়ানো নিসর্গে নেমে আছে অবারিত আকাশ। দিগন্ত রেখায় শরতের সাদা মেঘের আনাগোনা। কলকাতা শহর ছেড়ে মফস্বলের দিকেও শারদীয় দূর্গোৎসবের সাজ সাজ রব পড়ে আছে। আজকের দিনটাও যেন এক অপূর্ব মোহনীয় সৌন্দর্যের আবেশে জড়ানো। একরাশ ঝলমলে রৌদ্রময় সকাল দিয়ে শুরু। ভাবছিলাম আহা! আমাদের কত বড় বাংলাদেশ ছিল। এক সময়ে এ পথেই নিত্য পাড়ি দিয়েছেন, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ আরও কত মনীষী। অল্পক্ষণের মধ্যেই পাশে বসা যাত্রীর পরিচয় পেলাম। বোলপুরের এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের একজন শিক্ষিকা তিনি। নাম নমরুতা মুখার্জি। পড়াশুনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে। তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন আমাদের ময়মনসিংহের। লক্ষ করলাম, শান্তিনিকেতন ট্রেনের কামরাতেও রবীন্দ্রনাথের বাণী উৎকীর্ণ করা আছে। দাঁড়িয়ে একটু পড়ে নিলাম, "We come nearest to the great, when we are great in humility."  বা "Faith is the bird that feels the light when the dawn is still dark" ইত্যাদি। বোলপুর স্টেশনে নেমে সোজা ডানে যাই। প্রথমেই বাংলাদেশ ভবন ও ইন্দিরা স্মৃতি ভবন। ফিরে এসে পরবর্তী সারাদিন শান্তিনিকেতনের নানা অলিগলি ধরে ঘুরি। টেক্সিওয়ালা নিজেই গাইড। তারা সবই চিনে। প্রতিদিনের নতুন অভিজ্ঞতা বলে কথা।

২) মামুন, সুজনসহ আমরা তিনজন দীর্ঘ রাস্তা ধরে যাচ্ছি। চোখে পড়ে সূচনালগ্নের সেই  ছাতিম তলা, উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন বাড়ি, লাইব্রেরি, তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, কলা ভবন, সংগীত ভবন, যাদুঘর, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র, ইন্দিরা গান্ধীর ছাত্রী হোস্টেল, পেছনের রাঙা মাটির পথ, বিশালাকার খেলার মাঠ ইত্যাদি। ঘুরতে গিয়ে প্রবেশ করি সৃজনী শিল্পগ্রামের ভেতরে। এতে টিকিট করে যাওয়ার ব্যবস্হা। দু'পাশে উন্মুক্ত সবুজে আলোচনা মঞ্চ। নানা প্রকার মূর্তিসহ গৃহের সারিবদ্ধ প্রদর্শনী। এগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের গৃহায়ণ ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। আদিবাসীদের হস্তশিল্প ও হোম-মেড পোশাক প্রদর্শনীও চোখে পড়ে। সবচেয়ে আকর্ষীয় ছিল একগুচ্ছ বাঁশঝাড়ের নিচে বসে বাউলশিল্পী দিলীপ বীরবংশীর গান। তার হাতের একতারাটা যেন কথা বলছে। সে গাইছিল "তোমায় হৃদ মাজারে রাখবো ছেড়ে যাব না"। আমার অনুরোধে রবি ঠাকুরের গান "দেখেছি রূপ সাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা" কী অসাধারণ সুর, তাল ও লয়। মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে আমার মতন অনেকেই শুনছিল। আমি 
কিছু সময় তাকে সঙ্গ দিই। আলাপ করে জানি, বোলপুর স্টেশনের পাশেই ওর বাড়ি ; বংশ পরম্পরায় এখানে বসে রবীতীর্থে আগত দর্শণার্থীদের মনোরঞ্জনের নিমিত্ত কন্ঠসেবা দিয়ে চলেছেন। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দানই তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

