ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘মন্ত্রীদের নষ্ট করে এপিএসরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
‘মন্ত্রীদের নষ্ট করে এপিএসরা’

রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ‘সহকারী একান্ত সচিব’দের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাঁদের বদলে সরকারের প্রশাসন বা অন্য কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের সহকারী একান্ত সচিব করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এখবর নিশ্চিত করেছে।

গত ডিসেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বন্ধের জন্য একাধিক সুপারিশ পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সুপারিশগুলো কিছু মন্তব্যসহ পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়ে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশে, মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) বাতিলের সুপারিশ করেছে। দুদক বলেছে, ’মন্ত্রীদের বিভিন্ন অপবাদের প্রধান কারণ এইসব এপিএস। এপিএসদের ক্ষমতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।’ দুদক বলেছে, ‘বর্তমান মন্ত্রীদের শতকরা ৭০ ভাগ এপিএসই নানা দুর্নীতি এবং অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এরা মন্ত্রীদের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অনিয়ম করে।’

উল্লেখ্য, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব এবং একজন সহকারী একান্ত সচিব পান। একান্ত সচিব একজন সরকারি কর্মকর্তা হলে সহকারী একান্ত সচিব হন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পছন্দের একজন বেসরকারি ব্যক্তি। সাধারণ রাজনৈতিক ভাবে ঘনিষ্ঠ কাউকেই মন্ত্রীরা এই পদে নিয়োগ দেন। মূলত: সহকারী একান্ত সচিব নিয়োগের উদ্দেশ্য মন্ত্রীদের রাজনৈতিক বিষয়াদিতে সহায়তা করা, মন্ত্রীদের এলাকার সমস্যার সমাধানে কাজকর্ম করা। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন বলেছে ‘এপিএস পদটি হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ভাইরাস। এরাই দুর্নীতির নাটের গুরু।’ দুদক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এপিএসদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই ঘুষ এবং অবৈধ সম্পদ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শুধুমাত্র দুর্নীতির কারণে নয়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের এপিএস পদে নিয়োগের প্রস্তাব সমর্থন করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে এপিএস পদে সরকারি ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ হলে, ক্রমবর্ধিষ্ণু সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়নের বর্তমান সমস্যার কিছুটা লাঘব হবে। তাছাড়া এতে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদেরও উপকার হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মনে করছে। এলাকার উন্নয়ন কাজ সহকারী একান্ত সচিবরা তদারকি করেন। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মনে করছে, রাজনৈতিক ভাবে নিয়োগ প্রাপ্তরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজটা করার চেয়ে বরং জটিলতা সৃষ্টি করে।

অধিকাংশ এপিএসই মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের শিষ্টাচার জানেন না, ফলে প্রায়ই শৃঙ্খলা ভাঙার ঘটনা ঘটে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, মন্ত্রীদের কথা বলে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর এপিএসরা নানারকম চাপ সৃষ্টি করেন। এতে সরকারি কর্মকর্তারা বিব্রত হন, মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন এরকম অন্তত ১০টি উদাহরণ দিয়েছে, যেখানে এপিএসদের তদবিরের জন্য অনিয়ম হয়েছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মন্ত্রীদের নষ্ট করে এপিএসরা।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টিআইবির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, ‘এটা করা হলে তা হবে শুভ লক্ষণ।’ এর ফলে দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে বলে ওই কর্মকর্তা মনে করেন।



Read in English- http://bit.ly/2E8eJ5T

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