ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্ন-শেখ হাসিনা

ইমতিয়াজ উদ্দীন
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৯:০২ পিএম
দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্ন-শেখ হাসিনা

এক সময় যে বাংলাদেশ ছিল দরিদ্র ও অনুন্নত সেই বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দৃপ্ত পায়ে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম সফল ও আলোচিত নেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সাফল্যের সাথে তা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তার অধ্যবসায়ী মনোভাব এবং পরিশ্রমী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আজ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন দেখে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রসমূহের কর্ণধাররাও বিস্মিত। দেশ আজ আধুনিক অবকাঠামোগত প্রক্রিয়া সমৃদ্ধ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় স্থান করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের উন্নয়নের এক ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত যা বিশ্বনেতাদের নিকটও আলোচিত মডেল। বিশ্বনেতারা তাকে জিজ্ঞেস করেন- তিনি কোন যাদুবলে বাংলাদেশকে উন্নয়নের সব ধারায় এগিয়ে নিয়ে মধ্যম আয়ের উন্নয়নের দেশে আজ পৌঁছে দিয়েছেন। তার জবাব বঙ্গবন্ধুর মতোই- দেশের মানুষকে ভালোবাসি। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। তাই পরিশ্রম করি।

আমরা সবাই জানি, দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেসব গুণাবলীর অধিকারী, তা ঐতিহ্যগতভাবে অনেকটাই পেয়েছেন পরিবার থেকে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর পিতা-মাতা, বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যেও মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক গুণাবলী, নিঃস্বার্থ দানশীলতার চরিত্র, মমত্ববোধ দারুণভাবে বিদ্যমান। আমরা সবাই জানি, দেশি-বিদেশি ঘাতক চক্র চক্রান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন তৎপর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে; স্তব্ধ করে দেয় বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা। মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করে। বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেয় ইতিহাস থেকে। বিকৃত করে ইতিহাস। বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেয়া হয় পাকিস্তানি ধারায়; চিন্তা-চেতনায়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রিপরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়।

বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২১ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে জাতিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছেন। জাতিকে আবার সাহসী করে তুলেছেন। তাই আজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। আজ বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর। মাছ, সবজি থেকে শুরু করে অনেক পণ্য উৎপাদনেই বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ গড়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সুদৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে। তিনি প্রায়ই বলেন- বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই হয়তো আমরা দুটি বোন বেঁচে আছি। আমরা জানি, জাতির পিতাকে সপরিবারে হারিয়ে কী নিদারুণ মনঃকষ্টের মধ্যেও একের পর এক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য তার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে যাচ্ছেন। করোনা যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দিচ্ছে, তখনও বাংলাদেশের রেমিটেন্স বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। স্বপ্নদর্শী শেখ হাসিনা শুধু স্বপ্ন দেখেই প্রশান্তি পান না, তার বাস্তবায়নের মধ্যে তৃপ্তি পান। কি কি উদ্যোগ নিলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে বিশ্বের শ্রমবাজারের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে খুবই অনড়। জননেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন অপরাধী অপরাধীই, কোনো দলের পরিচয়ে ছাড় পাবে না। তিনি পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি ঢাকাকে দুষণমুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে সাভারে ‘ট্যানারি টাউন’ করেছেন। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিকেও ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠার জন্যে ব্যাপক কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করতে প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। তিনি এ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করছেন। মাদকবিরোধী কার্যক্রম বেগবান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি উৎপাদনের লক্ষ্যে নদী খাল বিল পুন:খনন করছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ করছেন শেখ হাসিনা। দলীয় লোকদেরও ছাড় দিতে নারাজ তিনি।

জননেত্রী শেখ হাসিনা গণমানুষের নেত্রী হিসেবে দেশের স্বার্থে বরাবরই আপোষহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। তিনি বিদেশী দাতা সংস্থার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন পদ্মা সেতু নিয়ে বিদেশিরা যতো ষড়যন্ত্রই করুন না কেনো, বাংলাদেশ নিজের টাকাতেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। তাঁর দৃঢ় মনোবলেই নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার জন্যেই সম্ভবপর হয়েছে। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মোকাবেলা করেই নির্মাণ করছেন পদ্মা সেতু। বিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে যে, বাংলাদেশের মতো দেশ বিশাল পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী ও উন্নত দেশ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রাজিল, চীন ভারতসহ প্রায় ২১৩টি রাষ্ট্রের মানুষ আজ করোনা আক্রান্ত। এর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা পর্যন্ত এই সঙ্কট মোকাবেলায় দিশেহারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বিচক্ষণতার সাথে দৃঢ় মনোভাবাপন্ন হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি বাংলাদেশকে অগ্রগতির সঠিক পথে পরিচালিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দিয়েছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন)। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্যের জন্য এই বিশ্ব স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।  মূলত এসডিজির উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ যেমন দারিদ্র্যতা কমাতে পেরেছে, তেমনি খাদ্যনিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দেশ এগিয়ে গেছে। এমনকি অন্যান্য সূচকেও এগিয়ে আছে। আর এ জন্যই পুরস্কার হস্তান্তরের সময় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এসডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে এই পুরস্কার একটি প্রমাণপত্র।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পূর্ণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রিস্যাক্স ‘জুয়েল ইনদি ক্রাউন অব দি ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন। অর্থনীতিবিদ জেফ্রিস্যাক্স বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি চলাকালে ও এসডিজি অর্জনে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্য তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই সম্মেলনে অংশ নেয়ায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার সঙ্গে একসঙ্গে হতে পেরে আমরা উদ্বেলিত। শুরুতেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি আসলে উদযাপনের সময়। যদিও বিশ্বজুড়ে মহামারির ভয়াবহতা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় আমরা শুভেচ্ছা জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে নিজের ব্যাকুলতাও প্রকাশ করেন জেফ্রি স্যাকস।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কথা শুনতে চাই। তার কারণও আছে। আমরা যখন পৃথিবীর দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করি, তখন দেখতে পাই, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রগতিতে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল যা বিশ্বনেতাদের নিকটও আলোচিত।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই  উন্নয়নের জন্য বিশ্বনেতাদের নিকট ‘দেশরত্ন’ থেকে ‘বিশ্বরত্ন’ হিসেবে পরিচিত যার সর্বশেষ প্রমাণ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ আখ্যায়ন।

লেখক: সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি।