ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পুনশ্চ মুজিবকথা

নির্মলেন্দু গুণ
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০১৮ শনিবার, ১২:০০ এএম
পুনশ্চ মুজিবকথা


সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণের সময় আকাশের চাঁদ

যেরকম গ্রহণগ্রস্ত মানুষের দৃষ্টিকে দখল করে, তিনিও ঠিক

তেমনি, এই বঙ্গীয় বদ্বীপবাসীর দৃষ্টিকে দখল করেছিলেন;

আর নিজেকে পরিণত করেছিলেন জন্মভূমির নয়মমণিতে।


সূর্যমুখী যেমন সর্বদা সূর্যের দিকে স্থির করে রাখে তার মুখ,

অথবা প্রথম প্রেমে-পড়া তরুণ প্রেমিক যেরকম তার প্রেমিকা-বিগ্রহে

যেরকম অপলক চোখে মগ্ন রহে,- তিনিও ঐ রকমই

তাঁর জন্মভূমির রুগ্‌ণ-পণ্ডুর মুখের ভিতরে তাকিয়ে ছিলেন।


তিনি বাংলার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন জীবনানন্দবৎ,

তিনি বাংলার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথবৎ,

তিনি এই ভূখণ্ডবাসীর মুখে তাকিয়ে ছিলেন নজরুলবৎ,

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ মুখশ্রী,

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল- ‘আমার সোনার বাংলা’,

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল মুক্তি-স্বপ্ন, প্রিয় স্বাধীনতা।


তিনি তাঁর দেশকে ভালবেসেছিলেন হো চি মিনের মতো,

তিনি তাঁর জন্মভূমিকে ভালবেসেছিলেন লেনিনের মতো,

তাই বন্দি ভূখণ্ডবাসীর অশ্রুতে দ্রব হয়েছিল তাঁর হৃদয়।

তাই তাঁর অন্তর্ভেদী দৃষ্টি-বিস্ফোরণে দ্রুত খসে পড়েছিল

ধর্মের ঘোমটার আড়ালে আচ্ছাদিত ছদ্মস্বাধীনতার মুখোশ।

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল মাতৃভূমির কলোনিকালিমা।

 

তাঁর দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত, তিনি ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন,

তাঁর জাগতিক অস্তিত্বই ছিল স্বাধীনতার অনন্ত ঘোষণা।

[আতিউর রহমান সম্পাদিক ‘শেখ মুজিব বাংলাদেশের আরেক নাম’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া]