৩) ফেরার পথে বিশ্বভারতীর উদ্যোগে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিষয়ক মেলায় প্রবেশ করি। দেখি, শিশুরাই হরেকরকম খাবার বিক্রি করছে। মূলত এদেরকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষে নিজেরাও খেয়েছি। ভেতরে ঘুরে একে ওকে জিজ্ঞেস করে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভবনের নাম জানার চেষ্টা করি। তখন বারংবার মনে পড়ছিল আমাদের বিখ্যাত রম্যলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী ও ক্ষীতিমোহন সেনের কথা । তবে বাঙালি  নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের জন্মবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরটা দেখলাম। অমর্ত্য সেনের জন্ম এখানেই। জনশ্রুতি আছে,  তাঁর এ নামটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই রেখেছিলেন। ভাবছিলাম, সর্বত্র প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এবং অন্তহীন কঠোরতার ভেতরেও একজন বাঙালি নিরাপত্তাকর্মী সদয় হয়ে আমাদের ঈশারায় অনুমতি দিলেন। এতে আমরা কৌতুহল উদ্দীপক এবং একইসাথে  আনন্দিত ও বিস্মিত হই। এতটা প্রত্যাশাই করিনি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আমাদের ট্রেনের সময় প্রায় আসন্ন। টেক্সি মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা কর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্তত তাকে একটু প্রসন্ন করি। তার অকৃত্রিম হাসিটা আমাদেরও প্রীত করেছিল।

৪) বিরাট এলাকা জুড়ে এখন শান্তিনিকেতন। জানা যায়, ভেতরে ৩৬৭০ বিঘা জমি। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন মাত্র ২০ বিঘা দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের জন্মের দু'বছর আগেই তিনি ব্রম্মধর্মের আধ্যাত্মিক জগতের সন্ধানে এমন নিরালায় উপাসনালয় নির্মান করে নাম দেন শান্তিনিকেতন। এখানেই কালক্রমে গড়ে উঠে আজকের পৃথিবীর বহুভাষার সূতিকাগার এবং বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত বিশ্বভারতী  বিশ্ববিদ্যালয়। যার আচার্য স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এখানকার যে বাড়িতে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বাস করতেন এর বয়স হয়েছে ১৫৮ বছর। বছরব্যাপী, এমনকি বারোমাসেই বহুবিধ উৎসব,পার্বণ,মেলায় মুখরিত হয়ে থাকে শ্রীনিকেতন প্রাঙ্গন। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছি, মানুষ আসছে, মানুষ যাচ্ছে, তাঁরা  যুগযুগান্তর ধরে ঘুরছে। অনাগত কালের জন্য   এ যেন এক মহাতীর্থভূমির কিংবদন্তিতে পরিনত হয়ে আছে। রবীন্দ্র গবেষকদের অনেকেই  মনে করেন,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ শান্তিনিকেতনের উদয়ন বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র ১৫ দিন পূর্বে শারীরিক অবস্থার অবনতিতে তাঁকে ইজি চেয়ারে উপবিষ্ট করিয়ে বোলপুর স্টেশনে নিয়ে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে আনা হয়েছিল। ডাঃ নীল রতন সরকার ও ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানেই তাঁর প্রস্টেট অপারেশন হয়েছিল, তবে সফল হয়নি। ২২ শ্রাবণ, ৭ আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিঃ তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

৫) সূর্যাস্ত হয়ে পড়ে। বোল রেলস্টেশন বেশ জনাকীর্ণ। ওপরের ফুটওভার ব্রিজ ডিঙিয়ে ওপারে যাই। দুই মিনিটও অপেক্ষার ফুরসত পেলাম না। বিকট শব্দে দিকবিদিক কাঁপিয়ে অসম্ভব দীর্ঘ এক এক্সপ্রেস ট্রেন এসে থামলো। কোনো রকম খোঁজাখুঁজি না করে ওঠে পড়ি। পর্যায়ক্রমে তিনজনই আসন পেয়ে যাই। ঝমঝম ঝিকঝিক শব্দ করে চলছে ট্রেন। বর্দ্ধমান স্টেশনটা ছাড়া প্রায় বিরতিহীন ভাবে চলেছে। ঘন্টাতিনেক বাদে ঘোষণা আসে, আমরা শিয়ালদহ রেলস্টেশনে অবতরণ করছি। ভাবছি ভালোই হলো, রবীন্দ্রনাথ এর অসংখ্য লেখায় বিশেষ করে ছিন্নপত্রে শিয়ালদহ রেলস্টেশনের নাম এসেছে একাধিক বার। আমরা গেলাম হাওড়া থেকে ফিরে এলাম শিয়ালদহ হয়ে। আবার কলকাতা।

২৭ সেপ্টেম্বর 
বেঙ্গালোর,
ভারত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বিশ্ব হার্ট দিবস

