ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`বিশ্ব নেত্রী হিসেবে প্রতিটি দেশ এখন শেখ হাসিনাকে স্বীকার করে`

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২১ শুক্রবার, ১২:০০ পিএম
`বিশ্ব নেত্রী হিসেবে প্রতিটি দেশ এখন শেখ হাসিনাকে স্বীকার করে`

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার আসল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে প্রন্তিক বঙ্গবন্ধু আদর্শের সৈনিকেরা। এদেশের ইতিহাসে বার বার প্রমানিত হয়েছে যে, আমরা যারা শিক্ষিত, যারা বিভিন্ন উচ্চ পদে থাকি তারা যতটা না শেখ হাসিনাকে সম্মান করি ততটা ভালোবাসি কিনা এ বিষয়ে আমার নিজেরই মনে অনেক সময় সন্দেহ জাগে। কেননা একজনকে শ্রদ্ধা করা আর শ্রদ্ধার সাথে ভালোবাসা যদি মিশ্রিত না হয় তাহলে সেই নেতার জন্য কখনোই কোনো মানুষ তার জীবনের ঝুঁকি নিতে পারে না। বাংলার গ্রামে গ্রামে অজো পাড়া গাঁয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক যারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এখন শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে নয় তাদের হৃদয়ের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আজ ১৬ জুলাই যখন বেআইনিভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিতে অসাংবিধানিক পথে যারা ক্ষমতা দখল করেছিলেন তাদেরকে বার বার কঠিন ভাষায় পলাষন করেন। তখনই তারা নেত্রীর মুখ বন্ধ করা জন্যে তাকে খুব অন্যায়ভাবে এবং অসম্মানজনকভাবে তারা জেলে ঢুকিয়ে দেন। আমি চিকিৎসক হিসেবেও যখন গিয়েছি তখন দেখেছি তাকে যেখানে সাব জেল হিসেবে রাখা হয়েছিল যেটা হুইপদের বাসা সেখানকার ওয়ালে শ্যাওলা পড়া এবং সেটা বলা পড়েও তারা কোনো বন্দোবস্ত করেনি।

এই কারণের জন্যে যতবারই ১৬ জুলাই আসবে বাংলার জনগণের কাছে এটি একটি কালো দিবস হিসেবেও বলা চলে আবার অন্য দিকে বলা চলে যে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ সেদিন থেকেই শুরু হয়। কেননা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে জেলে নেওয়ার পরেও যখন প্রহসনমূলক বিচার শুরু করে তখন তিনি তার বিচারের সময় খুবই স্পষ্ট করে যে বক্তব্য দিতেন তাতে দেশে জনগণ আরও উদ্বৃত্ত হতো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। বঙ্গবন্ধুর পরে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এই রকম উদাহরণ আর বাংলাদেশে নেই। যখন আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা হয় তখন সেই মামলার সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তার আইনজ্ঞ যে বক্তব্য দিতেন সেটি বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ধরে আমরা সেই ৬০ দশকে রাস্তায় নেমেছি এবং রাস্তায় নেমে মূলত যুবক সমাজই ছাত্ররা আন্দোলন করে এবং পরবর্তীতে প্রন্তিক জনগোষ্ঠীরা এবং যারা সাধারণভাবে এমনকি রাজনৈতিক কোনো পরিচয় বহন করে না তাদের আন্দোলনের পরে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠে না ঝুলিয়ে বরং সম্মানের সাথে এক জেনারেলকে দিয়ে আগড়তলা মামলা তুলে নিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৬ জুলাই যখন জেলে নিয়ে যায় তখন অনেক বড় বড় নেতারাই শেখ হাসিনাকে তখন অন্য কথায় বলতে হয় নেত্রীকে ছেড়ে যার যার নিজের হিসাব নিকাশে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল।

অবশ্য সকলে নয়। তার মধ্যে যেমন মতিয়া আপা, সাহারা আপা, সৈয়দ আশরাফ, হাছান মাহমুদ, ডা. দীপু মনি, এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, খুব নবীন ব্যারিস্টার ব্যারিস্টার তাপস থেকে শুরু করে অনেকেই ওই সময় বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। অবশ্য বলাই বাহুল্য যে, আওয়ামী লীগকে এক করে রাখার জন্যে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেবের অবদান চিরকালই মানুষ মনে রাখবে। তিনি সেই বয়সেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে এক করে রাখেন নি এমনকি অনেক দিন পরে কালো কোট পড়ে নেত্রীকে আমার বিশ্বাস মূলত চোখে দেখার জন্য কোর্টে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সে এক অদ্ভুত সময় গিয়েছে। যখন বোঝা গিয়েছিল অনেক নেতারা তারা ভেবেছিল যে, নেত্রী আর কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। জেলের বাইরে হয়তো কোনো একটা সময় আসতে পারেন কিন্তু তিনি ক্ষমতাহীনই থাকবেন। কিন্তু নেত্রী দেখিয়ে দিলেন তার মনোবল, তার প্রজ্ঞা দ্বারা যে, যদি দেশ পরিচালনায় তার যে মূল বক্তব্য দিয়ে তিনি ১৯৮১ সালের মে মাসে দেশে এসেছিলেন এবং দেশের মাটি স্পর্শ করে বলেছিলেন যে, আমি সব হারিয়ে দেশে এসেছি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্যে, গণতন্ত্র কায়েম করা জন্যে, সোনার বাংলা গড়ার জন্যে। তিনি এও বলেছিলেন যে, তার পিতা বাংলাদেশ স্বাধীন করে আমাদের একটি ঠিকানা দিয়েছেন। এই ঠিকানাকে স্বার্ণক্ষরে লেখার জন্যে অর্থাৎ সোনার বাংলা গড়ার জন্যে তার সংগ্রাম এবং ১৬ জুলাই তাকে কারার অন্তরালে নিয়েও তার মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি চিকিৎসক হিসেবে বেশ কয়েকবার তাকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের অনেক সময় মুখ কালো দেখলে বরং আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা তাকে কি বোঝাবো।

