ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যা কিছু থাকছে এবারের বইমেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৩:০০ পিএম
যা কিছু থাকছে এবারের বইমেলায়

এবার বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য `বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী`। জাতির পিতার জীবন ও কর্ম অধ্যয়ন এবং স্বাধীনতার মর্মবাণী জাতীয় জীবনে যাতে প্রতিফলিত হয় তার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে এবারের মেলায়। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরই মেলা উন্মুক্ত হবে সবার জন্য। গতবছর বইমেলা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। এবছরের শুরু থেকে সংক্রমণ কমে আসলেও টানা কয়েকদিন ধরে এই সংক্রমণ বাড়ছে। তবে বইমেলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে করোনা সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

স্টল বিন্যাস:
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি স্টল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এবারের বইমেলায় মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় মোট ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তর করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলাপ্রাঙ্গণে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৫টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমির তিনটি প্যাভিলিয়ন, শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকারের জন্য একটি স্টল থাকবে। এবারও শিশুচত্বর মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথমদিকে `শিশুপ্রহর` থাকবে না।

প্রচার সুবিধা:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে বইমেলা-২০২১-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য একাডেমিতে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে একটি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটি তথ্যকেন্দ্র থাকবে। সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে বইমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তর পাশে। মেলায় ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে। 

নিরাপত্তা:
প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রমনাপ্রান্তে একটি প্রবেশপথ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা। এবার এটা করা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে তিনটি প্রবেশপথ ও তিনটি বাহিরপথ থাকবে। প্রত্যেক প্রবেশপথে সুরক্ষিত ছাউনি থাকবে, যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নতুন সংযোজন:
দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে রমনাপ্রান্তে একটি প্রবেশপথ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে। বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চারটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এবার বৃষ্টির পানি মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবে। তাছাড়া লেখক মঞ্চ ও গ্রন্থ উন্মোচনের স্থান বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নামাজঘর, টয়লেটের ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। এমনকি নারীদের জন্য সম্প্রসারিত নামাজঘর থাকবে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকবে। প্রতিবছরের মতো এবারও হুইল চেয়ার সেবা থাকবে। তবে গতবারের চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এবার হুইল চেয়ারের সংখ্যা বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিমপ্রান্তে দুটি ফুডকোর্ট থাকবে।

মেলার সময়সূচি:
অমর একুশে বইমেলা ১৯ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা চলবে।