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব হার্ট দিবস

২৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে ১৯৯৯ সালে প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়। সে ধারাবাহিকতায় হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০০০ সাল থেকে  পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘Use Heart for Every Heart’. সারা বিশ্বে হৃদরোগে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস এ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বরোধে ভাল ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে। জনমিতিক পরিবর্তনে আছে অনেক সম্ভাবনার বাঁক। শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু এবং অনুরূপ অনাকাক্সিক্ষত ও অকাল মৃত্যুরোধে অগ্রগতি হয়েছে অনেক। সংক্রামক রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু বহুলাংশে কমেছে। কিন্তু সমানতালে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসংক্রামক রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার ছিল মাত্র ৮% ভাগ। ২০১৪ সালে এ হার ৫৯%-এ উন্নীত হয়েছে। এখন অসংক্রামক রোগে মৃত্যু আরো বেশি, এবং সেখানে হৃদরোগের ভূমিকাই প্রধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসংক্রামক রোগে এদেশে মৃত্যুর হার ৬৭%, এবং এর মধ্যে ৩০% মৃত্যুর জন্য দায়ী হৃদরোগ। 

হৃদপিণ্ডের রোগ বা হৃদরোগ প্রধানত ৪ প্রকার। এর মধ্যে আছে হৃদপিণ্ডের রক্তবাহী নালী (করোনারি) সংক্রান্ত হৃদরোগ, হার্টের ভাল্ব সংক্রান্ত হৃদরোগ, হার্টের পাম্প করার অক্ষমতাজনিত হৃদরোগ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সম্পর্কিত হৃদরোগ। তবে ৪ প্রকার হৃদরোগের মধ্যে করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি এবং এ মৃত্যুর হার প্রতি বছর বাড়ছে। করোনারি হৃদরোগ বৃদ্ধির গতি নারীদের মধ্যে আরো বেশি। ১৯৮৬ সালে এদেশে প্রতি ১ লক্ষ পুরুষের মধ্যে ১৬ জনের হৃদরোগে মৃত্যুবরণের চিত্র ছিল। ২০০৬ সালে তা বেড়ে ৪৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর হার বেড়েছে ৩০ গুণ। নারীদের মধ্যে এ হার বেড়েছে প্রায় ৪৭ গুণ। প্রতি লাখে বেড়েছে সাত জন থেকে ৩৩০ জনের মৃত্যু। সাম্প্রতিক সময়ে হৃদরোগে মৃত্যুহার কি সংখ্যায় বেড়েছে, তা নির্ধারণ করলে একটা আশঙ্কাজনক চিত্রই পাওয়া যাবে। 

এদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কেন প্রতি বছর বাড়ছে? এর পেছনে কারণ অনেক। কিছু জানা, কিছু অল্প বা ভাসা ভাসা জানা। কিছু এখনো অজানা। হৃদরোগ বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগ সবচেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে বেশি। বলা হয় জেনেটিক কারণ। কিন্তু দেহকোষের কোন জিন হৃদরোগের সৃষ্টি করে, তা এখনো শনাক্ত হয়নি। জেনেটিক কারণ ছাড়া অন্য যেসব কারণে হৃদরোগ হয়, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে- শরীরে ক্ষতিকর চর্বি বৃদ্ধি। খাদ্যাভ্যাস বিশেষ করে লাল মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, ধূমপান, কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, খাবারে লবণ বেশি খাওয়া ইত্যাদির কারণে ক্ষতিকর চর্বি বৃদ্ধি হয় ও হৃদরোগ সৃষ্টি করে। হৃদরোগের প্রধান কারণগুলো তাই জেনেটিক ও অভ্যাসের মধ্যে বেশি ঘুরপাক খায়। আপাতত: জেনেটিক কারণ প্রতিরোধ না করা গেলেও খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটালে হৃদরোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা যায়। প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস। এজন্যই প্রতি বছর পালিত হয় ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’।

করোনরি হৃদরোগের প্রাদুর্ভাব অহেতুকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। আবার দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে আনুপাতিক হারে বাংলাদেশে এ রোগ বেশি। কারণ অজানা। ধরা হয় জেনেটিক কারণ। বাংলাদেশি মানুষ বিদেশে থাকলেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের করোনারি হৃদরোগের হার সেখানের শে^তাঙ্গ মানুষের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পুরুষদের মধ্যে শে^তাঙ্গদের চেয়ে করোনারি হৃদরোগ ১১২% বেশি এবং মৃত্যু হার ২২০% বেশি।

