ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`সুযোগসন্ধানী যারা তারা বারবার বেঈমানী করে`

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২১ শনিবার, ০৫:০০ পিএম
`সুযোগসন্ধানী যারা তারা বারবার বেঈমানী করে`

সব সময় সব কথা বলা যায় না। যখন যেটা প্রয়োজন তখন সেটা বলতে হবে। এরকম কথা তো সব সময় বলে মূল বিষয়টাকে বিতর্কিত করা বা অন্যদের কাছে অন্যভাবে যাবে উপস্থাপন না হয় সেটার দিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। পূনর্বাসনের বিষয়টা নিয়ে আমরা যদি এভাবে বিষয়টাকে বলি যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মনটা অনেক উদার এবং বিশাল হৃদয়ের মানুষ। তিনি জাতির পিতার কন্যা। বঙ্গবন্ধু যেমন বিশাল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন, অসমসাহসী মানুষ ছিলেন তার কন্যা শেখ হাসিনা সব সময়ই আওয়ামী লীগের ঐক্যের জন্য ঐক্যের প্রতিক হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে এসে কাজ শুরু করেন। তিনি ক্ষমা করে দিয়ে সবাইকে নিয়ে দলকে গোছানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছেন। যাতে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে সেখানে আওয়ামী লীগের শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টিকে তিনি সব সময় গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই বিবেচনায় তিনি সকলকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতা। এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশালতা।

যারা একবার বিশ্বাস ভঙ্গ করে তারা বার বার বিশ্বাস ভঙ্গ করে। ইতিহাস এরকমই বলে। এই বিষয়টাকে যদি আমি বলি যারা বেঈমানী করে, সুযোগসন্ধানী যারা তারা বারবার বেঈমানী করে। সুযোগ পেলেই করে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যারা তারা যেকোনো স্বার্থে দেশের স্বার্থের চেয়ে, মানুষের স্বার্থের চেয়ে, গণতন্ত্রের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে যারা বেশি করে দেখে তারাই তো সব সময় অপরাজনীতির সাথে, অপকর্মের সাথে, সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এদেরকে মাফ করে দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি কিন্তু বলেছেন, মাফ করে দিয়েছি, তার মানে এই নয় যে আমরা ভুলে গিয়েছি ব্যাপারটা এইরকম। আমাদের মনে রাখতে হবে, সেই বিষয়টিকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই। সে কারণেই গতকাল ১৬ জুলাই যে দিন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেই আলোচনায় আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। এই বর্ণচোড়াদের, ষড়যন্ত্রকারীদের স্বরূপ উদঘাটন হওয়া খুবই জরুরী। কারণ এদের সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের জানা দরকার। এটা যদি অজানা থেকে যায় তাহলে হয়তো বা আগামী দিনে জাতি, দেশ আবারো হোচট না খায়। সে জন্য এই বিষয়গুলোকে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

এটা প্রতিরোধের বিষয় না। এটা ব্যর্থতার বিষয়ও না। তবে আমি একটি জিনিষ বলতে পারি আমরা এদের ব্যাপারে সচেতন আছি। আমাদের দলের প্রন্তিক নেতাকর্মীরা সব সময়ই সজাগ আছে। যারা আওয়ামী লীগের ঐক্য নষ্ট করতে চেয়েছে অথবা আওয়ামী লীগকে ভাগাভাগি করার চেষ্টা করে সেই ওয়ান ইলেভেনের অপশক্তিকে সমর্থন দিয়েছে, নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে তারা কিন্তু ব্যর্থ। আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মী এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক, শ্রমিক, যুবক সর্বস্তরের গণমানুষ ওয়ান-ইলেভেন সকল উদ্যোগকে, সকল অপচেষ্টাকে রুখে দিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয় নাই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যার্থ হয় নাই। অতিতেও যেমন হয় নাই, বর্তমানেও হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ ব্যার্থতার ইতিহাস আওয়ামী লীগের এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নেই। কোনো কোনো বেঈমানী সাম্প্রদায়িক শক্তি বেঈমানী করেছে, দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আবার ঐক্য বিনষ্টের জন্য কাজ করেছে। তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে পর্যবসিত হয়েছে। তারা সামাজিক জীবনে, রাজনৈতিক জীবনের সর্বস্তরেই ঘৃণিত হয়ে আছে। তাদের কেউ খনির খেতাব পেয়েছে, কেউ ষড়যন্ত্রকারীর খেতাব পেয়েছে, কেউ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদেরকে সাম্প্রদায়িক শক্তিতে পরিণত করেছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আওয়ামী লীগ মানে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, আওয়ামী লীগ মানে গণতান্ত্রিক রাজনীতি। এখনো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দিকে এখনাে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সুতরাং আমাদের সফলতার দিক নিয়েই আমি কথা বলবো। যেগুলো অতিতে হয়েছে আমরা সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।