কিছুদিন পরে যখন তখনকার সেনাবাহিনীরা বুঝতে পারলো যে, এ ফলে তো জননেত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেত্রী হয়ে যাচ্ছেন দেশের এবং আর কোনো নেতা থাকবে না। এই কারণের জন্য তারাতারি করে তারা কয়েক মাস পরে বেগম খালেদা জিয়াকেও তারা কারার অন্তরালে নেন। এর মূল কারণ ছিল কিন্তু তাকে মাইনাস টু না। যেটা মাইনাস টু বলা হয় সেটা কখনোই সঠিক না। সেই ইতিহাস আরও পর্যালোচনা হবে। ভবিষ্যতের ইতিহাসে আরও লেখা থাকবে। তখন শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা যাতে একচ্ছত্র নেত্রী না হোন ব্যলান্স করার জন্যই সেদিন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষ যারা খেটে খাওয়া মানুষ তারা ঠিকই বুঝেছিল। যার ফলে যখন ২০০৮ সালে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় তখন দেখা গেল নেত্রী যাকেই যেখানে নমিনেশন দিয়েছেন কাকে দিয়েছেন সেটা জনগণ দেখে নি তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী কিনা সেটা বিচার করেই তারা তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছেন। এক মহা বিজয় এবং এই বিজয়ের মাধ্যমে নেত্রী বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন করে দিলেন কেননা আবার পাকিস্তানমুখি হচ্ছিল। তিনি শুধু পাকিস্তানমুখি থেকে ফিরিয়েই আনলেন না তিনি সোনার বাংলা গড়ার দিকেও এগিয়ে গেলেন। 

এমন কোনো সেক্টর নেই, এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার জনগণের জন্য যে তার দরদ সেই দরদের ছাপ রেখে চলেছেন না। কারণ এই কিছু দিন আগেই তিনি ভাবলেন এই অতিমারীর সময় সাধারণ গরীবরা তো অর্থনৈতিক অনেক কষ্ট পাচ্ছে। সাথে সাথে তিনি তাদের দেওয়ার জন্যে ৫টি ভাগে জনগণ যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য ক্যাশ টাকা দিলেন। এর মধ্যেও আবার ৩৩৩ এ ফোন করে যাদের সত্যি খাবার কষ্ট তাদের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সেখানে যারা মধ্যবিত্ত তারা অনেক সময় লজ্জায় বলতে পারে না তাদের পক্ষ থেকে যদি কেউ ফোন করে তার বাড়িতেও খাবার পৌঁছে যাচ্ছে। কত লোক হাসাহাসি করেছে যে কোথায় ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। কিন্তু নেত্রী দেখিয়ে দিলেন যে, আবার ‌ভ্যাকসিন রোলআউট শুরু হয়েছে এবং এই রোলআউট আল্লাহর রহমতে চলতেই থাকবে এবং এই অতিমারী থেকে অবশ্যই আমরা বেরিয়ে যাবো। বরং এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে আমরা যারা নিজেদেরকে শিক্ষিত দাবি করি তাদের নেত্রীকে সম্মানও করতে হবে তাকে ভালোও বাসতে হবে। এই জন্য আল্লাহ এর কাছে দোয়া করতে হবে যেনো আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করেন এবং কমপক্ষে আরও ১২ বছর যেনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে রাখেন। তারপরে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেই থাকবেন নাকি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনযাপন করবেন। সুতরাং আজকে এই ১৬ তারিখটাকে আমরা দুইভাবেই বিচার করতে পারি। একটি হচ্ছে নেত্রীর উত্থান দিবস হিসেবে কারণ যারা তাকে জেলে নিয়েছিল তারা চেয়েছিল প্রয়োজনে তাকে জীবনে শেষ করে দেবে। সেখান থেকে তিনি উত্থান হয়ে এখন কোথায় যে চলে গেছেন বিশ্ব নেত্রী হিসেবে, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সেটি এখন প্রতিটি দেশ স্বীকার করে। শুধুমাত্র আমাদের দেশে কিছু লোকের দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি থাকার জন্য হয়তোবা তারা ঠিকমতো দেখতে পান না। তাদের অবশ্য অনেক হাই পাওয়ারের চশমা দিলে তারাও বোধহয় দেখতে পাবে যে নেত্রীর উন্নতির অপর নাম দেশকে সোনার বাংলা গড়া, উন্নতির অপর নাম হচ্ছে শেখ হাসিনা।