বাংলাদেশের মানুষের এ করোনারি হৃদরোগের ৪০% থেকে ৬০% কারণ জেনেটিক, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের শরীরে এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) এবং ট্রাইগ্লাসারাইড বেশি। অপরদিকে, এইচডিএল (হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) আনুপাতিক হারে কম। এলডিএলকে শরীরের জন্য খারাপ কোলস্টেরল এবং এইচডিএলকে ভাল কোলস্টেরল হিসাবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, যে কোলস্টেরল খারাপ সেটা আনুপাতিক হারে বেশি এবং যেটা ভাল সেটি আবার কম। কোলস্টেরল ও  ট্রাইগ্লাসারাইডের এ ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী জেনেটিক কারণ। সাথে আছে সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্স ফ্যাট ব্যবহার, বেশি করে ভাজি করা খাদ্য খাওয়া, রান্নার তেল পুনর্ব্যবহার, অতিমাত্রায় সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস।

বাংলাদেশে কম জন্ম ওজন নিয়ে শিশু জন্মানোর হার এখনও ২২.৫%। জন্মের সময় শিশুর ওজন ২.৫ কেজির নিচে থাকলে কম জন্ম ওজন (Low Birth Weight) হিসেবে গণ্য করা হয়। কম জন্ম ওজনের শিশু পরবর্তী জীবনে হৃদরোগসহ অনেক অসংক্রামক রোগের শিকার হয় বলে তথ্য পাওয়া যায়। করোনারি হৃদরোগের সাথে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার সম্পর্ক আছে। সারা পৃথিবীতে ৫০% মানুষের ভিটামিন স্বল্পতা আছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। শহরের বিশেষ করে সচ্ছল ও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার হার বেশি। আর্সেনিক দূষণের সাথেও হৃদরোগের সম্পর্ক পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণযুক্ত পরিবেশে বসবাস করে। পানি, তরিতরকারি, খাদ্যশস্যের মাধ্যমে তারা আর্সেনিক দূষণের শিকার হয়। দূষিত বায়ু বিশেষ করে বাতাসের ভাসমান অতি সূক্ষ্মকণা, সালফার-ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড করোনারি হৃদরোগ সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় পাওয়া যায়। এ দেশে ঢাকা ও বড় শহরের বায়ুদূষণ একটা মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা হৃদরোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল খেলে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি আছে আর্থিক দুশ্চিন্তার সাথে, ডিপ্রেশান, বঞ্চনা ও সামাজিক বৈষম্যজনিত মানসিক দুশ্চিন্তার সাথে। এ  ঝুঁকি সম্পর্কে যেমন বেশি করে গবেষণা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সামাজিকভাবে এ সকল বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

হৃদরোগ চিকিৎসা বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগ চিকিৎসায় এ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতি অনেক। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সর্বপ্রথম ১৯৮৭ সালে এনজিওপ্লান্টি শুরু হয়, বিদেশি চিকিৎসকদের অত্ত্বাবধানে। ১৯৯৫ সালে সম্পন্ন হয় প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি। করোনারি ধমনীতে স্টেন্টিং বসানো শুরু হয়- ১৯৯৭ সালে। ইতোমধ্যে হার্ট সার্জন ও চিকিৎসক তৈরি হয়েছে অনেক। সরকারি-বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই এখন এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং এবং বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে করোনারি হৃদরোগের ভাল চিকিৎসা হয়। সার্জারি ও চিকিৎসায় যে অগ্রগতি, সে তুলনায় এ রোগ প্রতিরোধে অগ্রগতি প্রায় নেই। এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং অধিককাংশ রোগী যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পায় না। তাছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। পঙ্গুত্বের হারও অনেক। দেশে হৃদরোগ এক নম্বর মারণঘাতী রোগ হিসেবে চিহ্নিত। এ অবস্থা নিরসনে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য-শিক্ষা এবং পাঠ্যপুস্তকে এ রোগ প্রতিরোধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া খুবই জরুরি। মানুষই যদি না বাঁচে, তবে শিক্ষিত করে অগ্রগতি করা যাবে না। বিশ^ হার্ট দিবসে এবং আগামী দিনগুলোতে হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে- সেটাই হোক অঙ্গীকার।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘অদম্য বাংলাদেশ‘: বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘অদম্য বাংলাদেশ‘: বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়

