ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা: ধোঁয়াশা কি কাটলো এখনও?

আহনাফ তাহমিদ
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৩:০০ পিএম
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা: ধোঁয়াশা কি কাটলো এখনও?

শিক্ষার্থীরা এবার একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে পারেন। গতবছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অটোপাশ জেনারেশন’ নামের একটি ট্রেন্ড চালু হয়েছিল, যেখানে বেচারি শিক্ষার্থীদের কোনো হাতই ছিল না। বিগত সময়গুলোতে এই প্রথমই দেখা যাচ্ছে, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরীক্ষা দিতে চায়, ক্লাস করতে চায় কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ না পাবার কারণে অপারগ হয়ে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে।

গত বছর করোনা যখন তার মারণ থাবা হানে, ঠিক তার কিছু সময় আগেই এসএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়। আটকে পড়ে এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর এখনও তা খোলা হয়নি। স্কুল কলেজের বেঞ্চগুলো হয়ত এখন শিক্ষার্থীদের ছোঁয়া পাবার আশায় ত্রাহি চিৎকার করছে। এরপর বারবার শিক্ষামন্ত্রী স্কুল-কলেজ খোলার কথা বললেও আর খোলা হয়নি কিছু। মহামারী পরিস্থিতি উন্নতি না হবার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষেও আর কিছু করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে গতকাল একটু উত্তেজনার মাঝ দিয়ে যেতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং দিয়ে জানাবেন এই বছরের শিক্ষার্থীদের ভাগ্যে কী আছে। ব্রিফিং শেষ হবার পর বেশ কিছু বিষয় আমাদের সামনে উঠে এসেছে, যেগুলো এখনও ধোঁয়াশাপূর্ণ। অর্থাৎ, বেশকিছু কিন্তু, যদি, তবুও, হয়ত- এমন অনিশ্চয়তামূলক শব্দের পেছনে লুকিয়ে আছে পরীক্ষা।

ব্রিফিঙে এসএসসি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ এবং এইচএসসি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা এবার অন্তত একটু তোড়জোড় করে পড়াশোনা শুরু করতে পারেন।

এবার আসা যাক ধোঁয়াশাপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে। মূলত কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?

১) পরিস্থিতি অনুকূল হলে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শুধু নৈর্ব্যক্তিক বিষয়ে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।

২) যদি পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী জেএসসি-জেডিসি-এসএসসির ভিত্তিতে এবং অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে এসএসসি-এইচএসসির মূল্যায়ন করা হবে। 

৩) সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রুপ ভিত্তিক তিনটি বিষয়ের ওপর শুধু নৈর্বাচনিক পরীক্ষার মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী ক্লাসে যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর পরীক্ষা না নিয়ে আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

৪) চলতি মাস থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১২ সপ্তাহে ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস কাভার করেই নেওয়া হবে এসএসসি ও এইচএসসি। অ্যাসাইনমেন্টগুলো নেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে। 

৫) আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হবে সাবজেক্ট ম্যাকিংয়ের মাধ্যমে। আর যদি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয়, তবে অ্যাসাইনমেন্ট ও সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন হতে পারে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

৬) ঈদের পর অনলাইনে এইচএসসির ফর্ম পূরণ করা হবে।

এবার প্রশ্ন কিছু থেকেই যাচ্ছে। একে একে প্রশ্নগুলো তবে করা যাক-

১) পরিস্থিতি যে অনুকূলে থাকবেই, সেটা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ধরে নিচ্ছেন? আর যদি পরিস্থিতি যদি অনুকূলে না থাকে, বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে কোনো চিন্তা নীতিনির্ধারকদের মাথায় আছে কি?

২) এসাইনমেন্টভিত্তিক পরীক্ষা কতটুকু কার্যকর হবে, সেটিও দেখার বিষয়। কারণ আমরা আগেই দেখতে পেয়েছি যে শহরাঞ্চলের বাইরে মফস্বল এলাকাগুলোতে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা তেমন নেই। শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্লাস করতে গেলেই নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষার মতো এত বড় একটি সিদ্ধান্ত কেবল এসাইনমেন্ট নির্ভর হলে বিষয়টি কেমন দেখায়?

৩) আবশ্যিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হবে সাবজেক্ট ম্যাকিং-এর মাধ্যমে। এটি আসলে কীভাবে হবে, ক্রাইটেরিয়া কী, সেসম্পর্কে তেমন কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সুকুমার রায়ের মতো বলতে হয়- মাথার ভেতর প্রশ্ন ঘোরে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, অনেক অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে যে!