ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`করোনাকালীন সময়ে ডিজিটাল হাট শতভাগ সফল একটি উদ্যোগ`

জুনাইদ আহমেদ পলক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২১ বুধবার, ০৫:০০ পিএম
`করোনাকালীন সময়ে ডিজিটাল হাট শতভাগ সফল একটি উদ্যোগ`

যেই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ডিজিটাল হাট আয়োজন করেছি, সেটা আমি মনে করি যে আমাদের উদ্দেশ্য শতভাগ সফল। কারণটা হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই মুহূর্তে আমরা কোরবানির পশু কেনার জন্য সাধারণ নাগরিকদেরকে কোনোভাবেই হাটে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারি না বা হাটে হেলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানানোর জন্য যে পরিমাণ আইনগতভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে যেভাবেই আমাদেরকে কঠোর অবস্থানে যেতে হচ্ছে তারপরও যে সমস্যাটা আমরা মোকাবেলা করছি তার একটি বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের করার প্রয়োজন ছিল। সেখান থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে মহান জাতীয় সংসদে এবং প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে এবং বক্তব্যে বলছেন যে, আমরা যেনো ঘরে থাকি এবং অনলাইনে কেনাকাটা করি। তো আমাদের একটা দায়িত্ব ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যে, কিভাবে এই কোরবানির পশুর হাটটাকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে আনা যায়। কারণ আমরা নাগরীকদেরকে শতভাগ ডিজিটাল হাটে যে ক্রয়-বিক্রয় করবে সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। কিন্তু আমাদের যে মূল উদ্দেশ্য ছিল সেটা হচ্ছে যে, কিভাবে আমরা আমাদের দেশের নাগরিকদেরকে যারা কোরবানীর পশু ক্রয় করতে চান তারদেরকে একটা বিকল্প ব্যবস্থা দেওয়া। যেনো তারা ঘরে বসে কোরবানির পশুটা ক্রয় করতে পারেন। সেই জন্যই আমরা এই ডিজিটাল হাটটার আয়োজন করেছি।

গত বছর ২০২০ সালে আমরা সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর এবং কুমিল্লা, নড়াইল, খুলনা অল্প কিছু সংখ্যক ডিজিটাল হাটের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম। কিন্তু ২০২১ সালেও এসে যখন আমরা দেখলাম যে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে নি বা সারা বিশ্বেই এর প্রকোপ চলছে তখন আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতিটা নিয়েছিলাম যে কিভাবে আমরা ডিজিটাল হাটের পরিসরটা বাড়ানো যায়। যাতে ১২টা সিটি করপোরেশন, বিভাগ, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত যাতে যে কোনো নাগরিক তারা ডিজিটাল প্লাটফর্মে ক্রয় করতে পারে এবং যেকোনো খামারি যাতে তাদের কোরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত পশু তারা ডিজিটাল হাটে উপস্থাপন করতে পারে এবং তাদের মধ্যে যেনো একটা যোগাযোগ স্থাপন হয়। সেই জন্য আমরা কিন্তু সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকলের সহযোগিতা নিয়ে, জনপ্রতিনিধি যারা আছেন তাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি ন্যাশনাল প্লাটফর্ম তৈরি করেছি যেখানে প্রায় ১৯০০ ডিজিটাল খামারি এবং প্রায় ২৪১টা হাটকে আমরা আমরা একটা সিঙ্গেল প্লাটফর্মে এনেছি সেটা হচ্ছে https://digitalhaat.net/। যেখানে আমাদের সরকারে যে প্লাটফর্ম https://ekshop.gov.bd/ যেটি আইসিটি বিভাগের এটুআই এর প্লাটফর্ম যেখানে এসক্রো সার্ভিসটা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যাতে কোনো ক্রেতা প্রতারিত না হয় বা কোনো জায়গায় যদি বিক্রেতা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, যাতে করে সেই অর্থটা একজন ক্রেতাকে আবার ফেরত দিতে পারি তার জন্য কিন্তু এসক্রো সার্ভিস প্রথমবারের মতো ইনকরপোরেট করা হয়েছে।

পাশাপাশি আমাদের পুরো দেশব্যাপী ফুড ফর নেশন যেটা আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে করেছিলাম সেখানেও কিন্তু খামারিরা তাদের কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারে এবং এটা শুধু কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে কিন্তু কোরবানির পরেও কিন্তু এই প্লাটফর্মটি চালু থাকবে। যাতে করে এই হাটটাকে আমরা ডিজিটালি অপরেট করতে পারি। তাতে করে যেটা দেখা যাচ্ছে যে প্রচুর মানুষ কিন্তু এই ডিজিটাল হাটে আসছে। একটা বিরাট সংখ্যক কোরবানির পশু বিক্রি কিন্তু হয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে অভিযোগগুলো নিস্পত্তির জন্য কিন্তু একটি কল সেন্টারের নাম্বার আমরা শেয়ার করেছি। যাতে করে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আমাদের যে ই-কমার্স ট্রেড বডি তারা যেনো এগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বসে বসে ক্রেতা বিক্রেতারদের যে কোনাে অভিযোগ নিস্পত্তি করতে পারে। এই সকল বিষয়গুলো কিন্তু আমরা মাথায় রেখেই একটা কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা আমরা এই কোরবানির পশু বিপননের ক্ষেত্রে আমরা তৈরি করেছি এবং আমি মনে করি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন এবং এই ডিজিটাল বাংলাদেশের যে সফল বাস্তবায়ন মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে আমরা করতে পেরেছি। যার ফলাফল কিন্তু এই করোনাকালীন সময়ে কোরবানীর হাট পর্যন্ত আমরা একটা ইফেকটিভ ডিজিটাল প্লাটফর্মে আনতে পেরেছি এবং আমি মনে করি এটি শতভাগ সফল একটি উদ্যোগ হয়েছে।