কিছু মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তাকে পালটে দিতে, নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় অন্যের সুখ আহরণে, তেমন একজন মানুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠা কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি নদীর তীরে গিমাডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক রোল মডেল। স্বাধীনতার পর আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকেতলাবিহীন ঝুড়িবলে যে ব্যঙ্গোক্তি করেছিল তা শেখ হাসিনার দূরদর্শী ভিশনারী নেতৃত্বের যাদুকরি স্পর্শে মিথ্যা প্রমান করে বাংলাদেশ আজ খাদ্যভান্ডারে পরিনত হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিদেশে রপ্তানি করারও সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়- নিজস্ব অর্থায়নেপদ্মা সেতু মত মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার ক্যারিশ্ম্যাটিক নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পনা মোতাবেক অবকাঠামো উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শেখ হাসিনা প্লাস্টিক বার্ণ হাসপাতাল, ১০০টি ইকোনমিক জোন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড হাইওয়ে, গভীর সমুদ্রবন্দর, রেল সংযোগসহ পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলি ট্যানেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ধুমধুম রেললাইন ইত্যাদি মেগাপ্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড/ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হয়েছে। এসব বহুবিধ কারণে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজউন্নয়নের এক রোল মডেল’- পরিণত হয়েছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করে সবাই যখন ভারত-পাকিস্তান নিয়ে ব্যস্ত, সে সময় মুসলিম লীগের তৎকালীন প্রগতিশীল ধারার তরুণ নেতা ২৭ বছর বয়সী শেখ মুজিব পূর্ববাংলাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন। শুধু স্বপ্ন দেখেই ক্ষান্ত হননি। সে অনুযায়ী পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছিলেন। ব্রিটিশরা বিতাড়িত হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিকতার বেড়াজালে শোষণ, বঞ্চনার কষাঘাতে জর্জরিত দেশের জনগণ দারিদ্রতা দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়।

১৯৭১-এর মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিব বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনা হামলা শুরুর সাথে সাথেই স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা লাভ করে। সেই থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্বাদ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে স্বাধীন বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কিন্তু বিধি বাম, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর কালো রাতে স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য। থমকে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সোনারবাংলা গড়তে গৃহীত সকল কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়। স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয় স্বাধীনতা বিরোধীরা। পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এমনি পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে দিবানিশি নির্ঘুম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্যকন্যা শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক তিনি।

দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক সহিংসতা, করোনা অতিমারীর কুফল, রাশিয়া-ইউক্রেণ যুদ্ধ ইত্যাদি প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে টানা প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতা থাকা  চ্যালেঞ্জিং ছিল সবসময়। মানুষের প্রতি বিশ্বাস, অকৃত্রিম ভালোবাসা, অভিজ্ঞতা, আত্মপ্রত্যয় দূরদর্শিতার কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেত্রী। তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা বিচক্ষণতা দ্বারা দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারায়, দেশের অর্থনীতিতে তাক লাগানো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে- বাংলাদেশ বিশ্বে এক অপার বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬৭ বছর ছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ১৯% বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫% হয়েছে। ২০২২ সালে মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার ছাড়িয়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ১০২ মিলিয়ন ডলারের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৪১৬ মিলিয়ন ডলারে। শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলভিত্তি যে কৃষি, রপ্তানী, অবকাঠামো উন্নয়ন তা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়ন ঈর্ষণীয়। ১৫. বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির আকার ৫২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন যে একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক, পদ্মা সেতুই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত বিপনন ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে সূর্যোদয়ের আগেই ঢাকার বাজারে চলে আসে। মালামাল বিক্রয় করে গ্রামে ফিরে সকালের নাস্তা খেয়ে ফসলের ক্ষেতে কাজে হাত দেয়। পচনশীল কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে অনিশ্চয়তা না থাকায় ফলমূল, শাকসবজিসহ উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেগাশহর ঢাকা মহানগরে মেট্রোরেল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডঃ আতিউর রহমান এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে বলেন, ‘মেট্রোরেল চালু হলে প্রতিদিন ৬০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে, দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। দিল্লীর মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর দিল্লীর জিডিপি ১০% এর চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তেমনি কর্নফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল, মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে % জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বাংলাদেশে। এই সবকিছুই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ফসল।

গত প্রায় ১৪ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একজন নেতা সৎ, জনদরদী, চিন্তাশীল, দূরদর্শী হলে একাই যে অসাধ্য সাধন করতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ শেখ হাসিনা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের সিংহভাগ মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে, তাঁর ওপর আস্থা রাখে এবং ভালোবাসে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে মানুষের মৌলিক চাহিদা- খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান নিশ্চিতকরণে কাজ করছেন। নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

এমন এক মহান নেত্রীর শুভ জন্মদিনে অন্তরের গভীর থেকে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ফুলেল শুভেচ্ছা ভালোবাসা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা


Thumbnail শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা দিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্ত-আঞ্চলিক পর্যায় এমনকি উন্নতনশীল বিশ্বের সীমানা অতিক্রম করে নিজেকে একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা বিশ্বনেতায় পরিণত করেছেন। এখানেই শেষ নয়।

শেখ হাসিনা একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বনেতা। নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে তাঁর সমপর্যায়ের কোন নেতা বর্তমানে দৃশ্যপটে নেই। তাঁর মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা পৃথিবীতে বিরল।  
পৃথিবীতে অনেক বিশ্বনেতার আবির্ভাব হয়েছে, যারা কেবলমাত্র তাদের দেশের অবস্থান কিংবা ভূরাজনীতির কারণে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। বিশ্বনেতা হিসেবে তাদের স্থান টেকসই হয়নি। তাদের কারো কারো নিজেদের দেশে কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়নি। তাদের অনেকেই নিজেদের দেশ এবং অঞ্চলে আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো অবদান রাখতে পারেননি।  

শেখ হাসিনা একুশ শতকে উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্নয়নশীল এবং উন্নত বিশ্বের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। কোল্ড ওয়ার পরবর্তী সময়ে বিংশ শতকের শেষ ভাগ এবং একুশ শতকের প্রথম দুই দশকে বিশ্বব্যাপী চলমান আর্থ সামাজিক, ভূরাজনৈতিক, জলবায়ু, প্রযুক্তির ট্রান্সফরমেশন বা পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শ প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে দরকষাকষি সহ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ব মানব কল্যাণের নানা মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য ধ্রুবতারার মতো ভূমিকা রেখে চলেছেন।

শেখ হাসিনার দারিদ্র বিমোচনের কৌশল ও অভিজ্ঞতা থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাঁর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল আজ সারা পৃথিবীতে অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে সুপ্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের কারণে আজ বাংলাদেশের উপর উন্নত বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে। আমাদের এই পোশাক শিল্প আজ পৃথিবীর সকল দেশের কাছেই একটি সফলতার গল্প। এই সাফল্যের মূল কারিগর শেখ হাসিনা।  

শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি কোভিড অসাধারণ দক্ষতায় মোকাবেলা এবং টীকা সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা এবং বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য শেখ হাসিনার কৌশল আজ সারা পৃথিবীতে অনুকরণীয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন গত শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে। এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

গনতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সমপর্যায়ের কোনো নেতা বর্তমান পৃথিবীতে নেতৃত্বের পর্যায়ে নেই। তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে তাঁর দল তথা নিজের দেশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পিতা মাতা সহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরও তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর পরিবার যে রকম নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক পরিবার এই রকম ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হয়নি। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ কিংবা এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড়ো ট্রাজেডি নয়, এটি পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম  রাজনৈতিক  ট্রাজেডি। এই রকম এক তীব্র ট্রমা নিয়ে খুব কম মানুষই স্বাভাবিক থাকতে পারে। এই তীব্র বেদনা নিয়ে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন সংগ্রামী নেতা থেকে কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন। জাতির পিতার পর বাংলাদেশের সকল অর্জন তাঁর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র হরণকারী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগ্রামের গল্প বিশ্বের অনেক সংগ্রামী জাতির জন্য অনুপ্রেরণা ও অনুকরণীয়। স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কীভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হয় সেটি পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।  

শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ অথচ সাহসী ও উচ্চকণ্ঠ শান্তির দূত। পৃথিবীর অনেক নেতা আছেন, যারা নিজেদের দেশ কিংবা অঞ্চল পেরুলে নিজেদের কণ্ঠের স্বর বা কণ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন করেন। বর্তমান বিশ্বে শেখ হাসিনা একমাত্র নেতা যিনি দেশি, আঞ্চলিক এমনকি বিশ্ব ফোরামে স্বার্থ সংঘাতে জড়িত সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রকৃত অর্থে বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণে বিশ্ব সম্প্রদায়কে তার  করণীয় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা এই আদর্শ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট পেয়েছেন তাঁর পিতা বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে, যিনি তাঁর সময়ে সমগ্র পৃথিবীর শোষিত বঞ্চিত মানুষের নেতা ছিলেন। এই ভূমিকায় শেখ হাসিনা তাঁর পিতার আদর্শ থেকে গত চার দশকে এক বিন্দুও বিচ্যুত হননি।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে গত চার দশকে শেখ হাসিনাই পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের আদর্শ বিরোধী শক্তি অসংখ্যবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা। তিনি বার বার বলেছেন, দেশের জন্য পিতার মতো তিনিও জীবন দিতে প্রস্তুত। তবে দেশবিরোধী অপশক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।  

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক। জাতির পিতার হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের অর্জন আমাদের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধানকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বর্তমান বিশ্ব নেতাদের মধ্যে শেখ হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দক্ষ কূটনীতি ও অতুলনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে  নিজের দেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন। জাতীয় স্বার্থের সপক্ষে তাঁর প্রতিটি অবদানই বিশ্বে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সাথে শেখ হাসিনার গঙ্গা নদীর পানি বন্টনের চুক্তি আন্তর্জাতিক নদী আইনের জন্য এক মাইল ফলক অধ্যায়। এটি এ সংক্রান্ত কাস্টমারি ইন্টারন্যাশনাল ল' এর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে নুরেমবার্গ এবং টোকিও ট্রায়ালের পর শেখ হাসিনা  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইবুনাল গঠন করে যে বিচার সম্পন্ন করেছেন, সেটি পৃথিবীর দেশে দেশে প্রশংসিত হয়েছে। কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার দীর্ঘ ৪০ বছর পর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার পৃথিবীতে বিরল। এটি বিশ্বের জন্য এক মাইল ফলক।  

অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, অন্যদিকে ঐ এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব টেকসই করার জন্য যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র্য সত্তাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী চুক্তির জন্য তিনি অনায়াসেই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেতে পারতেন। কিন্তু বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক লবি'র কারণে তাঁকে সেই প্রাপ্য থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল।  

শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও কূটনীতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনি যুদ্ধের মাধমে সমুদ্রে তার ন্যয্য সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। উত্তর সাগরে ১৯৬৯ সালে এই ধরণের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির পর বাংলাদেশের এই সমুদ্র জয় সমগ্র পৃথিবীর জন্য এক নতুন নজির।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বারে বারে পরাস্ত করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু দেশেই সফল হননি, অভূতপূর্ব দক্ষতা ও অসীম সাহসিকতা দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে তিনি জয় করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলাদেশের নানা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে মুকুট মনি খেতাবে ভূষিত করা হয়। এর আগে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছিলো। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের অর্থনীতি মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠন বিশ্বব্যাংকের অন্যায্য খবরদারীকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করেছেন। এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা এশিয়া মহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই সিদ্ধান্ত একটি মাইল ফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করেনি, তাঁর এই অসীম সাহসী সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়ও এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।  

এই ঘটনার ফলে বিশ্বব্যাংক সহ বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর বিপরীতে উন্নয়নশীল বিশ্বের দরকষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমুহে এই বিশ্বমোড়লদের নানামুখী শোষণ আর খবরদারীর উপর এক বড় ধরণের আঘাত। এর ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রভাব কমতে শুরু করবে।

পিতা মাতাসহ পরিবারের সকলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী কন্যা, অন্যদিকে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কন্যা, একজন ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্বনেতা যিনি তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর পিতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর মতো এই রকম সৌভাগ্যবান কন্যা দ্বিতীয় কেউ নেই।

আজ এই ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ব নেতা শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেনো আপনাকে বাংলাদেশের প্রয়োজনে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখেন।

শেখ হাসিনা   একুশ শতকের   সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন